ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন সিজারিয়ান সংস্কৃতি কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জোর দিচ্ছে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী গৌরনদীতে একযোগে আড়াইহাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

‘তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকা দিতে পারিনি, তাই আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

‘মিথ্যা রায় দিয়েছে, যারা আগুন লাগিয়েছে তাদের ধরেনি, এটা বিচার করলেন। আমি গরিব মানুষ, গরিবের কেউ নাই, আমি টাকা দিতে পারিনি- তাই, আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে চিৎকার করে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আব্দুল মালেক।

তিনি দাবি করে বলেন, ‘যারা টাকা দিয়েছে, তাদের সাজা সাত-আট বছর। আমি গরিব মানুষ, গরীবের কেউ নাই, আমি টাকা দিতে পারিনি- তদন্তকারী কর্মকর্তা জানে আলমকে। আক্রোশমুলক সে এই কাজ করছে। আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আমি আগুন দেইনি, গুলি করিনি, আমার কাছে শর্টগান ছিল। এই রায় কখনও আশা করিনি। সাব ইন্সপেক্টর মাসুদ আল মামুন আছে, সে কুটি কুটি টাকা নিছে।’

আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগুন দিয়েছে কনস্টেবল মনির, আর কাঠ দিয়েছে কনস্টেবল জুয়েল, তার বাড়ি নড়াইল। আগুন দেওয়া এএসআই মনিরকে সাক্ষী বানানো হয়েছে। আর আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাসাইলো।’

সাবেক এসআই বলেন, ‘আশুলিয়াতে যেয়ে খোঁজ নেন, কে এই কাজ করেছে। আমাকে কেন রাষ্ট্রের বলি বানানো হলো। আমি সাংবাদিক ভাইদের কাছে এর বিচার চাই। আপনারা রাষ্ট্রের বিবেক। এইডা একটু তুইলা ধরেন, খোঁজ নেন। আর যারা টাকা দিতে পারছে, কোন কোন জায়গায় টাকা দিছে; তার বর্ণনা আমি দিতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক এ ঘটনায় জড়িত ছিল। মিথ্যা মামলায় আমাকে কেন সাজা দিলো? আমি তো ওইদিন বেলা ৩টার সময় ডিউটি শেষ করে গেছিগা। ৫টার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের এখানে আনা হয়নি। আল্লাহ বিচার করবে।’

সাবেক এসআই আব্দুল মালেককে আশুলিয়ায় পাঁচ মরদেহ ও একজনকে জীবন্ত পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ট্রাইবুনালের কক্ষের বাইরে এসআই মালেকসহ অন্যরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মালেক। পরে তাকে ধরাধরি করে হাজতখানায় নিয়ে যান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

রায়ের পর আব্দুল মালেকের বড় ভাই টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি মোবাইলের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আশুলিয়া থানা থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিম দিকে কাইচ্ছাবাড়ি নামক স্থান থেকে আহত অবস্থায় আমার ভাইকে উদ্ধার করে নিয়ে টাঙ্গাইলে চলে যাই। সুস্থ হওয়ার পর ৮ আগস্ট পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে সে কাজে যোগদান করে। পুলিশ সুপারের কাছে তার ব্যবহৃত রিভলভার ১০ রাউন্ড গুলিসহ জমা দেয়। এরপর তাদেরকে নবাবগঞ্জ থানায় রাখা হয়।’

তিনি আরও বলেন,‘কিছুদিন থাকার পর তাকে কিশোরগঞ্জে বদলি করা হয়, কটিয়াদীতে ছিল। আমরা ওই এলাকায় অনেক গেছি। যাওয়ার পরে আসলে দেখা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে যে অপরাধী এএসআই মনিরুল ইসলাম সে সাক্ষী দিয়ে গেছে। অথচ সে গাড়িতে আগুন দিয়েছে। জুয়েল নামে যে কনস্টেবল আছে, সেও আগুন দিয়েছে। আমার ভাই ঘটনাস্থলে ছিল না। আমরা এখানে ন্যায়বিচার পাইনি।’

গোলাম হোসেন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম, তিনি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে যারা নির্দোষ মানুষ তাদেরকে অভিযুক্ত করে এই মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন। এই মামলায় তাদের সাজাও দেওয়া হয়েছে। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই জিনিসটাই জানিয়ে দিতে চাই যে, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

‘তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকা দিতে পারিনি, তাই আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে’

আপডেট সময় ১০:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

‘মিথ্যা রায় দিয়েছে, যারা আগুন লাগিয়েছে তাদের ধরেনি, এটা বিচার করলেন। আমি গরিব মানুষ, গরিবের কেউ নাই, আমি টাকা দিতে পারিনি- তাই, আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে চিৎকার করে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আব্দুল মালেক।

তিনি দাবি করে বলেন, ‘যারা টাকা দিয়েছে, তাদের সাজা সাত-আট বছর। আমি গরিব মানুষ, গরীবের কেউ নাই, আমি টাকা দিতে পারিনি- তদন্তকারী কর্মকর্তা জানে আলমকে। আক্রোশমুলক সে এই কাজ করছে। আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আমি আগুন দেইনি, গুলি করিনি, আমার কাছে শর্টগান ছিল। এই রায় কখনও আশা করিনি। সাব ইন্সপেক্টর মাসুদ আল মামুন আছে, সে কুটি কুটি টাকা নিছে।’

আব্দুল মালেক বলেন, ‘আগুন দিয়েছে কনস্টেবল মনির, আর কাঠ দিয়েছে কনস্টেবল জুয়েল, তার বাড়ি নড়াইল। আগুন দেওয়া এএসআই মনিরকে সাক্ষী বানানো হয়েছে। আর আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাসাইলো।’

সাবেক এসআই বলেন, ‘আশুলিয়াতে যেয়ে খোঁজ নেন, কে এই কাজ করেছে। আমাকে কেন রাষ্ট্রের বলি বানানো হলো। আমি সাংবাদিক ভাইদের কাছে এর বিচার চাই। আপনারা রাষ্ট্রের বিবেক। এইডা একটু তুইলা ধরেন, খোঁজ নেন। আর যারা টাকা দিতে পারছে, কোন কোন জায়গায় টাকা দিছে; তার বর্ণনা আমি দিতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক এ ঘটনায় জড়িত ছিল। মিথ্যা মামলায় আমাকে কেন সাজা দিলো? আমি তো ওইদিন বেলা ৩টার সময় ডিউটি শেষ করে গেছিগা। ৫টার সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের এখানে আনা হয়নি। আল্লাহ বিচার করবে।’

সাবেক এসআই আব্দুল মালেককে আশুলিয়ায় পাঁচ মরদেহ ও একজনকে জীবন্ত পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ট্রাইবুনালের কক্ষের বাইরে এসআই মালেকসহ অন্যরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মালেক। পরে তাকে ধরাধরি করে হাজতখানায় নিয়ে যান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

রায়ের পর আব্দুল মালেকের বড় ভাই টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি মোবাইলের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আশুলিয়া থানা থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিম দিকে কাইচ্ছাবাড়ি নামক স্থান থেকে আহত অবস্থায় আমার ভাইকে উদ্ধার করে নিয়ে টাঙ্গাইলে চলে যাই। সুস্থ হওয়ার পর ৮ আগস্ট পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে সে কাজে যোগদান করে। পুলিশ সুপারের কাছে তার ব্যবহৃত রিভলভার ১০ রাউন্ড গুলিসহ জমা দেয়। এরপর তাদেরকে নবাবগঞ্জ থানায় রাখা হয়।’

তিনি আরও বলেন,‘কিছুদিন থাকার পর তাকে কিশোরগঞ্জে বদলি করা হয়, কটিয়াদীতে ছিল। আমরা ওই এলাকায় অনেক গেছি। যাওয়ার পরে আসলে দেখা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে যে অপরাধী এএসআই মনিরুল ইসলাম সে সাক্ষী দিয়ে গেছে। অথচ সে গাড়িতে আগুন দিয়েছে। জুয়েল নামে যে কনস্টেবল আছে, সেও আগুন দিয়েছে। আমার ভাই ঘটনাস্থলে ছিল না। আমরা এখানে ন্যায়বিচার পাইনি।’

গোলাম হোসেন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম, তিনি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে যারা নির্দোষ মানুষ তাদেরকে অভিযুক্ত করে এই মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন। এই মামলায় তাদের সাজাও দেওয়া হয়েছে। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই জিনিসটাই জানিয়ে দিতে চাই যে, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।