ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল মুন্সীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলির নিচে ঢুকে পড়ল বাইক, তিন বন্ধু নিহত বিএনপি ক্ষমতায় এলে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ ‘তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকা দিতে পারিনি, তাই আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে’ যারা চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি-মামলাবাজি করে তাদেরকে ভোট দেবেন না: মান্না এবার বাবরের গণসংযোগে নেমেছেন তৃতীয় লিঙ্গরা মানুষ অনেক কষ্টে রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে ভোটের অধিকার অর্জন করেছে : মির্জা আব্বাস বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকারের রেদওয়ান রাজাকারদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়া যাবে না : আমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান

স্বর্ণের চেয়েও দামি যে কাঠ

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু আপনি জানেন কি এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি? এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।

আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়।

আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।

আগরউড থেকে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে অ্যাকুইলারিয়া নামক সবুজ আগরউড গাছের গায়ে গরম ধাতব রড বা ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করা হয়। এরপর ওই ছিদ্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) প্রবেশ করানো হয়। এই ফাঙ্গাস গাছের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর গাছ সেটিকে বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে গাঢ় কালো রেজিন উৎপন্ন করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই রেজিন গাছের কাঠকে আগরউডে পরিণত করে। এরপর কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে ওউড তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেলই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তৈরির উপাদান। এই তেল প্রতি কেজি ২৫ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।

আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার । টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল

স্বর্ণের চেয়েও দামি যে কাঠ

আপডেট সময় ১১:৪২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু আপনি জানেন কি এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি? এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।

আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়।

আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।

আগরউড থেকে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে অ্যাকুইলারিয়া নামক সবুজ আগরউড গাছের গায়ে গরম ধাতব রড বা ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করা হয়। এরপর ওই ছিদ্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) প্রবেশ করানো হয়। এই ফাঙ্গাস গাছের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর গাছ সেটিকে বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে গাঢ় কালো রেজিন উৎপন্ন করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই রেজিন গাছের কাঠকে আগরউডে পরিণত করে। এরপর কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে ওউড তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেলই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তৈরির উপাদান। এই তেল প্রতি কেজি ২৫ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।

আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার । টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ