বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন জানান, অপমৃত্যুজনিত কারণে পুলিশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছে। নিহত আক্তারের বাড়ি মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামে, তিনি স্থানীয় সুলতান হাওলাদারের ছেলে। আজ শুক্রবার দুপুরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে মেমানিয়া ইউনিয়নের ওরাকুল ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হন আক্তার হোসেন। তার জামাতা আবুল বাশার অভিযোগ করেন, টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতেই তার শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে এবং মরদেহে মুখ ও বুকে ছররা গুলির আঘাত রয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলে আবদুল ব্যাপারীর দাবি, বৃহস্পতিবার ভোরে বৃষ্টির মধ্যে নৌকা নিয়ে নদীর কিনারের দিকে যাওয়ার সময় নৌ পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আক্তার হোসেন লুটিয়ে পড়েন। অন্য জেলেদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নৌকায় থাকা জেলে আবদুল ব্যাপারী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার নাজমুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় তাদের কোনো অভিযান ছিল না এবং তারা কোনো গুলিও চালায়নি। একইভাবে চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা বা অভিযান নেই। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদারের ভাষ্যমতে, এলাকাটি দুর্গম এবং চাঁদপুরের কাছাকাছি হওয়ায় গুলির বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট, যা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তবে গুলির ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি বিভিন্নভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহত আক্তারের আত্মীয় হজরত আলী জানান, আহতাবস্থায় তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার সময় সকাল নয়টার দিকে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পার হওয়ার পর তিনি মারা যান। পরে নৌ পুলিশ সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, দেশে ইলিশ প্রজনন রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, বুধবার রাতে তাদের কোনো অভিযানকারী দল নদীতে ছিল না। তাদের স্পিডবোট বিকল থাকায় শেষ দুই দিন ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















