ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

গণপরিবহন চালুর দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া লকডাউনে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। ফলে পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চালুর দাবিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এসব দাবি আদায়ে আগামী রবিবার সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিক্ষোভ ছাড়াও আগামী ৪ মে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলদেশের প্রায় ৭৫ ভাগ যাত্রী ও ৬৫ ভাগ পণ্য সড়ক পথে সড়ক পরিবহন হয়ে থাকে। প্রতিদিন কয়েক কোটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের কাজে ৫০ লাখ শ্রমিক দিনরাত কাজ করে থাকে। পরিবহন শ্রমিকরা গণমানুষের সংস্পর্শে থাকায় তারা যেমন সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে তেমনি যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। সেই বিবেচনায় গণপরিবহন বন্ধ রাখা যুক্তিসঙ্গত। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকার নিশ্চয়তা বিধানের কথাও ভাবা দরকার। জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে জীবিকারও প্রয়োজন রয়েছে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমরা লকডাউন বিরোধিতা করছি না। কথা ছিল লকডাউনের সময় মানুষের চলাচল, শ্রম ঘন শিল্প, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোট-কাচারি সব বন্ধ থাকবে। সেই হিসেবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলে পরিবহন শ্রমিকের কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে লকডাউন শিথিল করায় গার্মেন্টস, শপিংমল, কাঁচা বাজার, অফিস আদালত চলছে।’

ওসমান আলী বলেন, বর্তমান লকডাউনের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা উপায়হীন হয়ে পরিবহন সেক্টরের জন্য সরকারের থোক বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং সারাদেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় ওএমএস’এর চাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২ মে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৪ মে সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহসভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু, শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ ছদু, মফিজুল হক, হুমায়ুন কবির খান, আব্বাস উদ্দিন বেপু উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পাঠ্যবই বিতর্ক: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি, গচ্চা ১৭ কোটি টাকা

গণপরিবহন চালুর দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

আপডেট সময় ০৪:০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া লকডাউনে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। ফলে পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চালুর দাবিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এসব দাবি আদায়ে আগামী রবিবার সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিক্ষোভ ছাড়াও আগামী ৪ মে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হবে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলদেশের প্রায় ৭৫ ভাগ যাত্রী ও ৬৫ ভাগ পণ্য সড়ক পথে সড়ক পরিবহন হয়ে থাকে। প্রতিদিন কয়েক কোটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের কাজে ৫০ লাখ শ্রমিক দিনরাত কাজ করে থাকে। পরিবহন শ্রমিকরা গণমানুষের সংস্পর্শে থাকায় তারা যেমন সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে তেমনি যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। সেই বিবেচনায় গণপরিবহন বন্ধ রাখা যুক্তিসঙ্গত। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকার নিশ্চয়তা বিধানের কথাও ভাবা দরকার। জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে জীবিকারও প্রয়োজন রয়েছে।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমরা লকডাউন বিরোধিতা করছি না। কথা ছিল লকডাউনের সময় মানুষের চলাচল, শ্রম ঘন শিল্প, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোট-কাচারি সব বন্ধ থাকবে। সেই হিসেবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলে পরিবহন শ্রমিকের কোনও আপত্তি ছিল না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে লকডাউন শিথিল করায় গার্মেন্টস, শপিংমল, কাঁচা বাজার, অফিস আদালত চলছে।’

ওসমান আলী বলেন, বর্তমান লকডাউনের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা উপায়হীন হয়ে পরিবহন সেক্টরের জন্য সরকারের থোক বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং সারাদেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় ওএমএস’এর চাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২ মে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৪ মে সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহসভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু, শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ ছদু, মফিজুল হক, হুমায়ুন কবির খান, আব্বাস উদ্দিন বেপু উপস্থিত ছিলেন।