ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

হরমুজের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত এলাকায় নিজের নৌবাহিনীর জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই পরিকল্পনার আওতায় ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যু দমনের দায়িত্বে নিয়োজিত ‘চেওংহে’ ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। এতে এই ইউনিটের মোট জনবল বেড়ে ৩৯৫ জনে দাঁড়াবে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর তা জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। কেবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিটটি মূলত সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের দায়িত্ব পালন করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তাবনায় ইউনিটটির কর্মএলাকা ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি থেকে এই বন্দরটির দূরত্ব প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিতে এই বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ইউনিটকে শক্তিশালী করতে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণে সক্ষম বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি বছর পার্লামেন্টের অনুমোদনের মাধ্যমেই এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই সামরিক উপস্থিতির উদ্দেশ্য কোনো যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়। কোনো বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এমন কোনো পদক্ষেপও সিউল গ্রহণ করবে না। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে আসছিল সিউল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই স্পষ্ট করেছেন, সেখানে যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠানো হবে না। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যবসায়ীর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ পরীমনির, পেলেন জামিন

হরমুজের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আপডেট সময় ১১:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত এলাকায় নিজের নৌবাহিনীর জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই পরিকল্পনার আওতায় ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যু দমনের দায়িত্বে নিয়োজিত ‘চেওংহে’ ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। এতে এই ইউনিটের মোট জনবল বেড়ে ৩৯৫ জনে দাঁড়াবে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর তা জাতীয় পরিষদে পাঠানো হবে। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেওংহে নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। কেবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিটটি মূলত সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনের দায়িত্ব পালন করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া প্রস্তাবনায় ইউনিটটির কর্মএলাকা ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি থেকে এই বন্দরটির দূরত্ব প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিতে এই বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ইউনিটকে শক্তিশালী করতে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণে সক্ষম বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন ড্রোন প্রযুক্তি এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি বছর পার্লামেন্টের অনুমোদনের মাধ্যমেই এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই সামরিক উপস্থিতির উদ্দেশ্য কোনো যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়। কোনো বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এমন কোনো পদক্ষেপও সিউল গ্রহণ করবে না। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে আসছিল সিউল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই স্পষ্ট করেছেন, সেখানে যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠানো হবে না। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি।