ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর, দুই চিকিৎসক আহত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর শহরের একটি ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে ডা. অভি। গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. অভিকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মজিবার রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেগমকে জরায়ুজনিত সমস্যার অপারেশনের জন্য ক্লিনিকটিতে ভর্তি করা হয়। সারাদিন পর্যবেক্ষণের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে ডা. অভির ওপর হামলা চালান। পরে ক্লিনিকের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মৃত রোগীর ছেলে নাজমুল রহমান জানান, অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মা চিৎকার করেন। এরপরই তিনি মারা যান। তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ডা. মিজানুর রহমান নাক-কান-গলার চিকিৎসক— তিনি কীভাবে জরায়ুর অপারেশন করেন, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, অপারেশন টেবিলে নেয়ার পর হঠাৎ রোগীর প্যানিক অ্যাটাক হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না।

মেহেরপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী হাসান দিপু জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইভাবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে অভিযোগ দিলে সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কা কোচ: ফারহানের জার্সি আমার, হামজারটার জন্য বাকিরা মারামারি করুক

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর, দুই চিকিৎসক আহত

আপডেট সময় ০২:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর শহরের একটি ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ক্লিনিকের মালিক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে ডা. অভি। গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. অভিকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মজিবার রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেগমকে জরায়ুজনিত সমস্যার অপারেশনের জন্য ক্লিনিকটিতে ভর্তি করা হয়। সারাদিন পর্যবেক্ষণের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে ডা. অভির ওপর হামলা চালান। পরে ক্লিনিকের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মৃত রোগীর ছেলে নাজমুল রহমান জানান, অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মা চিৎকার করেন। এরপরই তিনি মারা যান। তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ডা. মিজানুর রহমান নাক-কান-গলার চিকিৎসক— তিনি কীভাবে জরায়ুর অপারেশন করেন, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, অপারেশন টেবিলে নেয়ার পর হঠাৎ রোগীর প্যানিক অ্যাটাক হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না।

মেহেরপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী হাসান দিপু জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইভাবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে অভিযোগ দিলে সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।