ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

পরিত্যক্ত নয়, সংরক্ষণ হবে খুলনা জিলা স্কুলের ১৩০ বছরের পুরাতন ভবন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিত্যক্ত হিসেবে ভেঙ্গে ফেলা নয়, সংরক্ষণ করা হবে ১৮৮৫ সালে নির্মিত খুলনা জিলা স্কুলের প্রথম ভবন। ইতোমধ্যে সংরক্ষণের জন্য ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটির মূল কাঠামো ও অবয়ব ঠিক রেখে স্থায়ীভাবে ভবনটি সংরক্ষণ করা হবে। আগামী বছর এই কাজ শুরু হবে। তিন শতকের সাক্ষী ঐতিহাসিক এই ভবনটি নিয়ে গতকাল রাতে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হবে-এমন গুজবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্ররা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি স্রেফ গুজব। উল্টো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা জানান, নির্মাণের ১৩০ বছর পরও এখনও ভবনের ফাউন্ডেশন ও ইটের দেয়াল মজবুত রয়েছে। শুধু ছাদ সংস্কার করলে ভবনটি আরও ৫০/৬০ অনায়েশে ব্যবহার করা যাবে। এজন্য ভবনের ছাদ এবং দরজা-জানালা পুরাতন নকশায় নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এতে করে ভবনটি ঠিক আগের মতোই থাকবে।
জিলা স্কুলের লাইব্রেরি ও পুরাতন ইতিহাস থেকে জানা গেছে, ১৮৭৩ সালে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮৫ সালের এপ্রিল মাসে ইংরেজ সরকার জিলা স্কুলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। এর আগে জমিদার ছাতুরাম মজুমদার তার নিজ অর্থ দিয়ে স্কুলের প্রথম পাকা ভবন তৈরি করেন। ওই লাল ভবনেই স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। অনেকের মতে এই লাল ভবন নির্মাণ হয়েছে ১৮৮৩ সালে। তৎকালীন শিক্ষানুরাগী ছাতুরাম মুজমদার ভবনটি নির্মাণ করেন। ওই সময় থেকে এই ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্কুল থেকে জানা গেছে, ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ায় ১৯৯৫ সালে ভবনের মূল কাঠামো ঠিক রেখে ছাদ সংস্কার করা হয়। কিন্তু মাত্র ৮ বছরের মাথায় ছাদ থেকে পানি পড়া শুরু করে। ২০০৫ সালে ভবনটি ব্যবহার বন্ধ করে দেয় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১২ বছর ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জানান, স্কুল কমিটির সভাপতি ও বিগত জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ভবনটি দেখে সংরক্ষণে উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগেই প্রকল্প তৈরি হয়েছে। ভবনটি সংরক্ষণ করা গেলে ৩০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হবে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।খুলনার সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে পরিত্যক্ত ভবনটি দেখে জানতে পারি, খুলনার পুরাতন ভবনগুলোর মধ্যে ‘লাল ভবন’ অন্যতম। এটি সংরক্ষণ করা গেলে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি ক্লাসও করানো যাবে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কথা বলেছি। তখন সংরক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। চলতি বছর সেই বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশা করছি, বর্তমান প্রশাসন সুষ্ঠুভাবেই এর কাজ শেষ করবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম পূর্বাঞ্চলকে জানান, ভবনটি সংস্কারের জন্য ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এখন নতুন করে ব্যয় প্রাক্কলন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রথমে আমরা শুধু ছাদ ও দরজা-জানালা সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পরে দেখা গেল, পুরাতন ভবনের সামনে একটি বারান্দা তৈরি করতে হবে। কারণ আগে ভবনের প্রবেশপথ ছিলো পেছনে। এখন প্রবেশের জন্য সামনে দিয়ে দরজা তৈরি করতে হবে। এতে নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসবে। এসব কিছু যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।তিনি বলেন, জেলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি সু-খবর হচ্ছে অচিরেই স্কুলে একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সেই ভবনে লিফট থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

পরিত্যক্ত নয়, সংরক্ষণ হবে খুলনা জিলা স্কুলের ১৩০ বছরের পুরাতন ভবন

আপডেট সময় ০৯:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিত্যক্ত হিসেবে ভেঙ্গে ফেলা নয়, সংরক্ষণ করা হবে ১৮৮৫ সালে নির্মিত খুলনা জিলা স্কুলের প্রথম ভবন। ইতোমধ্যে সংরক্ষণের জন্য ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটির মূল কাঠামো ও অবয়ব ঠিক রেখে স্থায়ীভাবে ভবনটি সংরক্ষণ করা হবে। আগামী বছর এই কাজ শুরু হবে। তিন শতকের সাক্ষী ঐতিহাসিক এই ভবনটি নিয়ে গতকাল রাতে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হবে-এমন গুজবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্ররা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি স্রেফ গুজব। উল্টো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা জানান, নির্মাণের ১৩০ বছর পরও এখনও ভবনের ফাউন্ডেশন ও ইটের দেয়াল মজবুত রয়েছে। শুধু ছাদ সংস্কার করলে ভবনটি আরও ৫০/৬০ অনায়েশে ব্যবহার করা যাবে। এজন্য ভবনের ছাদ এবং দরজা-জানালা পুরাতন নকশায় নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এতে করে ভবনটি ঠিক আগের মতোই থাকবে।
জিলা স্কুলের লাইব্রেরি ও পুরাতন ইতিহাস থেকে জানা গেছে, ১৮৭৩ সালে জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮৫ সালের এপ্রিল মাসে ইংরেজ সরকার জিলা স্কুলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। এর আগে জমিদার ছাতুরাম মজুমদার তার নিজ অর্থ দিয়ে স্কুলের প্রথম পাকা ভবন তৈরি করেন। ওই লাল ভবনেই স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। অনেকের মতে এই লাল ভবন নির্মাণ হয়েছে ১৮৮৩ সালে। তৎকালীন শিক্ষানুরাগী ছাতুরাম মুজমদার ভবনটি নির্মাণ করেন। ওই সময় থেকে এই ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্কুল থেকে জানা গেছে, ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ায় ১৯৯৫ সালে ভবনের মূল কাঠামো ঠিক রেখে ছাদ সংস্কার করা হয়। কিন্তু মাত্র ৮ বছরের মাথায় ছাদ থেকে পানি পড়া শুরু করে। ২০০৫ সালে ভবনটি ব্যবহার বন্ধ করে দেয় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১২ বছর ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম জানান, স্কুল কমিটির সভাপতি ও বিগত জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ভবনটি দেখে সংরক্ষণে উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগেই প্রকল্প তৈরি হয়েছে। ভবনটি সংরক্ষণ করা গেলে ৩০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হবে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।খুলনার সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল আহসান বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে পরিত্যক্ত ভবনটি দেখে জানতে পারি, খুলনার পুরাতন ভবনগুলোর মধ্যে ‘লাল ভবন’ অন্যতম। এটি সংরক্ষণ করা গেলে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি ক্লাসও করানো যাবে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কথা বলেছি। তখন সংরক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। চলতি বছর সেই বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশা করছি, বর্তমান প্রশাসন সুষ্ঠুভাবেই এর কাজ শেষ করবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম পূর্বাঞ্চলকে জানান, ভবনটি সংস্কারের জন্য ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এখন নতুন করে ব্যয় প্রাক্কলন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রথমে আমরা শুধু ছাদ ও দরজা-জানালা সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পরে দেখা গেল, পুরাতন ভবনের সামনে একটি বারান্দা তৈরি করতে হবে। কারণ আগে ভবনের প্রবেশপথ ছিলো পেছনে। এখন প্রবেশের জন্য সামনে দিয়ে দরজা তৈরি করতে হবে। এতে নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসবে। এসব কিছু যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।তিনি বলেন, জেলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি সু-খবর হচ্ছে অচিরেই স্কুলে একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সেই ভবনে লিফট থাকবে।