ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শ্যুটারসহ গ্রেফতার ৩ নির্বাচন বানচালে সীমান্তের ওপারে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: আদিলুর রহমান উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪ অধ্যাদেশ অনুমোদন ভারতের দালাল পাকিস্তানের দালাল, এসব বলা বাদ দিতে হবে: (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করছে : টুকু ঋণের বিনিময়ে যুদ্ধবিমান লেনদেনে আলোচনায় সৌদি-পাকিস্তান ‘দুষ্কৃতকারীরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত’: মির্জা ফখরুল আজকের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হবে আগামী ১০ বছর: তামিম ইকবাল নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে : ইইউ পর্যবেক্ষণ প্রধান ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশ

বড় ব্যবধানেই অ্যাশেজ জয়ের উল্লাসে মাতলো অস্ট্রেলিয়া

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

অ্যাশেজ সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম তিন টেস্ট জিতেই। বক্সিং ডে টেস্টে হেরে একটু হয়েছিল ছন্দপতন। সিডনিতে আবার তারা আপন চেহারায়। শেষ টেস্টের শেষ দিনে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে স্মরণীয় করে রাখল তারা সিরিজ জয়।

এরপর কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে অ্যাশেজের ‘ভস্মাধার’ বুঝে নিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে দলীয় উদযাপনে শামিল হলেন নিয়মিত অধিনায়ক কামিন্স। চোটের কারণে বাইরে থাকা ন্যাথান লায়নও সঙ্গী হলেন সতীর্থদের। সবাই মিলেই চলল অ্যাশেজ জয়ের উৎসব। ইতিহাস, ঐতিহ্য, আভিজাত্য, মর্যাদা ও নানা পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাছে অ্যাশেজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্ভবত সেই। সেই লড়াইয়ে দাপট ধরে রেখেই এবার ৪-১ ব্যবধানে জিতে সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।

উল্লাসের মাঝে ছিল বিদায়ের রাগিনীও। উসমান খাওয়াজার ১৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিন এটি। শেষ ইনিংসে খুব ভালো করতে পারেননি। তবে দর্শকদের তুমুল করতালি, সতীর্থরা আর প্রতিপক্ষের শুভেচ্ছায় ব্যাট উঁচিয়ে মাঠেই সিজদা দিয়ে শেষবারের মতো ছেড়ে যান তিনি মাঠ।

ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল চতুর্থ দিনে। অসাধারণ খেলে জেকব বেথেল টিকে ছিলেস বলে ইংল্যান্ডের লড়াইয়ের আশা টিকে ছিল। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিতে দেড়শ ছাড়িয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার। কিন্তু এরপর আর এগোতে পারেননি বেশ দূর। দলও পারেনি লড়াই জমাতে। শেষ দিনে শেষ দুই উইকেটে যোগ করতে পারে তারা ৪০ রান।

১৬০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে আগ্রাসী শুরুর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদেরকে খুব বিপদে মনে হয়নি কখনোই। পাঁচ উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি পাঁচে বেশি রান তুলে জিতে যায় তারা দ্বিতীয় সেশনেই।

কৌতূহল ছিল ম্যান অব দা সিরিজ নিয়ে। বোলারদের দাপটের সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৬২.৯০ গড় ও অবিশ্বাস্যভাবে ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করেছেন ট্রাভিস হেড। সিরিজে চারশর বেশি রান নেই আর কারও। অবিস্মরণীয় বোলিংয়ে সিরিজে ৩১ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ক্যারিয়ারের এই প্রথম পেলেন তিনি এক সিরিজে ২৫টির বেশি উইকেট। এই সিরিজে ২২টির বেশি উইকেট নেই আর কারও।

লড়াইটা ছিল দুজনেরই। ১৬৩ ও ২৯ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হন হেড। ৩১ উইকেটের সঙ্গে ১৫৬ রান করে সিরিজ সেরার কম্পটন-মিলার ট্রফি শেষ পর্যন্ত পেয়ে যান স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার পরের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে অপেক্ষা অনেক দিনের, আগামী অগাস্টে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৮৪

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৬৭

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩৪২

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৬০) ৩১.২ ওভারে ১৬১/৫ (হেড ২৯, ওয়েদেরল্ড ৪০, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ১২, খাওয়াজা ৬, কেয়ারি ১৬*, গ্রিন ২২*; কার্স ৮-০-৫১-০, টং ১১-০-৪২-৩, বেথেল ৩-০-১৬-০, জ্যাকস ৬.২-১-৪২-১, রুট ৩-১-৬-০)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ট্রাভিস হেড।

ম্যাচ অব দা সিরিজ: মিচেল স্টার্ক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুছাব্বির হত্যার ঘটনায় প্রধান শ্যুটারসহ গ্রেফতার ৩

বড় ব্যবধানেই অ্যাশেজ জয়ের উল্লাসে মাতলো অস্ট্রেলিয়া

আপডেট সময় ১১:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

অ্যাশেজ সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম তিন টেস্ট জিতেই। বক্সিং ডে টেস্টে হেরে একটু হয়েছিল ছন্দপতন। সিডনিতে আবার তারা আপন চেহারায়। শেষ টেস্টের শেষ দিনে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে স্মরণীয় করে রাখল তারা সিরিজ জয়।

এরপর কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে অ্যাশেজের ‘ভস্মাধার’ বুঝে নিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে দলীয় উদযাপনে শামিল হলেন নিয়মিত অধিনায়ক কামিন্স। চোটের কারণে বাইরে থাকা ন্যাথান লায়নও সঙ্গী হলেন সতীর্থদের। সবাই মিলেই চলল অ্যাশেজ জয়ের উৎসব। ইতিহাস, ঐতিহ্য, আভিজাত্য, মর্যাদা ও নানা পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাছে অ্যাশেজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্ভবত সেই। সেই লড়াইয়ে দাপট ধরে রেখেই এবার ৪-১ ব্যবধানে জিতে সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।

উল্লাসের মাঝে ছিল বিদায়ের রাগিনীও। উসমান খাওয়াজার ১৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিন এটি। শেষ ইনিংসে খুব ভালো করতে পারেননি। তবে দর্শকদের তুমুল করতালি, সতীর্থরা আর প্রতিপক্ষের শুভেচ্ছায় ব্যাট উঁচিয়ে মাঠেই সিজদা দিয়ে শেষবারের মতো ছেড়ে যান তিনি মাঠ।

ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল চতুর্থ দিনে। অসাধারণ খেলে জেকব বেথেল টিকে ছিলেস বলে ইংল্যান্ডের লড়াইয়ের আশা টিকে ছিল। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিতে দেড়শ ছাড়িয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার। কিন্তু এরপর আর এগোতে পারেননি বেশ দূর। দলও পারেনি লড়াই জমাতে। শেষ দিনে শেষ দুই উইকেটে যোগ করতে পারে তারা ৪০ রান।

১৬০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে আগ্রাসী শুরুর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদেরকে খুব বিপদে মনে হয়নি কখনোই। পাঁচ উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি পাঁচে বেশি রান তুলে জিতে যায় তারা দ্বিতীয় সেশনেই।

কৌতূহল ছিল ম্যান অব দা সিরিজ নিয়ে। বোলারদের দাপটের সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৬২.৯০ গড় ও অবিশ্বাস্যভাবে ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করেছেন ট্রাভিস হেড। সিরিজে চারশর বেশি রান নেই আর কারও। অবিস্মরণীয় বোলিংয়ে সিরিজে ৩১ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ক্যারিয়ারের এই প্রথম পেলেন তিনি এক সিরিজে ২৫টির বেশি উইকেট। এই সিরিজে ২২টির বেশি উইকেট নেই আর কারও।

লড়াইটা ছিল দুজনেরই। ১৬৩ ও ২৯ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হন হেড। ৩১ উইকেটের সঙ্গে ১৫৬ রান করে সিরিজ সেরার কম্পটন-মিলার ট্রফি শেষ পর্যন্ত পেয়ে যান স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার পরের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে অপেক্ষা অনেক দিনের, আগামী অগাস্টে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৮৪

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৬৭

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩৪২

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৬০) ৩১.২ ওভারে ১৬১/৫ (হেড ২৯, ওয়েদেরল্ড ৪০, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ১২, খাওয়াজা ৬, কেয়ারি ১৬*, গ্রিন ২২*; কার্স ৮-০-৫১-০, টং ১১-০-৪২-৩, বেথেল ৩-০-১৬-০, জ্যাকস ৬.২-১-৪২-১, রুট ৩-১-৬-০)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ট্রাভিস হেড।

ম্যাচ অব দা সিরিজ: মিচেল স্টার্ক।