বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপির কোডে এমন এক নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা গোটা প্রযুক্তি বিশ্বকে নতুন করে শঙ্কার মুখে ফেলেছে। পিএইচপি প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ইমরানের মতে, এই ত্রুটি অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ কোনো দক্ষ হ্যাকার এর মাধ্যমে পুরো ওয়েবসাইটের সার্ভার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম।
একজন হ্যাকার যখন সার্ভারের রুট অ্যাকসেস বা প্রশাসনিক ক্ষমতা পেয়ে যায়, তখন সে সাইটের মূল ফাইল পরিবর্তন থেকে শুরু করে রিমোট কোড এক্সিকিউশন পর্যন্ত সব করতে পারে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল তথ্য ও আর্থিক রেকর্ড চুরি হওয়া কিংবা সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি আক্রান্ত সার্ভার ব্যবহার করে অন্য কোনো নেটওয়ার্ক বা অবকাঠামোতে ক্ষতিকর বটনেট হামলা চালানোও সম্ভব, যা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে।
ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির এই ত্রুটিকে কোনো সাধারণ কারিগরি ভুল বলতে নারাজ। তার তথ্যমতে, পিএইচপির কোডের গভীরে এই ত্রুটি প্রায় ১৪ বছর ধরে লুকিয়ে ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য গবেষক কাজ করলেও এটি কারও নজরে পড়েনি, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তা শেষ পর্যন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সাবির বলেন, এটি প্রমাণ করে যে আমরা প্রতিদিন যেসব সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ব্যবহার করছি, তাতে এমন অনেক মারাত্মক ঝুঁকি রয়ে গেছে যা মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়, কিন্তু এআই সহজেই তা খুঁজে বের করতে পারে। এটি সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।
সুমন আহমেদ সাবির আরও বলেন, সফটওয়্যারে ত্রুটি থাকা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এআইয়ের মাধ্যমে ১৪ বছরের পুরোনো সমস্যা খুঁজে বের করার বিষয়টি নজিরবিহীন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোড ও অবকাঠামো আধুনিক এআই প্রযুক্তির সাহায্যে পর্যালোচনা করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত সফটওয়্যার প্যাচ ও নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ ধরনের হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে মোহাম্মদ ইমরান বলেন, সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো দ্রুত সর্বশেষ নিরাপদ সংস্করণ সার্ভারে হালনাগাদ করা। তাদের প্রতিষ্ঠানে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তা প্যাচ ও সংস্করণ হালনাগাদ করে ফেলেছেন। তিনি সার্ভারে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় পিএইচপি ফাংশন ও এক্সটেনশন বন্ধ করা এবং জিরো-ট্রাস্ট সিকিউরিটি মডেল অনুসরণের পরামর্শ দেন। এছাড়া এআইভিত্তিক ভালনারেবিলিটি স্ক্যানার ব্যবহার করে নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিধ্বংসী সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















