ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়: সংসদে গয়েশ্বর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়—বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে। তিনি দাবি করেন, যারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেও ভিন্ন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমার সামনে যারা বসে আছেন, তারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না। ১৯৪৭ সালের আন্দোলনে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না, বরং অখণ্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক ব্রিটিশ আমল থেকে, আমাদের নয়। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়—সমমর্যাদার ভিত্তিতে।

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেছেন। তার বক্তব্যে বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে এবং তিনি অতীতকে আঁকড়ে ধরে বর্তমানকে অস্বীকার করেননি। বর্তমানকে মেনে নেওয়ার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।

গয়েশ্বর আরও বলেন, আমার দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার মূল ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ। তাকে ভুলে গেলে আমরা গণতন্ত্র ভুলে যাব, দেশপ্রেম অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি চাটুকারিতা বা মোসাহেবি পছন্দ করতেন না। সমালোচনার মধ্য দিয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২৬ মার্চের ভাষণ আমি শুনিনি, তবে ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানের ভাষণ রেডিওতে শুনেছি। ২৮ মার্চ তার আহ্বানে আমি আমার এলাকায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তিনি আত্মরক্ষার কথা বলেননি, বরং সারা জাতিকে যুদ্ধে অংশ নিয়ে বর্বর বাহিনীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।

স্পিকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, আপনি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, একসঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। বৈষম্য, বঞ্চনা, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তির জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়: সংসদে গয়েশ্বর

আপডেট সময় ০৭:১০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়—বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে। তিনি দাবি করেন, যারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেও ভিন্ন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমার সামনে যারা বসে আছেন, তারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না। ১৯৪৭ সালের আন্দোলনে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না, বরং অখণ্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক ব্রিটিশ আমল থেকে, আমাদের নয়। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়—সমমর্যাদার ভিত্তিতে।

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেছেন। তার বক্তব্যে বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে এবং তিনি অতীতকে আঁকড়ে ধরে বর্তমানকে অস্বীকার করেননি। বর্তমানকে মেনে নেওয়ার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।

গয়েশ্বর আরও বলেন, আমার দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার মূল ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ। তাকে ভুলে গেলে আমরা গণতন্ত্র ভুলে যাব, দেশপ্রেম অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি চাটুকারিতা বা মোসাহেবি পছন্দ করতেন না। সমালোচনার মধ্য দিয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২৬ মার্চের ভাষণ আমি শুনিনি, তবে ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানের ভাষণ রেডিওতে শুনেছি। ২৮ মার্চ তার আহ্বানে আমি আমার এলাকায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তিনি আত্মরক্ষার কথা বলেননি, বরং সারা জাতিকে যুদ্ধে অংশ নিয়ে বর্বর বাহিনীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।

স্পিকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, আপনি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, একসঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। বৈষম্য, বঞ্চনা, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তির জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।