ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদিতে দণ্ডিত সুইটি: দুই মাস পর ফেরার অপেক্ষায় প্রহর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠান বাবা ফজল মিয়া। শুরুতে ভালোই চলছিল, প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছেন সুইটি। কিন্তু এরপরই বিপত্তির শুরু। ফোন করে সুইটি জানায় যে, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি।

সুইটির মা জহুরা বেগম ও বাবা ফজল মিয়ার ভাষ্যমতে, সর্বশেষ ১৫ দিন আগেও মেয়ে তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। তখন সুইটি বেশ আশাবাদী ছিল যে, আর দুই মাস পরেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরবে। তবে আদালতের মাধ্যমে কোনো বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে মেয়ে তাদের কিছুই জানায়নি। বর্তমানে সুইটির পরিবারের সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা সরকারিভাবে এখনো কোনো নিশ্চিত খবর পাননি, ফলে মেয়ে বেঁচে আছে নাকি সত্যিই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে তারা অন্ধকারে রয়েছেন। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না।

সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সুইটির পরিবারের কাছে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মুখে শোনা নানা তথ্য তাদের আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মেয়ের কোনো যোগাযোগ নেই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। কাঁদতে কাঁদতে মা জহুরা বেগম জানান, তিনি যেকোনো মূল্যে তার মেয়েকে ফেরত চান—সে বেঁচে থাকুক বা না থাকুক, অন্তত সত্যটা জানতে চান তিনি। এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সুইটির মা জহুরা বেগম। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির ঘটনা সম্পর্কে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। সুইটি ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। বর্তমানে তার বাবা বিছানায় অসুস্থ এবং মা অত্যন্ত শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ১২ উড়োজাহাজ নিয়ে বিপাকে বেবিচক

সৌদিতে দণ্ডিত সুইটি: দুই মাস পর ফেরার অপেক্ষায় প্রহর

আপডেট সময় ০৬:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠান বাবা ফজল মিয়া। শুরুতে ভালোই চলছিল, প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছেন সুইটি। কিন্তু এরপরই বিপত্তির শুরু। ফোন করে সুইটি জানায় যে, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি।

সুইটির মা জহুরা বেগম ও বাবা ফজল মিয়ার ভাষ্যমতে, সর্বশেষ ১৫ দিন আগেও মেয়ে তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। তখন সুইটি বেশ আশাবাদী ছিল যে, আর দুই মাস পরেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরবে। তবে আদালতের মাধ্যমে কোনো বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে মেয়ে তাদের কিছুই জানায়নি। বর্তমানে সুইটির পরিবারের সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা সরকারিভাবে এখনো কোনো নিশ্চিত খবর পাননি, ফলে মেয়ে বেঁচে আছে নাকি সত্যিই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে তারা অন্ধকারে রয়েছেন। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানি না। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না।

সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সুইটির পরিবারের কাছে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মুখে শোনা নানা তথ্য তাদের আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মেয়ের কোনো যোগাযোগ নেই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। কাঁদতে কাঁদতে মা জহুরা বেগম জানান, তিনি যেকোনো মূল্যে তার মেয়েকে ফেরত চান—সে বেঁচে থাকুক বা না থাকুক, অন্তত সত্যটা জানতে চান তিনি। এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সুইটির মা জহুরা বেগম। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির ঘটনা সম্পর্কে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। সুইটি ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। বর্তমানে তার বাবা বিছানায় অসুস্থ এবং মা অত্যন্ত শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।