ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের নিজেদের তৈরি দুর্যোগ: স্পিকার বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এলাকার সড়কের জন্য ‘ভিক্ষা’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ আত্মীয়ের কুলখানি শেষে ফিরছিলেন বাড়ি, পথে কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল মা-ছেলের প্রাণ বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন

যেসব স্বভাব আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

এই দুনিয়ায় সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো— ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নীরব থাকা, জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে সংযত রাখা, আর অপমানের মুখে প্রতিশোধ না নিয়ে ধৈর্যের পথ বেছে নেওয়া। মানুষের চোখে এসব দুর্বলতা মনে হলেও, আল্লাহর কাছে এগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান গুণ।

অনেক সময় এমন মানুষও আমাদের খোঁচা দিয়ে কথা বলে, যাদের যোগ্যতা আমাদের নখের সমানও নয়। তবু আমরা যদি হাসিমুখে পরিস্থিতি সামলে নেই, যদি নিজেদের চরিত্র নষ্ট না করি— তাহলে মনে রাখা দরকার, এই নীরবতা কোনো ব্যর্থতা নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এক শক্ত পদক্ষেপ।

মূর্খের সঙ্গে তর্কে না জড়ানো— আল্লাহর নির্দেশ:

মূর্খের সঙ্গে তর্কে না জড়ানো কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি রহমানের বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে তার প্রিয় বান্দাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন—

وَعِبَادُ الرَّحْمَٰنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا

‘আর রহমানের বান্দারা তারা—যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে, আর যখন অজ্ঞরা তাদের সঙ্গে কথা বলে, তখন তারা বলে—‘সালাম’।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৬৩)

আঘাতের বদলে আঘাত না করা— আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়ার পথ:

আপনার কাছে যখন জবাব দেওয়ার শক্তি আছে, প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আছে— তবু আপনি তা করছেন না, তখন আপনি আসলে নিজের নফসকে দমন করছেন। আর নফস দমন করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। আবার যে মানুষ রাগের আগুন গিলে ফেলে, আল্লাহ তাকে নিজের ভালোবাসায় ঢেকে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

‘যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষের ভুল ক্ষমা করে দেয়— আর আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৩৪)

ঝগড়ার কারণ থাকা সত্ত্বেও চুপ থাকা— আসল শক্তি:

আপনি যখন চুপ থাকেন, তখন আপনি হারছেন না—আপনি নিজেকে জয় করছেন। মানুষ হয়তো আপনার এই নীরবতা বা চুপ থাকাকে দুর্বলতা মনে করছে। করুক। কারণ প্রকৃত শক্তি মানুষের চোখে নয়—আল্লাহর বিচারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ

‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়; বরং শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (বুখারি ৬১১৪, মুসলিম, ২৬০৯)

চিৎকারে সত্য বদলায় না:

গলা উঁচু করে চেঁচামেচি করলেই মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না। সত্যের শক্তি শব্দে নয়, অবস্থানে। আর সত্য— তা কেউ উচ্চারণ করুক বা না-ই করুক, সত্যই থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ ۚ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا

‘বলুন, সত্য এসেছে আর মিথ্যা বিলীন হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলীন হওয়ারই যোগ্য।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৮১)

মানুষের চোখে না হলেও আল্লাহর কাছে আপনি মূল্যবান:

সব মানুষ আপনার মূল্য বুঝবে না। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা ছাড়া অনেকেই হয়তো আপনাকে অবমূল্যায়ন করবে। কিন্তু এতে কিছু যায় আসে না— কারণ আল্লাহ আপনাকে চেনেন। মানুষের সম্মান ক্ষণস্থায়ী; আল্লাহর কাছে সম্মান চিরস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩)

যখন আপনি মূর্খের সঙ্গে তর্কে জড়ান না, যখন আপনি অপমানের বদলে নীরবতা বেছে নেন, যখন আপনি আঘাত পেয়েও প্রতিশোধ নেন না— তখন আপনি আসলে হারছেন না। আপনি আল্লাহর কাছে হয়ে উঠছেন আরও প্রিয়।

মনে রাখবেন, মানুষ যা-ই বলুক— এই স্বভাবই আপনাকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও মূল্যবান করে তুলবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই দামি স্বভাব ধরে রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যেসব স্বভাব আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান

আপডেট সময় ০৯:৫১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

এই দুনিয়ায় সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো— ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নীরব থাকা, জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে সংযত রাখা, আর অপমানের মুখে প্রতিশোধ না নিয়ে ধৈর্যের পথ বেছে নেওয়া। মানুষের চোখে এসব দুর্বলতা মনে হলেও, আল্লাহর কাছে এগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান গুণ।

অনেক সময় এমন মানুষও আমাদের খোঁচা দিয়ে কথা বলে, যাদের যোগ্যতা আমাদের নখের সমানও নয়। তবু আমরা যদি হাসিমুখে পরিস্থিতি সামলে নেই, যদি নিজেদের চরিত্র নষ্ট না করি— তাহলে মনে রাখা দরকার, এই নীরবতা কোনো ব্যর্থতা নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এক শক্ত পদক্ষেপ।

মূর্খের সঙ্গে তর্কে না জড়ানো— আল্লাহর নির্দেশ:

মূর্খের সঙ্গে তর্কে না জড়ানো কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি রহমানের বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে তার প্রিয় বান্দাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন—

وَعِبَادُ الرَّحْمَٰنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا

‘আর রহমানের বান্দারা তারা—যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে, আর যখন অজ্ঞরা তাদের সঙ্গে কথা বলে, তখন তারা বলে—‘সালাম’।’ (সুরা আল-ফুরকান: আয়াত ৬৩)

আঘাতের বদলে আঘাত না করা— আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়ার পথ:

আপনার কাছে যখন জবাব দেওয়ার শক্তি আছে, প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ আছে— তবু আপনি তা করছেন না, তখন আপনি আসলে নিজের নফসকে দমন করছেন। আর নফস দমন করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। আবার যে মানুষ রাগের আগুন গিলে ফেলে, আল্লাহ তাকে নিজের ভালোবাসায় ঢেকে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

‘যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষের ভুল ক্ষমা করে দেয়— আর আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৩৪)

ঝগড়ার কারণ থাকা সত্ত্বেও চুপ থাকা— আসল শক্তি:

আপনি যখন চুপ থাকেন, তখন আপনি হারছেন না—আপনি নিজেকে জয় করছেন। মানুষ হয়তো আপনার এই নীরবতা বা চুপ থাকাকে দুর্বলতা মনে করছে। করুক। কারণ প্রকৃত শক্তি মানুষের চোখে নয়—আল্লাহর বিচারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ

‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়; বরং শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (বুখারি ৬১১৪, মুসলিম, ২৬০৯)

চিৎকারে সত্য বদলায় না:

গলা উঁচু করে চেঁচামেচি করলেই মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না। সত্যের শক্তি শব্দে নয়, অবস্থানে। আর সত্য— তা কেউ উচ্চারণ করুক বা না-ই করুক, সত্যই থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ ۚ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا

‘বলুন, সত্য এসেছে আর মিথ্যা বিলীন হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলীন হওয়ারই যোগ্য।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৮১)

মানুষের চোখে না হলেও আল্লাহর কাছে আপনি মূল্যবান:

সব মানুষ আপনার মূল্য বুঝবে না। গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা ছাড়া অনেকেই হয়তো আপনাকে অবমূল্যায়ন করবে। কিন্তু এতে কিছু যায় আসে না— কারণ আল্লাহ আপনাকে চেনেন। মানুষের সম্মান ক্ষণস্থায়ী; আল্লাহর কাছে সম্মান চিরস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩)

যখন আপনি মূর্খের সঙ্গে তর্কে জড়ান না, যখন আপনি অপমানের বদলে নীরবতা বেছে নেন, যখন আপনি আঘাত পেয়েও প্রতিশোধ নেন না— তখন আপনি আসলে হারছেন না। আপনি আল্লাহর কাছে হয়ে উঠছেন আরও প্রিয়।

মনে রাখবেন, মানুষ যা-ই বলুক— এই স্বভাবই আপনাকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও মূল্যবান করে তুলবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই দামি স্বভাব ধরে রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।