ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে দেশটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। এর আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সানায়ে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তাকাইচি বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান সবসময় পাশে থাকবে। অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা এফওআইপি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই দেশটিকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ার ইতিহাসও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুই দেশ যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিগ-বি’ বা বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে আরও উন্নত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তাকাইচি জানান, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজার হওয়ায় জাপানের অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগত এই অংশীদারত্বের আওতায় দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে উভয় রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে জাপান ও বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ এবং দেশটি হয়ে উঠবে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের প্রবেশদ্বার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যৌথ ঘোষণায়।

আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার সেবা চালু

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে দেশটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। এর আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সানায়ে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তাকাইচি বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান সবসময় পাশে থাকবে। অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা এফওআইপি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই দেশটিকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ার ইতিহাসও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুই দেশ যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিগ-বি’ বা বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে আরও উন্নত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তাকাইচি জানান, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজার হওয়ায় জাপানের অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগত এই অংশীদারত্বের আওতায় দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে উভয় রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে জাপান ও বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ এবং দেশটি হয়ে উঠবে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের প্রবেশদ্বার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যৌথ ঘোষণায়।