ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ

১৬ নভেম্বর উদ্বোধন: নতুন রূপ পাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

সমুদ্রের নীল জলরাশির কোল ঘেঁষে তৈরি দীর্ঘ রানওয়ে আর অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল নিয়ে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রসারিত এই বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ নভেম্বর। এই প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক আকাশপথে কক্সবাজার সরাসরি বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা দেশের পর্যটন খাতের জন্য বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে এখন বড় আকারের উড়োজাহাজও এখানে নির্বিঘ্নে ওঠানামা করতে পারবে। বিমানবন্দরের নতুন যাত্রী টার্মিনালটি প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর ভেতরে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা, লাগেজ বেল্ট, কনভেয়ার বেল্ট, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজের মতো সব প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টার্মিনালের যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. নূর নবী। নিরাপত্তার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক মো. সিফাত উল্লাহ জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে এখানে অত্যাধুনিক লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও এক্স-রে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। টার্মিনালের বহির্গমন অংশে চারটি এবং আগমন অংশে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছাড়াও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক, ফ্লাইট তথ্যের ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং শুল্কমুক্ত দোকানের সুবিধা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি স্থানীয় অর্থনীতির চাকা আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চালু হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম হয়ে শুঁটকি ও তাজা শাকসবজি মধ্যপ্রাচ্যের মতো বিভিন্ন দেশে রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ.ন.ম. হেলাল উদ্দিনের মতে, এই উন্নয়ন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং পর্যটন অবকাঠামোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আপলোডকারীর তথ্য

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা

১৬ নভেম্বর উদ্বোধন: নতুন রূপ পাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

আপডেট সময় ০৫:০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রের নীল জলরাশির কোল ঘেঁষে তৈরি দীর্ঘ রানওয়ে আর অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল নিয়ে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রসারিত এই বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ নভেম্বর। এই প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক আকাশপথে কক্সবাজার সরাসরি বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা দেশের পর্যটন খাতের জন্য বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে এখন বড় আকারের উড়োজাহাজও এখানে নির্বিঘ্নে ওঠানামা করতে পারবে। বিমানবন্দরের নতুন যাত্রী টার্মিনালটি প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর ভেতরে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা, লাগেজ বেল্ট, কনভেয়ার বেল্ট, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজের মতো সব প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা স্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টার্মিনালের যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. নূর নবী। নিরাপত্তার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক মো. সিফাত উল্লাহ জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে এখানে অত্যাধুনিক লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও এক্স-রে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। টার্মিনালের বহির্গমন অংশে চারটি এবং আগমন অংশে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছাড়াও সিসিটিভি নেটওয়ার্ক, ফ্লাইট তথ্যের ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং শুল্কমুক্ত দোকানের সুবিধা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটি স্থানীয় অর্থনীতির চাকা আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চালু হলে তা ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আনবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম হয়ে শুঁটকি ও তাজা শাকসবজি মধ্যপ্রাচ্যের মতো বিভিন্ন দেশে রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ.ন.ম. হেলাল উদ্দিনের মতে, এই উন্নয়ন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তবে এই দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং পর্যটন অবকাঠামোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।