ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যেভাবে ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভ হয়

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহান আল্লাহ তাআলা সান্নিধ্য লাভের শ্রেষ্ঠ আমল হলো ই’তিকাফ। ই’তিকাফের মাধ্যমেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার নৈকট্যের বন্ধন সৃষ্টি হয়। ই’তিকাফের পরিচয় লাভের মাধ্যমেই ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভের উপায় জানা যায়।

ই’তিকাফ হলো নির্দিষ্ট কোনো স্থানে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখা। যখনই কোনো মানুষ ই’তিকাফে বসে তখন স্বাভাবিকভাবে অজু, গোসল, হাজতপূরণ এবং বিশ্রাম ব্যতিত বাকী সময় আল্লাহর নৈকট্য লাভে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা।

ই’তিকাফ পালনে দুনিয়াবি কোনো কাজে মনোনিবেশ করা বা চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবার পরিচালনার মতো কোনো কাজই করা যাবে না। যখনই কেউ ই’তিকাফের পাশাপাশি দুনিয়াবি কোনো কাজে মনোনিবেশ করবে তখন আর তার ই’তিকাফ হবে না। যাদের অন্তরে দুনিয়ার চিন্তা পেরেশানি থাকবে তারা ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ বা সুফল পাবে না। কারণ ই’তিকাফের মূল থিম হলো-

‘সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্রষ্টার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এ ই’তিকাফের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক যতই গভীর তথা অন্তরঙ্গ হতে থাকবে; ই’তিকাফকারী ব্যক্তি ততই ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ পেতে থাকবে। এ সম্পর্কই বান্দাকে আল্লাহ তাআলার কাছাকাছি নিয়ে যাবে।’

ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভে প্রথমেই দুনিয়াবি সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তা হতে পারে অনর্থক ও অশ্লীল কথা-বার্তা, পারিবারিক, ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক সব সম্পর্ক ছিন্ন করা জরুরি। ই’তিকাফে বসে খোশ-গল্পে সময় না কাটিয়ে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, মাসনুন দোয়া-দরূদ, তাওবা-ইসতেগফার করা।

যারা কুরআন এবং হাদিসের জ্ঞান রাখেন, তাদের জন্য কুরআন এবং হাদিস অধ্যয়ন করাও অনেক বড় ফজিলতের কাজ। বিশেষ করে,ই’তিকাফকালীন সময়ে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা জরুরি। কারণ নামাজই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধনের প্রধান মাধ্যম। তাই ই’তিকাফকালীন সময়ে দিন ও রাত সব ধরনের নামাজে অতিবাহিত করার মাধ্যমেই মুমিন মুসলমান ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করে মাওলার নৈকট্য অর্জন সফল হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভে ই’তিকাফের যথাযথ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

যেভাবে ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভ হয়

আপডেট সময় ০২:২৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহান আল্লাহ তাআলা সান্নিধ্য লাভের শ্রেষ্ঠ আমল হলো ই’তিকাফ। ই’তিকাফের মাধ্যমেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার নৈকট্যের বন্ধন সৃষ্টি হয়। ই’তিকাফের পরিচয় লাভের মাধ্যমেই ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভের উপায় জানা যায়।

ই’তিকাফ হলো নির্দিষ্ট কোনো স্থানে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখা। যখনই কোনো মানুষ ই’তিকাফে বসে তখন স্বাভাবিকভাবে অজু, গোসল, হাজতপূরণ এবং বিশ্রাম ব্যতিত বাকী সময় আল্লাহর নৈকট্য লাভে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা।

ই’তিকাফ পালনে দুনিয়াবি কোনো কাজে মনোনিবেশ করা বা চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবার পরিচালনার মতো কোনো কাজই করা যাবে না। যখনই কেউ ই’তিকাফের পাশাপাশি দুনিয়াবি কোনো কাজে মনোনিবেশ করবে তখন আর তার ই’তিকাফ হবে না। যাদের অন্তরে দুনিয়ার চিন্তা পেরেশানি থাকবে তারা ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ বা সুফল পাবে না। কারণ ই’তিকাফের মূল থিম হলো-

‘সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্রষ্টার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এ ই’তিকাফের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ক যতই গভীর তথা অন্তরঙ্গ হতে থাকবে; ই’তিকাফকারী ব্যক্তি ততই ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ পেতে থাকবে। এ সম্পর্কই বান্দাকে আল্লাহ তাআলার কাছাকাছি নিয়ে যাবে।’

ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভে প্রথমেই দুনিয়াবি সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তা হতে পারে অনর্থক ও অশ্লীল কথা-বার্তা, পারিবারিক, ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক সব সম্পর্ক ছিন্ন করা জরুরি। ই’তিকাফে বসে খোশ-গল্পে সময় না কাটিয়ে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, মাসনুন দোয়া-দরূদ, তাওবা-ইসতেগফার করা।

যারা কুরআন এবং হাদিসের জ্ঞান রাখেন, তাদের জন্য কুরআন এবং হাদিস অধ্যয়ন করাও অনেক বড় ফজিলতের কাজ। বিশেষ করে,ই’তিকাফকালীন সময়ে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা জরুরি। কারণ নামাজই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সেতুবন্ধনের প্রধান মাধ্যম। তাই ই’তিকাফকালীন সময়ে দিন ও রাত সব ধরনের নামাজে অতিবাহিত করার মাধ্যমেই মুমিন মুসলমান ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করে মাওলার নৈকট্য অর্জন সফল হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ই’তিকাফের প্রকৃত স্বাদ লাভে ই’তিকাফের যথাযথ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।