ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

রাজশাহীর পবায় বিশাল তেঁতুলগাছ ঘিরেই বাজারের নাম ও পরিচয়

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারের নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশাল তেঁতুলগাছ। দূর থেকে বাজারটির দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে দোকানপাটের ওপর ডালপালা ছড়িয়ে রাখা এই গাছটি। স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, গাছটির বয়স ১০০ বছরের বেশি। সময়ের পরিক্রমায় একসময়ের জঙ্গল ঘেরা স্থানটি আজ জনবহুল বাজারে পরিণত হয়েছে, কিন্তু গাছটির অস্তিত্ব আজও অটুট। ৯০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিদ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই বিশাল গাছটিকে দেখে আসছেন। বাজারের বয়স চার দশকের বেশি হলেও গাছটি তার পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এখানে টিকে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিদের বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি বলেন, রাজশাহীতে কোথাও তেঁতুলতলা বাজারের কথা বললে মানুষ এই জায়গা চিনতে পারে। দোকানপাটের ফাঁক গলে চারদিকে ছড়িয়ে গেছে বিশাল এক তেঁতুলগাছের ডালপালা। এ ধারণার ভিত্তি পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনা কথা। গাছটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা রকম ধারণাও প্রচলিত আছে।

গাছটির সঙ্গে বাজারের ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক বেশ গভীর। চা দোকানি মো. মজদুল, যিনি প্রায় ১৩-১৪ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন, জানান যে তার দোকানের ভেতর দিয়ে গাছের একটি ডাল চলে গেছে। দোকান তৈরির আগেই সেই ডাল সেখানে ছিল, তাই সেটি কেটে ফেলার কোনো প্রয়োজনবোধ করেননি তিনি। বাজারের লোকজনই নিয়মিত গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখা ও শুকনো ডাল ছেঁটে দেওয়ার কাজগুলো করেন। রাতের বেলা গাছের ডালে বকসহ নানা ধরনের পাখির আনাগোনাও দেখা যায়। কোনো ডাল ঢুকে পড়েছে দোকানের ভেতরে, কোনোটি ছুঁয়েছে ছাদ। চা-দোকানি মো. মজদুলের (৫০) দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে গাছের একটি ডাল। সময়ের সঙ্গে সেখানে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও বসতি।

বাজারের এই তেঁতুলগাছ নিয়ে স্থানীয়দের মনে কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা নেই। বাবু মণ্ডল নামের ৬৫ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, গাছটির তেঁতুল বিক্রি করা হয় না। যে কেউ চাইলে এখান থেকে তেঁতুল পেড়ে নিতে পারেন। রাজশাহীর মানুষজন তেঁতুলতলা বাজার বলতে এই গাছটির জায়গাটিই বোঝেন, যা স্থানীয়দের কাছে এক পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। পর্যটকরাও মাঝে মাঝে গাছটি দেখার জন্য এই বাজারে ভিড় করেন। স্থানীয় বাবু মণ্ডল (৬৫) জানান, যার যত ইচ্ছা এই গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে খেতে পারেন।

তবে গত কয়েক বছরে গাছটির ফলন কমে আসায় কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আশপাশের ইটভাটার ধোঁয়া গাছটির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এলাকায় ২৪টি ইটভাটা রয়েছে, যেগুলোর নির্গত ধোঁয়ার প্রভাবে শুধু এই তেঁতুলগাছ নয়, আম ও কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলের গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পাতা ঝরে পড়ছে। বর্তমানে ফলন কমে গেলেও স্থানীয়দের একটাই চাওয়া—গাছটি যেন দীর্ঘজীবী হয় এবং আগের মতোই এভাবে ছায়া দিয়ে যায়।

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানে সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতিতে ইসরায়েলে ১০টি মার্কিন কার্গো বিমান

রাজশাহীর পবায় বিশাল তেঁতুলগাছ ঘিরেই বাজারের নাম ও পরিচয়

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজারের নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশাল তেঁতুলগাছ। দূর থেকে বাজারটির দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে দোকানপাটের ওপর ডালপালা ছড়িয়ে রাখা এই গাছটি। স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, গাছটির বয়স ১০০ বছরের বেশি। সময়ের পরিক্রমায় একসময়ের জঙ্গল ঘেরা স্থানটি আজ জনবহুল বাজারে পরিণত হয়েছে, কিন্তু গাছটির অস্তিত্ব আজও অটুট। ৯০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিদ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই বিশাল গাছটিকে দেখে আসছেন। বাজারের বয়স চার দশকের বেশি হলেও গাছটি তার পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এখানে টিকে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওয়াজিদের বয়স প্রায় ৯০ বছর। তিনি বলেন, রাজশাহীতে কোথাও তেঁতুলতলা বাজারের কথা বললে মানুষ এই জায়গা চিনতে পারে। দোকানপাটের ফাঁক গলে চারদিকে ছড়িয়ে গেছে বিশাল এক তেঁতুলগাছের ডালপালা। এ ধারণার ভিত্তি পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শোনা কথা। গাছটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা রকম ধারণাও প্রচলিত আছে।

গাছটির সঙ্গে বাজারের ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক বেশ গভীর। চা দোকানি মো. মজদুল, যিনি প্রায় ১৩-১৪ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন, জানান যে তার দোকানের ভেতর দিয়ে গাছের একটি ডাল চলে গেছে। দোকান তৈরির আগেই সেই ডাল সেখানে ছিল, তাই সেটি কেটে ফেলার কোনো প্রয়োজনবোধ করেননি তিনি। বাজারের লোকজনই নিয়মিত গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখা ও শুকনো ডাল ছেঁটে দেওয়ার কাজগুলো করেন। রাতের বেলা গাছের ডালে বকসহ নানা ধরনের পাখির আনাগোনাও দেখা যায়। কোনো ডাল ঢুকে পড়েছে দোকানের ভেতরে, কোনোটি ছুঁয়েছে ছাদ। চা-দোকানি মো. মজদুলের (৫০) দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে গাছের একটি ডাল। সময়ের সঙ্গে সেখানে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও বসতি।

বাজারের এই তেঁতুলগাছ নিয়ে স্থানীয়দের মনে কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা নেই। বাবু মণ্ডল নামের ৬৫ বছর বয়সী এক বাসিন্দা জানান, গাছটির তেঁতুল বিক্রি করা হয় না। যে কেউ চাইলে এখান থেকে তেঁতুল পেড়ে নিতে পারেন। রাজশাহীর মানুষজন তেঁতুলতলা বাজার বলতে এই গাছটির জায়গাটিই বোঝেন, যা স্থানীয়দের কাছে এক পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। পর্যটকরাও মাঝে মাঝে গাছটি দেখার জন্য এই বাজারে ভিড় করেন। স্থানীয় বাবু মণ্ডল (৬৫) জানান, যার যত ইচ্ছা এই গাছ থেকে তেঁতুল পেড়ে খেতে পারেন।

তবে গত কয়েক বছরে গাছটির ফলন কমে আসায় কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আশপাশের ইটভাটার ধোঁয়া গাছটির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এলাকায় ২৪টি ইটভাটা রয়েছে, যেগুলোর নির্গত ধোঁয়ার প্রভাবে শুধু এই তেঁতুলগাছ নয়, আম ও কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলের গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পাতা ঝরে পড়ছে। বর্তমানে ফলন কমে গেলেও স্থানীয়দের একটাই চাওয়া—গাছটি যেন দীর্ঘজীবী হয় এবং আগের মতোই এভাবে ছায়া দিয়ে যায়।