ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

সাগর-রুনি মামলা: জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য টাস্কফোর্সকে প্রদান

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক (বরখাস্ত) সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর জড়িত থাকার তথ্য উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছ থেকে পাওয়া এ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্ব্যে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্ত শেষ করার জন্য টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাসের সময় মঞ্জুর করেছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো তদন্তের মেয়াদ বাড়ানো হলো। বেঞ্চ পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন টাস্কফোর্স ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় পেয়েছে টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্স ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিষয়টির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেদিন উপস্থিত হতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন।

আদালতে পেশ করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, টাস্কফোর্সের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তারা জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পেয়ে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যাদি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের শুনানি শেষে নিজের কার্যালয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন করে তদন্তভার গ্রহণের পর গঠিত টাস্কফোর্স ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে পুনর্বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। অন্যদিকে বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে অংশ নেন।

মামলার পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বক্তব্য দেন যে, দুদক এনটিএমসির সাবেক পরিচালক জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে জিও লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআরের প্রিন্ট কপিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করে। জিয়াউল আহসানের সহকারী এক র‍্যাব সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও একই ধরণের বক্তব্য দেন। এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সেটা হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ই। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত পেয়ে দুদক সেগুলো জব্দ করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পিবিআইয়ের তদন্ত দল ইতোমধ্যে দুজন আইনজীবী ও প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সংরক্ষিত আলামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। অগ্রগতি প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক এই বিস্তারিত তুলে ধরেছেন, যা হাইকোর্টের কাছে পড়ে শোনানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‍্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেন এবং ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন। তবে ৬ এপ্রিল আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এই চিঠিটা আমি আপনাকে বলি যে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ কথাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

গাঙ্গুবাই চরিত্রে আলিয়া ভাটকে প্রশংসায় ভাসালেন কীর্তি সুরেশ

সাগর-রুনি মামলা: জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য টাস্কফোর্সকে প্রদান

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক (বরখাস্ত) সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর জড়িত থাকার তথ্য উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছ থেকে পাওয়া এ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্ব্যে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্ত শেষ করার জন্য টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাসের সময় মঞ্জুর করেছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো তদন্তের মেয়াদ বাড়ানো হলো। বেঞ্চ পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন টাস্কফোর্স ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় পেয়েছে টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্স ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিষয়টির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেদিন উপস্থিত হতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানিয়েছেন।

আদালতে পেশ করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, টাস্কফোর্সের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তারা জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পেয়ে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যাদি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের শুনানি শেষে নিজের কার্যালয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন করে তদন্তভার গ্রহণের পর গঠিত টাস্কফোর্স ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে পুনর্বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। অন্যদিকে বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে অংশ নেন।

মামলার পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বক্তব্য দেন যে, দুদক এনটিএমসির সাবেক পরিচালক জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে জিও লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআরের প্রিন্ট কপিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করে। জিয়াউল আহসানের সহকারী এক র‍্যাব সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও একই ধরণের বক্তব্য দেন। এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সেটা হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ই। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত পেয়ে দুদক সেগুলো জব্দ করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পিবিআইয়ের তদন্ত দল ইতোমধ্যে দুজন আইনজীবী ও প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সংরক্ষিত আলামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। অগ্রগতি প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক এই বিস্তারিত তুলে ধরেছেন, যা হাইকোর্টের কাছে পড়ে শোনানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‍্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেন এবং ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন। তবে ৬ এপ্রিল আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এই চিঠিটা আমি আপনাকে বলি যে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ কথাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন।