ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়ে ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের বাংলাদেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন তারেক রহমান: মঈন খান উইন্ডিজকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ভারত ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় রাজি ট্রাম্প রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো: এটিএম আজহার রুমমেটের দেহ ৭ টুকরো করে পাঁচ জায়গায় ফেলে আসেন শাহীন: পুলিশ সাধারণ মানুষ যেন উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে সবসময় সজাগ থাকব : মির্জা ফখরুল ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

শিশুর গলায় ঝুলবে মাত্র দুই গ্রাম ওজনের ছোট্ট একটি ডিভাইস। দেখতে অনেকটা লকেটের মতো। কোনো কারণে শিশুটি পানিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সময়ে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল যাবে। এমন একটি ডিভাইস উদ্ভাবনের দাবি করেছেন ভোলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন।

তাহসিন জানান, তার আপন দুই খালাতো বোন বাড়ির পুকুরে পড়ে মারা যায়। ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোক ও চিন্তা থেকেই তিনি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণার পর তিনি ডিভাইসটি তৈরি করতে সক্ষম হন। এর নাম দিয়েছেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’।

তিনি বলেন, শিশুর সঙ্গে থাকা ডিভাইসটি পানির সংস্পর্শে এলেই ঘরে থাকা একটি রিসিভারে সিগনাল পাঠাবে। তখন সেখানে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল যাবে। অভিভাবক চাইলে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোথায় পানিতে পড়েছে, সেই অবস্থানও জানতে পারবেন।

ডিভাইসটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তাহসিন জানান, পানির সংস্পর্শে এলে পানিতে থাকা মুক্ত ইলেকট্রন সামান্য বিদ্যুৎ পরিবহন করে সুইচের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে রিসিভারে সংকেত পৌঁছে যায় এবং সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

এ পর্যন্ত ডিভাইসটি তৈরিতে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বাজারে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার হাজিরহাট এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মো. তাহসিন। তার বাবা ক্বারী আব্দুল হালিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। পিতার সার্বিক সহায়তা ও নিজের অনুসন্ধিৎসু মানসিকতার কারণে তাহসিন শৈশব থেকেই বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত।

ইতোমধ্যে তার তৈরি ১৫টি প্রজেক্ট বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন তাহসিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর

আপডেট সময় ০৬:২০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

শিশুর গলায় ঝুলবে মাত্র দুই গ্রাম ওজনের ছোট্ট একটি ডিভাইস। দেখতে অনেকটা লকেটের মতো। কোনো কারণে শিশুটি পানিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সময়ে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে কল যাবে। এমন একটি ডিভাইস উদ্ভাবনের দাবি করেছেন ভোলার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন।

তাহসিন জানান, তার আপন দুই খালাতো বোন বাড়ির পুকুরে পড়ে মারা যায়। ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোক ও চিন্তা থেকেই তিনি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় আট থেকে নয় মাস গবেষণার পর তিনি ডিভাইসটি তৈরি করতে সক্ষম হন। এর নাম দিয়েছেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’।

তিনি বলেন, শিশুর সঙ্গে থাকা ডিভাইসটি পানির সংস্পর্শে এলেই ঘরে থাকা একটি রিসিভারে সিগনাল পাঠাবে। তখন সেখানে সাইরেন বেজে উঠবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল যাবে। অভিভাবক চাইলে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটি কোথায় পানিতে পড়েছে, সেই অবস্থানও জানতে পারবেন।

ডিভাইসটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তাহসিন জানান, পানির সংস্পর্শে এলে পানিতে থাকা মুক্ত ইলেকট্রন সামান্য বিদ্যুৎ পরিবহন করে সুইচের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে রিসিভারে সংকেত পৌঁছে যায় এবং সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

এ পর্যন্ত ডিভাইসটি তৈরিতে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বাজারে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

২০০৭ সালে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার হাজিরহাট এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মো. তাহসিন। তার বাবা ক্বারী আব্দুল হালিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। পিতার সার্বিক সহায়তা ও নিজের অনুসন্ধিৎসু মানসিকতার কারণে তাহসিন শৈশব থেকেই বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত।

ইতোমধ্যে তার তৈরি ১৫টি প্রজেক্ট বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন তাহসিন।