কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের প্রাণহানির মামলাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলার এজাহার লিখন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে ওসি আতিকুর রহমানের ভূমিকার বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জামিন অযোগ্য ধারা বাদ দিয়ে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত।
সোমবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এক আদেশে ওসি আতিকুর রহমানকে আগামী ২৯ অক্টোবর আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২১৮ ধারা অনুযায়ী ওসির বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা ও বিভাগীয় শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে হবে। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাজাহান এলাহী নূরী জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত নোটিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বিকাল পর্যন্ত ওই আবেদনের শুনানি হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার এজাহারে ইচ্ছাকৃতভাবে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ। ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের শাস্তির বিধান সম্বলিত ৩০৪ ধারা এড়িয়ে শুধু জামিনযোগ্য ৩০৪-ক ধারায় (সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা) মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের সুরক্ষা দেওয়ার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়েও আদালত প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ১৭ অক্টোবর রিসোর্টটিতে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথমে দণ্ডবিধির ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা যুক্ত করার আবেদন করেন। গত ১৭ অক্টোবর সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, ওসি আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, ঘটনার দিন চরম ব্যস্ততার কারণে এজাহারে ৩০৪ ধারাটি বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা পরদিন যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত তিনি আদালতের নোটিশ পাননি, তবে নোটিশ পাওয়ার পর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনিও মর্মাহত বলে মন্তব্য করেন। নোটিশ পেলে যথাসময়ে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়াসহ প্রধান তিন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের হাতে এখন পর্যন্ত শুধু রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক এজাহারে নাম না থাকা রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও ওসি জানিয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























