ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহজলভ্য অর্থায়নের আহ্বান বাংলাদেশের

আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদের পক্ষসমূহের সপ্তদশ সম্মেলন বা সিবিডি কপ১৭-এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরাগাৎস প্লেনারি হলে দেশের পক্ষে এ দাবি তুলে ধরেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. ফাহমিদা খানম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রায় ১৪ হাজার বৈচিত্র্যময় প্রজাতির আবাস রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এসব প্রাণ-প্রকৃতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমির ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এসব সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ২৩টি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার আওতায় ১০৭টি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫ কোটি নতুন গাছ লাগানো ও পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, ভূমির অবক্ষয় রোধ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান। জীববৈচিত্র্যকে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক তথ্য উৎপাদন, পরিবীক্ষণ কাঠামো বাস্তবায়ন, দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূলধারায় জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়। ইয়েরেভান সম্মেলন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে উত্তরণের একটি কার্যকর মাইলফলক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২৩ সাল থেকে নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তার প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। ড. খানম জানান, জিনগত সম্পদসংক্রান্ত ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্য (ডিএসআই) এবং সিনথেটিক বায়োলজিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতিগুলো দূর করতে উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও পুনর্বিন্যাস করছে।

জীববৈচিত্র্য সনদের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সহজ শর্তে অর্থায়নে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার এবং বহুপক্ষীয় পরিবেশ চুক্তিগুলোর প্রতিবেদন ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহজলভ্য অর্থায়নের আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট সময় ১০:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদের পক্ষসমূহের সপ্তদশ সম্মেলন বা সিবিডি কপ১৭-এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরাগাৎস প্লেনারি হলে দেশের পক্ষে এ দাবি তুলে ধরেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. ফাহমিদা খানম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রায় ১৪ হাজার বৈচিত্র্যময় প্রজাতির আবাস রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এসব প্রাণ-প্রকৃতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমির ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এসব সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ২৩টি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার আওতায় ১০৭টি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫ কোটি নতুন গাছ লাগানো ও পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, ভূমির অবক্ষয় রোধ এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান। জীববৈচিত্র্যকে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক তথ্য উৎপাদন, পরিবীক্ষণ কাঠামো বাস্তবায়ন, দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূলধারায় জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়। ইয়েরেভান সম্মেলন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে উত্তরণের একটি কার্যকর মাইলফলক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২৩ সাল থেকে নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তার প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। ড. খানম জানান, জিনগত সম্পদসংক্রান্ত ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্য (ডিএসআই) এবং সিনথেটিক বায়োলজিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতিগুলো দূর করতে উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও পুনর্বিন্যাস করছে।

জীববৈচিত্র্য সনদের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সহজ শর্তে অর্থায়নে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার এবং বহুপক্ষীয় পরিবেশ চুক্তিগুলোর প্রতিবেদন ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।