ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

২৭ মাস পর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে ফেরেন অধ্যক্ষ হাতেম আলী

মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাতেম আলী অবশেষে দীর্ঘ ২৭ মাস পর তাঁর স্বপদে বহাল হয়েছেন। আদালত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চূড়ান্ত নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মব জাস্টিস ও পদত্যাগের ঘটনা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট কলেজে একটি মব তৈরি করে অধ্যক্ষ হাতেম আলীকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ওই সময় ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এর পর থেকেই তিনি কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার আদেশ এবং আদালতের নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে তিনি কলেজে যোগদান করতে পারেননি। এ সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের দিয়ে কলেজের প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছিল। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও ফেরা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মন্ত্রণালয় আদেশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১৩ অক্টোবর এক নির্দেশনায় জানায়, হাতেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে স্বপদে বহাল করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এ–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করে। নির্দেশনার আলোকেই ২৬ মাস ১৩ দিন পর কলেজে ফিরে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন হাতেম আলী।

প্রতিষ্ঠান ইতিহাস ও সংবর্ধনা

ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজটি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়েছিল। এমপিওভুক্ত আমল থেকেই হাতেম আলী প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন এবং আত্তীকরণের পরও পদেই বহাল থাকেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি মবের শিকার হন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কলেজের রুটিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক আবদুস সাত্তার সরদার, রমজান আলী ও বেলাল হোসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি কলেজে পৌঁছালে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন তাঁকে পুনরায় চেয়ারে বসিয়ে দেন।

অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া

দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যক্ষ হাতেম আলী বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে আমাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আমাকে পুনরায় দায়িত্ব প্রদান করা হলো। এখন থেকে কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সবার সহযোগিতায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দিয়ে আপত্তিকর ছবি, উদয়ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

২৭ মাস পর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে ফেরেন অধ্যক্ষ হাতেম আলী

আপডেট সময় ০৬:০৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাতেম আলী অবশেষে দীর্ঘ ২৭ মাস পর তাঁর স্বপদে বহাল হয়েছেন। আদালত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চূড়ান্ত নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

মব জাস্টিস ও পদত্যাগের ঘটনা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট কলেজে একটি মব তৈরি করে অধ্যক্ষ হাতেম আলীকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ওই সময় ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এর পর থেকেই তিনি কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার আদেশ এবং আদালতের নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে তিনি কলেজে যোগদান করতে পারেননি। এ সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের দিয়ে কলেজের প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছিল। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও ফেরা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মন্ত্রণালয় আদেশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১৩ অক্টোবর এক নির্দেশনায় জানায়, হাতেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে স্বপদে বহাল করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এ–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করে। নির্দেশনার আলোকেই ২৬ মাস ১৩ দিন পর কলেজে ফিরে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন হাতেম আলী।

প্রতিষ্ঠান ইতিহাস ও সংবর্ধনা

ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজটি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়েছিল। এমপিওভুক্ত আমল থেকেই হাতেম আলী প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন এবং আত্তীকরণের পরও পদেই বহাল থাকেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি মবের শিকার হন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কলেজের রুটিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক আবদুস সাত্তার সরদার, রমজান আলী ও বেলাল হোসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি কলেজে পৌঁছালে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন তাঁকে পুনরায় চেয়ারে বসিয়ে দেন।

অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া

দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যক্ষ হাতেম আলী বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে আমাকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আমাকে পুনরায় দায়িত্ব প্রদান করা হলো। এখন থেকে কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সবার সহযোগিতায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’