ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল মুন্সীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রলির নিচে ঢুকে পড়ল বাইক, তিন বন্ধু নিহত বিএনপি ক্ষমতায় এলে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ ‘তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকা দিতে পারিনি, তাই আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে’ যারা চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি-মামলাবাজি করে তাদেরকে ভোট দেবেন না: মান্না এবার বাবরের গণসংযোগে নেমেছেন তৃতীয় লিঙ্গরা মানুষ অনেক কষ্টে রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে ভোটের অধিকার অর্জন করেছে : মির্জা আব্বাস বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকারের রেদওয়ান রাজাকারদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়া যাবে না : আমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান

১৭শ’ বছর ধরে টিকে আছে যে বিস্ময়কর স্থাপনা

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী অনুরাধাপুরার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা জেতবনরামায়া কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপত্য নয় বরং এটি প্রাচীন প্রকৌশল বিদ্যার বিস্ময়কর নিদর্শনও। আজ থেকে প্রায় সতেরোশ বছর আগে ৩০১ খ্রিস্টাব্দে এই বিশালাকার স্তূপটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। সেসময় এটি ছিল উচ্চতার দিক থেকে মিশরের গিজার পিরামিডগুলোর ঠিক পরেই, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্থাপনা।

প্রায় সাড়ে নয় কোটি পোড়া মাটির ইট দিয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি আজও বিশ্বের বৃহত্তম ইটের তৈরি কাঠামো হিসেবে স্বীকৃত। ঐতিহাসিকদের মতে, এই স্তূপটি তৈরিতে যে পরিমাণ ইট ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে নিউইয়র্ক থেকে পিটসবার্গ পর্যন্ত দীর্ঘ বিশাল প্রাচীর অনায়াসেই তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করছে প্রকৌশল বিদ্যা। আর সেই প্রাচীন যুগে তৈরি স্থাপনা কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই কীভাবে এমন শত শত বছর ধরে টিকে আছে, তা আজও গবেষকদের রীতিমতো অবাক করে দেয়।

বৌদ্ধ ধর্ম ভারতের বাইরে প্রথম যেখানে শিকড় গেড়েছিল সেই পবিত্র ভূমিই অনুরাধাপুরা। পূর্ণিমার দিনগুলোতে এখানে এলে দেখা যায় সাদা পোশাকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এবং গেরুয়া বসনধারী ভিক্ষুদের পদচারণা।

গত দুই হাজার বছর ধরে এখানে পূজা ও আচারের ধারা প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। জেতবনরামায়া মূলত বিশাল মঠ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখানে এক সময় কয়েকশ ভিক্ষু বসবাস করতেন। এই পুরো মঠ এলাকাটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছিল যাতে ভিক্ষুরা তাদের ঘর থেকে বের হলেই প্রথমে স্তূপটির দেখা পান। যা তাদের নিরন্তর ভক্তি ও মহাজাগতিক শৃঙ্খলার কথা মনে করিয়ে দিত। তবে এই স্থাপত্যের ইতিহাস সবসময় মসৃণ ছিল না। এটি নির্মাণের সময় স্থানীয় রক্ষণশীল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে কিছুটা বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পটপরিবর্তনের কারণে এই স্থাপনাটি অবহেলার শিকার হয়।

সময়ের বিবর্তনে এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক সময় এই বিশাল স্থাপনাটি জঙ্গলে ঢাকা পড়ে। আদি উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফুট থাকলেও এখন এটি ধ্বংসাবশেষ এবং সংস্কারের পর প্রায় ২৩৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। মাটির ইটের তৈরি হওয়ায় পাথর দিয়ে নির্মিত পিরামিডের চেয়ে এটি প্রকৃতির সাথে লড়াইয়ে অনেক বেশি নাজুক ছিল। তবুও টিকে থাকার এই লড়াই প্রমাণ করে যে তৎকালীন স্থপতিরা কতটা দক্ষ ছিলেন। শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, লক্ষ লক্ষ ইট পরিবহন এবং সেগুলো নিখুঁতভাবে বসানোর প্রক্রিয়াটি ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক থাকবেন না: দ্য উইককে ফখরুল

১৭শ’ বছর ধরে টিকে আছে যে বিস্ময়কর স্থাপনা

আপডেট সময় ১১:৪৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী অনুরাধাপুরার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা জেতবনরামায়া কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপত্য নয় বরং এটি প্রাচীন প্রকৌশল বিদ্যার বিস্ময়কর নিদর্শনও। আজ থেকে প্রায় সতেরোশ বছর আগে ৩০১ খ্রিস্টাব্দে এই বিশালাকার স্তূপটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। সেসময় এটি ছিল উচ্চতার দিক থেকে মিশরের গিজার পিরামিডগুলোর ঠিক পরেই, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্থাপনা।

প্রায় সাড়ে নয় কোটি পোড়া মাটির ইট দিয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি আজও বিশ্বের বৃহত্তম ইটের তৈরি কাঠামো হিসেবে স্বীকৃত। ঐতিহাসিকদের মতে, এই স্তূপটি তৈরিতে যে পরিমাণ ইট ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে নিউইয়র্ক থেকে পিটসবার্গ পর্যন্ত দীর্ঘ বিশাল প্রাচীর অনায়াসেই তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করছে প্রকৌশল বিদ্যা। আর সেই প্রাচীন যুগে তৈরি স্থাপনা কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই কীভাবে এমন শত শত বছর ধরে টিকে আছে, তা আজও গবেষকদের রীতিমতো অবাক করে দেয়।

বৌদ্ধ ধর্ম ভারতের বাইরে প্রথম যেখানে শিকড় গেড়েছিল সেই পবিত্র ভূমিই অনুরাধাপুরা। পূর্ণিমার দিনগুলোতে এখানে এলে দেখা যায় সাদা পোশাকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এবং গেরুয়া বসনধারী ভিক্ষুদের পদচারণা।

গত দুই হাজার বছর ধরে এখানে পূজা ও আচারের ধারা প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। জেতবনরামায়া মূলত বিশাল মঠ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখানে এক সময় কয়েকশ ভিক্ষু বসবাস করতেন। এই পুরো মঠ এলাকাটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছিল যাতে ভিক্ষুরা তাদের ঘর থেকে বের হলেই প্রথমে স্তূপটির দেখা পান। যা তাদের নিরন্তর ভক্তি ও মহাজাগতিক শৃঙ্খলার কথা মনে করিয়ে দিত। তবে এই স্থাপত্যের ইতিহাস সবসময় মসৃণ ছিল না। এটি নির্মাণের সময় স্থানীয় রক্ষণশীল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে কিছুটা বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পটপরিবর্তনের কারণে এই স্থাপনাটি অবহেলার শিকার হয়।

সময়ের বিবর্তনে এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক সময় এই বিশাল স্থাপনাটি জঙ্গলে ঢাকা পড়ে। আদি উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফুট থাকলেও এখন এটি ধ্বংসাবশেষ এবং সংস্কারের পর প্রায় ২৩৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। মাটির ইটের তৈরি হওয়ায় পাথর দিয়ে নির্মিত পিরামিডের চেয়ে এটি প্রকৃতির সাথে লড়াইয়ে অনেক বেশি নাজুক ছিল। তবুও টিকে থাকার এই লড়াই প্রমাণ করে যে তৎকালীন স্থপতিরা কতটা দক্ষ ছিলেন। শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, লক্ষ লক্ষ ইট পরিবহন এবং সেগুলো নিখুঁতভাবে বসানোর প্রক্রিয়াটি ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।