ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

চাঁদায় জমি কিনে খেলার মাঠ তৈরি করলেন বাবুপুর গ্রামবাসী

দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলে একটি খেলার মাঠের জমি কিনেছেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনসংখ্যার এই গ্রামে ৭ শতাধিক পরিবারের বসবাস থাকলেও এতদিন কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ ছিল না। ফসলের মাঠে কিংবা ফাঁকা জায়গায় খেলাধুলা করতে হতো কিশোর ও যুবকদের, যা নিয়মিত সম্ভব ছিল না। এ অবস্থার অবসানে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিতভাবে ৬০ শতাংশ জমি ক্রয়ের এই অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেই দুর্ভোগ ঘোচাতে গ্রামের ধনী-গরিব সবাই মিলে চাঁদা তুলে খেলার মাঠের জন্য কিনেছেন ৬০ শতাংশ জমি। এখানে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি জনসংখ্যা। ধান কাটা হলে ফাঁকা জমিতে খেলত শিশুরা, ফসলের আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত খেলা। এই গ্রামে গতকাল ছেলে–বুড়ো সবাই সারা দিন আনন্দে মেতেছিলেন। প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা একটা মাঠের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। একদিন এই মাঠকে কেন্দ্র করেই গ্রামের ক্রীড়াচর্চা হবে।’। আজ আমাদের স্বপ্নের মাঠ বাস্তবায়ন হলো।

প্রকল্পটির অন্যতম উদ্যোক্তা এসএম ইকবাল মাহমুদ জানান, কয়েক মাস আগে স্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের সাথে আলোচনার পর তারা মাঠের উদ্যোগটি নেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীর সাথে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় জমি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। খোরশেদ আলম, ইকবাল মাহমুদসহ আজাহার শিকদার, সেলিম আল মামুন, মিজানুর রহমান, মজনু শিকদার, শফিকুল ইসলাম ও শুভ প্রামাণিকসহ স্থানীয় বিত্তবানরা এতে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা দেন। এছাড়া গ্রামের প্রতিটি পরিবার ২০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিয়ে এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় সভা করি। এ প্রস্তাবে উৎসাহ দেখান খোরশেদ আলম। গ্রামবাসী কেউ ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, কেউ কেউ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার, ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেন।’। গ্রামের সবার কাছেই জমি কেনার জন্য অর্থসহায়তা চাওয়া হয়।

জমিটি ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে কেনা হয়েছে, যার প্রতি শতাংশের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমির মালিক সুজন ১ শতাংশ জমি দান করেছেন। বৃহস্পতিবার বাদ্যযন্ত্রের তালে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে গ্রামবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বুঝে নেন এবং সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামের তরুণরা অর্থদাতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ফুলের মালায় বরণ করে নেন। স্থানীয় কিশোর হাবিবুল্লাহ সালমান ও রাব্বী জোহা জানায়, এখন নির্দিষ্ট মাঠ হওয়ায় আর ঘরের বেড়া নষ্টের ভয় বা খেলার বাধা থাকবে না, যা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অপর কিশোর রাব্বী জোহা বলে, ‘বাড়ির উঠানে খেলতে গেলে ফুটবলের আঘাতে ঘরের বেড়া ক্ষতি হতো।

মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদার বলেন, এই খেলার মাঠ কিশোর ও যুবকদের মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোনালিসা মুন্নি এটিকে গ্রামের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাঠের উদ্যোক্তারা জানান, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি কেনা হলেও ভবিষ্যতে আরও ৬০ শতাংশ জায়গা কিনে মোট ১২০ শতাংশ জমিতে একটি মানসম্মত খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তিনি মনে করেন, কোনো সরকারি বা বাইরের সাহায্য ছাড়া শুধুমাত্র জনশক্তির ওপর নির্ভর করে একটি গ্রামের মানুষের খেলার মাঠ তৈরির এই গল্প দেশের অন্যান্য এলাকাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। এখন থেকে এই মাঠই বাবুপুর গ্রামের ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদী। পরে আমরা গ্রামের কয়েকজন বিত্তবান মানুষের সঙ্গে কথা বলি।

আপলোডকারীর তথ্য

লাইসেন্স ছাড়া ঢাকা শহরে চলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা

চাঁদায় জমি কিনে খেলার মাঠ তৈরি করলেন বাবুপুর গ্রামবাসী

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলে একটি খেলার মাঠের জমি কিনেছেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনসংখ্যার এই গ্রামে ৭ শতাধিক পরিবারের বসবাস থাকলেও এতদিন কোনো স্থায়ী খেলার মাঠ ছিল না। ফসলের মাঠে কিংবা ফাঁকা জায়গায় খেলাধুলা করতে হতো কিশোর ও যুবকদের, যা নিয়মিত সম্ভব ছিল না। এ অবস্থার অবসানে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ সম্মিলিতভাবে ৬০ শতাংশ জমি ক্রয়ের এই অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেই দুর্ভোগ ঘোচাতে গ্রামের ধনী-গরিব সবাই মিলে চাঁদা তুলে খেলার মাঠের জন্য কিনেছেন ৬০ শতাংশ জমি। এখানে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি জনসংখ্যা। ধান কাটা হলে ফাঁকা জমিতে খেলত শিশুরা, ফসলের আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত খেলা। এই গ্রামে গতকাল ছেলে–বুড়ো সবাই সারা দিন আনন্দে মেতেছিলেন। প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা একটা মাঠের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। একদিন এই মাঠকে কেন্দ্র করেই গ্রামের ক্রীড়াচর্চা হবে।’। আজ আমাদের স্বপ্নের মাঠ বাস্তবায়ন হলো।

প্রকল্পটির অন্যতম উদ্যোক্তা এসএম ইকবাল মাহমুদ জানান, কয়েক মাস আগে স্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের সাথে আলোচনার পর তারা মাঠের উদ্যোগটি নেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীর সাথে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় জমি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। খোরশেদ আলম, ইকবাল মাহমুদসহ আজাহার শিকদার, সেলিম আল মামুন, মিজানুর রহমান, মজনু শিকদার, শফিকুল ইসলাম ও শুভ প্রামাণিকসহ স্থানীয় বিত্তবানরা এতে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা দেন। এছাড়া গ্রামের প্রতিটি পরিবার ২০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিয়ে এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় সভা করি। এ প্রস্তাবে উৎসাহ দেখান খোরশেদ আলম। গ্রামবাসী কেউ ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার টাকা, কেউ কেউ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার, ৫ হাজার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেন।’। গ্রামের সবার কাছেই জমি কেনার জন্য অর্থসহায়তা চাওয়া হয়।

জমিটি ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে কেনা হয়েছে, যার প্রতি শতাংশের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমির মালিক সুজন ১ শতাংশ জমি দান করেছেন। বৃহস্পতিবার বাদ্যযন্ত্রের তালে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে গ্রামবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বুঝে নেন এবং সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামের তরুণরা অর্থদাতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ফুলের মালায় বরণ করে নেন। স্থানীয় কিশোর হাবিবুল্লাহ সালমান ও রাব্বী জোহা জানায়, এখন নির্দিষ্ট মাঠ হওয়ায় আর ঘরের বেড়া নষ্টের ভয় বা খেলার বাধা থাকবে না, যা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অপর কিশোর রাব্বী জোহা বলে, ‘বাড়ির উঠানে খেলতে গেলে ফুটবলের আঘাতে ঘরের বেড়া ক্ষতি হতো।

মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদার বলেন, এই খেলার মাঠ কিশোর ও যুবকদের মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোনালিসা মুন্নি এটিকে গ্রামের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাঠের উদ্যোক্তারা জানান, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি কেনা হলেও ভবিষ্যতে আরও ৬০ শতাংশ জায়গা কিনে মোট ১২০ শতাংশ জমিতে একটি মানসম্মত খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তিনি মনে করেন, কোনো সরকারি বা বাইরের সাহায্য ছাড়া শুধুমাত্র জনশক্তির ওপর নির্ভর করে একটি গ্রামের মানুষের খেলার মাঠ তৈরির এই গল্প দেশের অন্যান্য এলাকাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। এখন থেকে এই মাঠই বাবুপুর গ্রামের ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদী। পরে আমরা গ্রামের কয়েকজন বিত্তবান মানুষের সঙ্গে কথা বলি।