ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন, ফায়ার ফাইটারসহ আহত ৫ দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস

ঋণের বিনিময়ে যুদ্ধবিমান লেনদেনে আলোচনায় সৌদি-পাকিস্তান

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ঋণের বিনিময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিমান লেনদেনের পথে আগাচ্ছে পাকিস্তান। মূলত ঋণের বোঝা কাটিয়ে উঠতে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানকে কাজে লাগানোর এই কৌশল নিচ্ছে পাকিস্তান।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদের একাধিক সূত্র অনুযায়ী- ২০০ কোটি ডলার ঋণের বিনিময়ে সৌদি আরবকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। যা গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর সামরিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অঙ্গীকার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে সৌদি আরব।

সূত্রের তথ্যমতে, আলোচনার মূল বিষয় হলো পাকিস্তানে উৎপাদিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা।

একটি সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার বিদ্যমান সৌদি ঋণ রূপান্তর করা হবে এবং অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামে।

গত সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়- এক দেশে আক্রমণ উভয় দেশের হিসেবে গণ্য হবে। এটি কয়েক দশকের পুরোনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব সফরে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদের মতে, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কারণ এটি যুদ্ধে পরীক্ষিত এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচের। পাকিস্তানের দাবি, গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে এই বিমান ব্যবহার করা হয়।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০১৮ সালে রিয়াদ ইসলামাবাদকে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ দেয়, যার মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও তেল সরবরাহ। পরবর্তীতে সৌদি আরব একাধিকবার আমানতের মেয়াদ বাড়িয়ে পাকিস্তানকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সামাল দিতে সাহায্য করেছে।

বর্তমানে পাকিস্তান ৭০০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। দেশটির নেতৃত্ব আশা করছে, প্রতিরক্ষা শিল্পের রফতানি বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান অস্ত্র রফতানিতে জোর দিয়েছে। লিবিয়ার একটি পক্ষের সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা- সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে জেএফ-১৭ চুক্তি শুধু সামরিক নয় বরং পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ঋণের বিনিময়ে যুদ্ধবিমান লেনদেনে আলোচনায় সৌদি-পাকিস্তান

আপডেট সময় ১০:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ঋণের বিনিময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিমান লেনদেনের পথে আগাচ্ছে পাকিস্তান। মূলত ঋণের বোঝা কাটিয়ে উঠতে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানকে কাজে লাগানোর এই কৌশল নিচ্ছে পাকিস্তান।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদের একাধিক সূত্র অনুযায়ী- ২০০ কোটি ডলার ঋণের বিনিময়ে সৌদি আরবকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। যা গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর সামরিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অঙ্গীকার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে সৌদি আরব।

সূত্রের তথ্যমতে, আলোচনার মূল বিষয় হলো পাকিস্তানে উৎপাদিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা।

একটি সূত্রের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার বিদ্যমান সৌদি ঋণ রূপান্তর করা হবে এবং অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামে।

গত সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়- এক দেশে আক্রমণ উভয় দেশের হিসেবে গণ্য হবে। এটি কয়েক দশকের পুরোনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব সফরে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও বিশ্লেষক আমির মাসুদের মতে, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কারণ এটি যুদ্ধে পরীক্ষিত এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচের। পাকিস্তানের দাবি, গত বছর ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে এই বিমান ব্যবহার করা হয়।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০১৮ সালে রিয়াদ ইসলামাবাদকে ৬০০ কোটি ডলারের সহায়তা প্যাকেজ দেয়, যার মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত ও তেল সরবরাহ। পরবর্তীতে সৌদি আরব একাধিকবার আমানতের মেয়াদ বাড়িয়ে পাকিস্তানকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সামাল দিতে সাহায্য করেছে।

বর্তমানে পাকিস্তান ৭০০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। দেশটির নেতৃত্ব আশা করছে, প্রতিরক্ষা শিল্পের রফতানি বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান অস্ত্র রফতানিতে জোর দিয়েছে। লিবিয়ার একটি পক্ষের সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা- সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে জেএফ-১৭ চুক্তি শুধু সামরিক নয় বরং পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।