দুই সপ্তাহের অচলাবস্থা কাটিয়ে আজ ২৫ অক্টোবর থেকে আবারও কার্যক্রম শুরু করছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে গত ১২ অক্টোবর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রাণহানির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। সেই হামলায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১২ অক্টোবর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই হামলায় অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৫ অক্টোবর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো টার্মিনাল-১ দিয়ে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো টার্মিনাল-২ থেকে যাত্রী পরিবহন করবে।
সৌদির বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর সব আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট কবে নাগাদ পুরোদমে স্বাভাবিক হবে এবং বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জোরদার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, রিয়াদ ছাড়াও দেশটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরপর গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে এমন হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিমানবন্দর বন্ধ থাকার ফলে গত দুই সপ্তাহে রিয়াদগামী ও বহির্গামী হাজারো যাত্রীর ভ্রমণসূচিতে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। পুনরায় কার্যক্রম শুরুর পর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক এ হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















