আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
চট্টগ্রামে ১২ বছরের শিশু শ্রাবন্তী ঘোষকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বাড়ির মালিক ও এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরের খুলশী থানার ভান্ডারী মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে রোববার ভোর রাতে লালখানবাজার ট্যাংকির পাহাড়ের বাসা থেকে শিশু শ্রাবন্তী ঘোষের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তাদের মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বাড়ির মালিক প্রদীপ লাল ঘোষ (৫২) ও প্রতিবেশী অজয় সিংহের (২৫) নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের মা রোজী ঘোষ।
র্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাওহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনাস্থলে ছিল বলে স্বীকার করেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
নিহত শ্রাবন্তীর মা রোজী ঘোষ জানান, তিনি ও তার স্বামী দু’জনেই কর্মজীবী। তার স্বামী কর্মস্থল থেকে সপ্তাহে একবার বাসায় আসেন। দিনে সন্তানরা কাছাকাছি এলাকায় দাদার বাড়িতে থাকত। ঘটনার দিন রাতে শ্রাবন্তী একাই রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। সে সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দাদা ছোট ছেলেকে নিয়ে বাসায় এসে দরজা খোলা পান। ভেতরে ঢুকে শ্রাবন্তীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন। সাধারণত তিনি কর্মস্থলে দুপুরে কর্মস্থলে যান। রাত ১টার দিকে বাসায় ফেরেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোজী ঘোষ বলেন, আমার মেয়ে খুবই সরল ছিল। সে ছোট, আত্মহত্যা সম্পর্কে কিছুই জানত না। তার পা বিছানার সঙ্গে লাগানো ছিল, যা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। যাদের সন্দেহ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।
নিহতের বাবা তপন ঘোষ বলেন, কেউ না থাকলে সাধারণত আমার মেয়ে বাসায় একা থাকে না। রাতে কিংবা দিনে জমিদার পানি ছাড়লে তখন তা সংরক্ষণের জন্য বাসায় ফিরে। সেদিন রাতেও হয়তো পানি সংরক্ষণের জন্য বাসায় ফিরেছিল।
খুলশী থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রাবন্তীর মরদেহ ঘরের ভেতরে বাঁশের ছাদে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করেছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় আছি। পাশাপাশি যেসব অভিযোগ আসছে সে-সংক্রান্ত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়েছে। সেগুলোর প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
নিহত শিশু শ্রাবন্তী ঘোষ লালখানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা তপন ঘোষ চট্টগ্রামের কেইপিজেডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত এবং মা রোজী ঘোষ কালুরঘাট এলাকার ফোর এইচ গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পরিবারটি ওই এলাকার প্রদীপ ঘোষের মালিকানাধীন ঘরের নিচতলায় এক কক্ষের ভাড়া বাসায় বসবাস করে। একই ভবনের নিচতলায় দুইটি হিন্দু, দুইটি মুসলিম ও একটি খ্রিষ্টান পরিবার বসবাস করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















