ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নেতানিয়াহুর দেওয়া এই সামরিক নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে সেনাপ্রধান আপত্তি জানিয়েছেন। ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নেতানিয়াহুর নির্দেশিত পদক্ষেপটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জামির। তিনি এই অভিযানের আইনি অনুমোদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য লিখিত নথি ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর চেয়েছেন। তবে ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। চ্যানেলটি আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই শীর্ষ ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ইসরাইলের সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনে প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর এই নির্দেশনা এমন এক সংবেদনশীল সময়ে এসেছে, যা ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিশ্লেষক ও কর্মকর্তার মতে, রাজনৈতিক সুবিধা বা ভোটের সমীকরণ মেলাতে সরকার ইরান ইস্যুকে ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে চ্যানেল ১৪-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার সঙ্গে সেনাপ্রধানের কোনো ধরনের বিরোধ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং প্রতিবেদনগুলোকে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও একই সাক্ষাৎকারের ভিন্ন অংশে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ইরানের সরকার উৎখাতের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সামরিক নির্দেশনার সঙ্গে এই বক্তব্যের সংযোগ রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
রোববার পালমাহিম বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এক আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যকার তিক্ততা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মতে, বৈঠককক্ষের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর। নিরাপত্তা বিষয়ক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, জামির সম্প্রতি যে অবস্থান নিয়েছেন, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে জামিরের নির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রুদ্ধদ্বার এক বৈঠকে জামির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। জামিরের ভাষ্যমতে, যদি কখনো ইরানে হামলার প্রয়োজন হয়, তবে সেটি যৌক্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই করা হবে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে বা ভোট পিছিয়ে দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবেই নেতানিয়াহু সংঘাত উসকে দিতে চাইছেন, যদিও প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত লাভের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে নিজের সম্ভাবনা বাড়ানো কিংবা ভোট পেছানোর উদ্দেশ্যেও তিনি এমন উদ্যোগ নিতে পারেন। যদি আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে ইরানে হামলা প্রয়োজন, তাহলে তা চালাব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























