রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬’। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারের উপযোগী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার মহতী উদ্দেশ্য নিয়ে এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেমিনারের উদ্বোধন করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
এবারের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রম: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তাবোধ গড়ে তোলা’। উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও অগ্রগতি নতুন সব সম্ভাবনা উন্মোচন করছে। তবে এর পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। একইসঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নেতৃত্ব উন্নয়নের ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্ম সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়, যা পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক।
সেমিনারের কলেবর বেশ বিস্তৃত। এতে ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়েসহ মোট ১৮টি দেশের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ দিক হলো, এবারই প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরা এই সেমিনারে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া দেশীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, ফ্লাইং একাডেমি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ, মানবিক উপাদান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং মানব-প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। উদীয়মান ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা ও টেকসই বিমান চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই সেমিনার শেষ হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আলোচনার মাধ্যমে ফ্লাইট নিরাপত্তা উন্নয়নে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















