ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

সমুদ্রে ভেসে যাওয়া মা, ভাই-বোনকে বাঁচাতে সাঁতরে ৪ কিমি পাড়ি দিল কিশোর

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে এক অভাবনীয় বীরত্বের সাক্ষী হলো বিশ্ব। উত্তাল সমুদ্রে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ভাই-বোনকে বাঁচাতে টানা কয়েক ঘণ্টা সাঁতরে কূলে ফিরে উদ্ধার অভিযান শুরু করিয়ে এক ‘অলৌকিক’ নজির গড়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। উদ্ধারকারীরা তাকে ‘সুপারহিউম্যান’ বা অতিমানবীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত শুক্রবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জিওগ্রাফ বে-তে প্যাডেলবোর্ডিং এবং কায়াকিং করতে নেমেছিল একটি পরিবার। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটায় তাদের ইনফ্ল্যাটেবল (বাতাসে ফোলানো) নৌকা ও বোর্ডগুলো মাঝসমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। কূলে ফেরার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে বিপদ বুঝতে পেরে পরিবারের বড় ছেলেটি সাহায্যের খোঁজে তীরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরুতে সে কায়াক নিয়ে তীরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মাঝপথে সেটিতে পানি ঢুকে ডুবে যেতে শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে লাইফ জ্যাকেট পরেই সাঁতার শুরু করে ওই কিশোর। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে লাইফ জ্যাকেট পরে এগোতে বেগ পেতে হওয়ায় একপর্যায়ে সে জ্যাকেটটি খুলে ফেলে। প্রায় ৪ কিলোমিটার (২ নটিক্যাল মাইল) পথ দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে সাঁতরে অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সে কুইন্ডালআপ সৈকতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তীরে পৌঁছেই সে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে বিষয়টি জানায়। দ্রুত শুরু হয় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান।

পুলিশ ও ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের সদস্যরা হেলিকপ্টার এবং জলযান নিয়ে সমুদ্রে নামেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি প্যাডেলবোর্ড আঁকড়ে ধরে থাকা অবস্থায় ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়েটিকে খুঁজে পায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

ন্যাচারালেস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ-এর কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড বলেন, এই কিশোরের সাহস ও শারীরিক সক্ষমতা অবিশ্বাস্য। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া দুই ঘণ্টা সাঁতরে কূলে আসাটা এককথায় ‘সুপারহিউম্যান’ কাজ।

ইন্সপেক্টর জেমস ব্রাডলি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে এটি তার বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, ওই কিশোরের দৃঢ় সংকল্প আর সাহসিকতা না থাকলে আজ আমরা হয়তো এক মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনতাম। তবে পরিবারের বাকিরা লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে টিকে থাকতে পেরেছেন।

উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন। সুস্থ হয়েই পুরো পরিবার উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

সমুদ্রে ভেসে যাওয়া মা, ভাই-বোনকে বাঁচাতে সাঁতরে ৪ কিমি পাড়ি দিল কিশোর

আপডেট সময় ১১:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে এক অভাবনীয় বীরত্বের সাক্ষী হলো বিশ্ব। উত্তাল সমুদ্রে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ভাই-বোনকে বাঁচাতে টানা কয়েক ঘণ্টা সাঁতরে কূলে ফিরে উদ্ধার অভিযান শুরু করিয়ে এক ‘অলৌকিক’ নজির গড়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর। উদ্ধারকারীরা তাকে ‘সুপারহিউম্যান’ বা অতিমানবীয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত শুক্রবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জিওগ্রাফ বে-তে প্যাডেলবোর্ডিং এবং কায়াকিং করতে নেমেছিল একটি পরিবার। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বাতাসের ঝাপটায় তাদের ইনফ্ল্যাটেবল (বাতাসে ফোলানো) নৌকা ও বোর্ডগুলো মাঝসমুদ্রের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। কূলে ফেরার সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে বিপদ বুঝতে পেরে পরিবারের বড় ছেলেটি সাহায্যের খোঁজে তীরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরুতে সে কায়াক নিয়ে তীরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মাঝপথে সেটিতে পানি ঢুকে ডুবে যেতে শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে লাইফ জ্যাকেট পরেই সাঁতার শুরু করে ওই কিশোর। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে লাইফ জ্যাকেট পরে এগোতে বেগ পেতে হওয়ায় একপর্যায়ে সে জ্যাকেটটি খুলে ফেলে। প্রায় ৪ কিলোমিটার (২ নটিক্যাল মাইল) পথ দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে সাঁতরে অবশেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সে কুইন্ডালআপ সৈকতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তীরে পৌঁছেই সে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে বিষয়টি জানায়। দ্রুত শুরু হয় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান।

পুলিশ ও ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের সদস্যরা হেলিকপ্টার এবং জলযান নিয়ে সমুদ্রে নামেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি প্যাডেলবোর্ড আঁকড়ে ধরে থাকা অবস্থায় ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়েটিকে খুঁজে পায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

ন্যাচারালেস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ-এর কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড বলেন, এই কিশোরের সাহস ও শারীরিক সক্ষমতা অবিশ্বাস্য। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া দুই ঘণ্টা সাঁতরে কূলে আসাটা এককথায় ‘সুপারহিউম্যান’ কাজ।

ইন্সপেক্টর জেমস ব্রাডলি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে এটি তার বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, ওই কিশোরের দৃঢ় সংকল্প আর সাহসিকতা না থাকলে আজ আমরা হয়তো এক মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনতাম। তবে পরিবারের বাকিরা লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে টিকে থাকতে পেরেছেন।

উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন। সুস্থ হয়েই পুরো পরিবার উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।