ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়তে চায় ইরান, সৌদি আলোচনা অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপমুক্ত আঞ্চলিক নতুন একটি ব্যবস্থা গড়তে চায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সৌদি আরবের সাথে তেহরানের নিয়মিত সংলাপ ও আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বৈরী সম্পর্ক নেই। এক্ষেত্রে কাতার ও ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

আরাঘচি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছেন। এ সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান তার প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে কোনোভাবেই লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না। তবে অঞ্চলটিতে নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা চালানো হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বসে থাকবে না; বরং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে। শর্তসাপেক্ষে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি দাবি পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধের অবসান, ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাথে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা ও হরমুজ প্রণালি বিষয়ক সমঝোতা যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ থাকলেও, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিপরীতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের নির্দেশনা মানার আহ্বান

বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়তে চায় ইরান, সৌদি আলোচনা অব্যাহত

আপডেট সময় ১০:০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপমুক্ত আঞ্চলিক নতুন একটি ব্যবস্থা গড়তে চায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সৌদি আরবের সাথে তেহরানের নিয়মিত সংলাপ ও আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সাথে ইরানের কোনো বৈরী সম্পর্ক নেই। এক্ষেত্রে কাতার ও ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

আরাঘচি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছেন। এ সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান তার প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে কোনোভাবেই লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না। তবে অঞ্চলটিতে নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা চালানো হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বসে থাকবে না; বরং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে। শর্তসাপেক্ষে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি দাবি পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধের অবসান, ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে ইরান। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সাথে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা ও হরমুজ প্রণালি বিষয়ক সমঝোতা যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ থাকলেও, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিপরীতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।