ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

সৌদিতে হামলায় নিহত প্রবাসী শাহেদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেশে ফেরত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ শেষ পর্যন্ত স্বজনদের মাঝে ফিরে এসেছে। শুক্রবার ২৩ অক্টোবর সকালের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিবারের প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শাহেদ রফিকুল ইসলামের সন্তান ছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরের সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন, যাদের একজন শাহেদ। এই ঘটনায় প্রবাসে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জীবন ও জীবিকার সন্ধানে থাকা বাংলাদেশিদের ঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশের মাটিতে কর্মরত এই মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। তবে বিমান পৌঁছানোর সময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে কোনো কোনো তথ্যে সকাল ৮টা ১২ মিনিটের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই অসামঞ্জস্য থাকলেও মরদেহ যে শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে এ অঞ্চলে যুদ্ধে প্রাণ হারানো মোট ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রবাসীদের মৃত্যুর পর দ্রুত মরদেহ দেশে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তাই তাদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ফেরার মধ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার সুযোগ পেলেন। তবে তাঁর এই অকাল মৃত্যু প্রবাসীদের জীবনের ঝুঁকির চিত্রটিই পুনরায় ফুটিয়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব কীভাবে সাধারণ প্রবাসীদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, শাহেদের মৃত্যু তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং যথাযথ পুনর্বাসন আশা করছে। তবে তাঁর মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জীবন ও তাঁদের পরিবারের ওপর।

আপলোডকারীর তথ্য

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী: অবকাঠামো ও বিনিয়োগে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

সৌদিতে হামলায় নিহত প্রবাসী শাহেদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেশে ফেরত

আপডেট সময় ০৯:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ শেষ পর্যন্ত স্বজনদের মাঝে ফিরে এসেছে। শুক্রবার ২৩ অক্টোবর সকালের দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিবারের প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শাহেদ রফিকুল ইসলামের সন্তান ছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরের সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন, যাদের একজন শাহেদ। এই ঘটনায় প্রবাসে কর্মরত হাজারো বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জীবন ও জীবিকার সন্ধানে থাকা বাংলাদেশিদের ঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশের মাটিতে কর্মরত এই মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। তবে বিমান পৌঁছানোর সময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে কোনো কোনো তথ্যে সকাল ৮টা ১২ মিনিটের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই অসামঞ্জস্য থাকলেও মরদেহ যে শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে এ অঞ্চলে যুদ্ধে প্রাণ হারানো মোট ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রবাসীদের মৃত্যুর পর দ্রুত মরদেহ দেশে আনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তাই তাদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ফেরার মধ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার সুযোগ পেলেন। তবে তাঁর এই অকাল মৃত্যু প্রবাসীদের জীবনের ঝুঁকির চিত্রটিই পুনরায় ফুটিয়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব কীভাবে সাধারণ প্রবাসীদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, শাহেদের মৃত্যু তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং যথাযথ পুনর্বাসন আশা করছে। তবে তাঁর মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জীবন ও তাঁদের পরিবারের ওপর।