ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬

জাতিসংঘে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদ কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলে বক্তব্য শুরু করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন এবং টেবিলে আঘাত করতে থাকেন। ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কয়েকবার হাতুড়ি ঠুকে প্রতিনিধিদলকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে অধিবেশনটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। ওয়াল্টজ তখন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এটি জাতিসংঘ এবং এটি কোনো কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়, এখানে কেউ তাকে চুপ করাতে পারবে না। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’।

অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর খলিলুর রহমান নিয়ম অনুযায়ী কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন। পরে নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে সদস্যদেশগুলোর প্রতি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তৃতামঞ্চে রদ্রিগেজ পারিল্লা এগিয়ে আসলে ওয়াল্টজ তাকে দূরে সরে যেতে বলেন এবং চিৎকার করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। ঘটনার পর এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ওয়াল্টজ তার ঔদ্ধত্যের কারণে ভুলে গেছেন যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে বা মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসে নেই। তিনি ওয়াল্টজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার তীব্র সমালোচনা করেন। এরপর তিনি কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা কল্পনা করে দেখা উচিত। একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে যান।

উল্লেখ্য, ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বিতর্কিত হয়েছিলেন। গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার সময় ভুলবশত এক সাংবাদিককে সিগন্যাল গ্রুপে যুক্ত করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেও উল্লেখ করেন। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবছরই সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব তোলা হয়। এবারের বিতর্কেও ওয়াশিংটনের অবরোধ নীতির পক্ষে-বিপক্ষে দুই দেশের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে ওয়াল্টজ বড় কোনো বিঘ্ন ছাড়াই তার বক্তব্য শেষ করতে সক্ষম হন। কিউবার বিরুদ্ধে আনা মার্কিন অবরোধের নিন্দা প্রস্তাবের ওপর বুধবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো ঘটনায় জাতিসংঘের কূটনীতিকদের মধ্যে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল, যা সামাল দিতে সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জাতিসংঘে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলালেন খলিলুর রহমান

আপডেট সময় ০৫:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে বার্ষিক বিতর্ক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদ কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলে বক্তব্য শুরু করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লাসহ দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন এবং টেবিলে আঘাত করতে থাকেন। ওয়াল্টজ তখন বলেন, ‘আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কয়েকবার হাতুড়ি ঠুকে প্রতিনিধিদলকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে অধিবেশনটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। ওয়াল্টজ তখন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এটি জাতিসংঘ এবং এটি কোনো কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়, এখানে কেউ তাকে চুপ করাতে পারবে না। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।’।

অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর খলিলুর রহমান নিয়ম অনুযায়ী কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন। পরে নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে সদস্যদেশগুলোর প্রতি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তৃতামঞ্চে রদ্রিগেজ পারিল্লা এগিয়ে আসলে ওয়াল্টজ তাকে দূরে সরে যেতে বলেন এবং চিৎকার করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না। ঘটনার পর এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ওয়াল্টজ তার ঔদ্ধত্যের কারণে ভুলে গেছেন যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে বা মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসে নেই। তিনি ওয়াল্টজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার তীব্র সমালোচনা করেন। এরপর তিনি কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা কল্পনা করে দেখা উচিত। একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে যান।

উল্লেখ্য, ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বিতর্কিত হয়েছিলেন। গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার সময় ভুলবশত এক সাংবাদিককে সিগন্যাল গ্রুপে যুক্ত করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেও উল্লেখ করেন। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবছরই সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব তোলা হয়। এবারের বিতর্কেও ওয়াশিংটনের অবরোধ নীতির পক্ষে-বিপক্ষে দুই দেশের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে ওয়াল্টজ বড় কোনো বিঘ্ন ছাড়াই তার বক্তব্য শেষ করতে সক্ষম হন। কিউবার বিরুদ্ধে আনা মার্কিন অবরোধের নিন্দা প্রস্তাবের ওপর বুধবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো ঘটনায় জাতিসংঘের কূটনীতিকদের মধ্যে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল, যা সামাল দিতে সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।