রংপুর রেঞ্জে অক্টোবর ২০২৬ মাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করে শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে গাইবান্ধা। সার্বিক কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীনের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, বিপিএম।
সভায় রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন ৮টি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি, মাদক উদ্ধার, পরোয়ানা তামিল, সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং হারানো মোবাইল উদ্ধারের মতো পুলিশি কার্যক্রমের সচিত্র চিত্র তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, অক্টোবর মাসে পুরো রেঞ্জে মোট ১ হাজার ৬৭৭টি মামলা রুজু হয় এবং নিষ্পত্তি করা হয় ১ হাজার ৬৫২টি মামলা।
গত মাসে রেঞ্জজুড়ে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ২৪টি খুন, ১টি ডাকাতি, ৩টি দস্যুতা, ১৩টি অপহরণ এবং ৯৯টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নারী নির্যাতনের ১৬১টি (ধর্ষণ ব্যতীত), শিশু নির্যাতনের ৮টি (ধর্ষণ ব্যতীত), ৬৪টি ধর্ষণ ও ৪টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, একই সময়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার-সংক্রান্ত ৫৬৭টি এবং অন্যান্য অপরাধে আরও ৭২৫টি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা তদন্তের বিষয়ে ডিআইজি রেঞ্জের সব জেলা পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু ও মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনার চিত্রে দেখা যায়, আলোচ্য মাসে মোট ৪৭টি মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে জেলা পুলিশের ৩১টি এবং হাইওয়ে পুলিশের ১৬টি। এসব দুর্ঘটনায় মোট ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪টি দুর্ঘটনা ঘটে ঠাকুরগাঁওয়ে। হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন বড়দরগাহ হাইওয়ে থানায় ঘটে ৮টি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় যুক্ত ৩২টি যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং আসামি করা হয়েছে ৪০ জনকে, যাদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ৩৩ জন পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আসামির সংখ্যা ৪০ জন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাসের শুরুতে রেঞ্জে ৩৪ হাজার ৪০৬টি জিআর ও সিআর পরোয়ানা অনিষ্পন্ন ছিল। অক্টোবরে নতুন করে ৫ হাজার ৬৩৬টি পরোয়ানা যুক্ত হয়। মাসজুড়ে ৫ হাজার ১৯৫টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি করা হলেও মাস শেষে অনিষ্পন্ন পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৮৪৭টিতে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আইন লঙ্ঘনের কারণে ২ হাজার ৮৯৭টি প্রসিকিউশনে মোট ৯১ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৫ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ১ হাজার ৭৫১টি মোবাইল হারানোর জিডি ও মামলার বিপরীতে ৩৪৩টি মোবাইল উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়ে ডিআইজি রংপুর রেঞ্জের সব ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি ও ভাষায় দক্ষ করতে বেসিক কম্পিউটার ও বেসিক ইংলিশ কোর্স চালুর উদ্যোগ ও প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ডিআইজি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আরআরএফের কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রশাসন ও অর্থ শাহ মমতাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি (এসআরটি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ও পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি তানভীর হায়দার চৌধুরী এবং পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড অপারেশনস) বি. এম. আশরাফ উল্যাহ তাহের।
এছাড়াও বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার মো. জসিম উদ্দীন, কুড়িগ্রামের খন্দকার ফজলে রাব্বি, লালমনিরহাটের মো. আসাদুজ্জামান, দিনাজপুরের মো. জেদান আল মুসা, পঞ্চগড়ের মো. আবু সাইম এবং রংপুরের মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। আইইএসটিসির কমান্ড্যান্টদের মধ্যে গাইবান্ধার মো. কামাল হোসেন, লালমনিরহাটের মো. আকবর আলী মুন্সী, দিনাজপুরের আবুল কালেম মো. বাকী বিল্লাহ, ঠাকুরগাঁওয়ের মোছা. শামীমা পারভীন, নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট মাহমুদ নাসের জনিসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর রহমান, মোহসিন ও ডিআইজির স্টাফ অফিসার এএসপি মো. মনজুরুল আলম সভায় অংশ নেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























