ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

শিশুর গলায় ঝুলবে মাত্র দুই গ্রাম ওজনের ছোট্ট একটি ডিভাইস। দেখতে অনেকটা লকেটের মতো। কোনো কারণে শিশুটি পানিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সময়ে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল যাবে। এমন একটি ডিভাইস উদ্ভাবনের দাবি করেছেন ভোলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন।

তাহসিন জানান, তার আপন দুই খালাতো বোন বাড়ির পুকুরে পড়ে মারা যায়। ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোক ও চিন্তা থেকেই তিনি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণার পর তিনি ডিভাইসটি তৈরি করতে সক্ষম হন। এর নাম দিয়েছেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’।

তিনি বলেন, শিশুর সঙ্গে থাকা ডিভাইসটি পানির সংস্পর্শে এলেই ঘরে থাকা একটি রিসিভারে সিগনাল পাঠাবে। তখন সেখানে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল যাবে। অভিভাবক চাইলে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোথায় পানিতে পড়েছে, সেই অবস্থানও জানতে পারবেন।

ডিভাইসটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তাহসিন জানান, পানির সংস্পর্শে এলে পানিতে থাকা মুক্ত ইলেকট্রন সামান্য বিদ্যুৎ পরিবহন করে সুইচের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে রিসিভারে সংকেত পৌঁছে যায় এবং সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

এ পর্যন্ত ডিভাইসটি তৈরিতে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বাজারে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার হাজিরহাট এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মো. তাহসিন। তার বাবা ক্বারী আব্দুল হালিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। পিতার সার্বিক সহায়তা ও নিজের অনুসন্ধিৎসু মানসিকতার কারণে তাহসিন শৈশব থেকেই বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত।

ইতোমধ্যে তার তৈরি ১৫টি প্রজেক্ট বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন তাহসিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর

আপডেট সময় ০৬:২০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

শিশুর গলায় ঝুলবে মাত্র দুই গ্রাম ওজনের ছোট্ট একটি ডিভাইস। দেখতে অনেকটা লকেটের মতো। কোনো কারণে শিশুটি পানিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সময়ে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল যাবে। এমন একটি ডিভাইস উদ্ভাবনের দাবি করেছেন ভোলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন।

তাহসিন জানান, তার আপন দুই খালাতো বোন বাড়ির পুকুরে পড়ে মারা যায়। ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোক ও চিন্তা থেকেই তিনি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণার পর তিনি ডিভাইসটি তৈরি করতে সক্ষম হন। এর নাম দিয়েছেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’।

তিনি বলেন, শিশুর সঙ্গে থাকা ডিভাইসটি পানির সংস্পর্শে এলেই ঘরে থাকা একটি রিসিভারে সিগনাল পাঠাবে। তখন সেখানে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল যাবে। অভিভাবক চাইলে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোথায় পানিতে পড়েছে, সেই অবস্থানও জানতে পারবেন।

ডিভাইসটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তাহসিন জানান, পানির সংস্পর্শে এলে পানিতে থাকা মুক্ত ইলেকট্রন সামান্য বিদ্যুৎ পরিবহন করে সুইচের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে রিসিভারে সংকেত পৌঁছে যায় এবং সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

এ পর্যন্ত ডিভাইসটি তৈরিতে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বাজারে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার হাজিরহাট এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মো. তাহসিন। তার বাবা ক্বারী আব্দুল হালিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। পিতার সার্বিক সহায়তা ও নিজের অনুসন্ধিৎসু মানসিকতার কারণে তাহসিন শৈশব থেকেই বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত।

ইতোমধ্যে তার তৈরি ১৫টি প্রজেক্ট বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন তাহসিন।