ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

হত্যার পর লাশ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছর কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পিরোজপুরে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেল চালককে হত্যার পর তার মৃতদেহ গুম করার ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও তার মায়ের ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের একটি আদালত।বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তাজিম (২৮) এবং স্ত্রী রেহানা বেগম (৫০)।

পিরোজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন জানান, জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বয়ারহুলা নামক স্থানে মোটরসাইকেল চালককে হত্যার দায়ে আদালত তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ এবং মৃতদেহ গুমের দায়ে তাজিমের মা রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় রেহানা বেগম উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে পলাতক ছিল বলে জানান পিপি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল তানজিম ও মিলনের সঙ্গে। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলনকেসহ তার মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় তাজিম ও আরেক যুবক। এরপর রাতেও বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকে।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মৃতদেহটি গুম করেছিল বলে জানান আইনজীবী।

এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে নিহত মিলনের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ওই দিনই নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

হত্যার পর লাশ গুম: ছেলের যাবজ্জীবন, মায়ের ৭ বছর কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:২০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পিরোজপুরে ৮ বছর আগে মিলন বাহাদুর নামে এক মোটরসাইকেল চালককে হত্যার পর তার মৃতদেহ গুম করার ঘটনায় ছেলেকে যাবজ্জীবন ও তার মায়ের ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের একটি আদালত।বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. তাজিম (২৮) এবং স্ত্রী রেহানা বেগম (৫০)।

পিরোজপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন জানান, জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বয়ারহুলা নামক স্থানে মোটরসাইকেল চালককে হত্যার দায়ে আদালত তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ এবং মৃতদেহ গুমের দায়ে তাজিমের মা রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় রেহানা বেগম উপস্থিত থাকলেও তার ছেলে পলাতক ছিল বলে জানান পিপি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল তানজিম ও মিলনের সঙ্গে। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে উপজেলার বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে মিলনকেসহ তার মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় তাজিম ও আরেক যুবক। এরপর রাতেও বাড়ি না ফেরায় মিলনকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন তার পরিবার। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকে।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিহত মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিলনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মৃতদেহটি গুম করেছিল বলে জানান আইনজীবী।

এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে নিহত মিলনের বাবা শাহাদাত বাহাদুর ওই দিনই নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক অন্য দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আকন ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।