ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন আ.লীগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকারকে বেছে নেবে: নুর হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা

রাম রহিমকে নিয়ে মুখ খুলবেন আরো অনেক নির্যাতিতা

অাকাশ আইসিটি ডেস্ক:

কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে দূরে, দিনে চল্লিশ টাকা মজুরির সশ্রম কারাদণ্ডে দিন কাটা শুরু হল ভারতের স্বঘোষিত ধর্মীয়গুরু ধর্ষক গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিশ বছরের সাজা ঘোষণা হতেই তার গোপন গুফার রহস্য নিয়ে মুখ খুলছেন অনেকে। বলছেন, ভয়ে এত দিন চুপ ছিলেন তারা।

প্রাক্তন গাড়িচালকের দাবি, ডেরার সদর দফতরে তার ভাইঝিও নির্যাতিতা হয়েছিলেন। তিনিও সামনে আসবেন। যে মহিলার অভিযোগে রাম রহিমের সাজা হয়েছে, তিনিও বলেছেন, সুবিচার হয়েছে। দশ বছর ডেরায় সেবাদার ছিলেন গুরদাস সিংহ। তার অভিযোগ, হানিপ্রীত বলে যে মহিলা গুরমিতের দত্তক কন্যা বলে পরিচিত, তার সঙ্গে আসলে অবৈধ সম্পর্ক ছিল গুরমিতের।

অবশ্য হানিপ্রীতের প্রাক্তন স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত ২০১১ সালেই সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছিলেন, ‘গুফা’য় হানিপ্রীতের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গুরমিতকে দেখেছিলেন তিনি। এও বলেছিলেন, বাইরে যাওয়া হলে তাকে থাকতে হতো হোটেলের আলাদা ঘরে। হানিপ্রীত থাকতেন গুরমিতের সঙ্গে।

বিশ্বাসের দাবি, এই সব ঘটনার পরেই তিনি ডেরা ছেড়ে পঞ্চকুলায় চলে আসেন। অথচ রাম রহিমের উল্টো চাপে তাকে ও তার বাবা মহেন্দ্র পাল গুপ্তকে ডেরায় গিয়ে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে হয়। পরে বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় হানিপ্রীতের। হানিপ্রীত হয়ে ওঠেন গুরমিতের ছায়াসঙ্গী। এমনকী জেলেও তাকে সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলেন গুরমিত।

প্রশ্ন হল, এত জন মহিলা যদি নির্যাতিতা হন, তা হলে এত দিন তারা সামনে এলেন না কেন? তাদের বাবা-মায়েরাও তো ডেরায় ছিলেন, তারাও কেন সরব হলেন না?

গুরদাসের বক্তব্য ডেরার সেবাদাসীদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একদল ব্রহ্মচারী, আর একদল সদব্রহ্মচারী। ব্রহ্মচারীরা সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু সদব্রহ্মচারীরা নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও একান্তে কথা বলতে পারতেন না। ফোন ব্যবহারও ছিল বারণ। এদের সঙ্গেই কুকর্ম করতেন ধর্মগুরু।

গুরদাসের দাবি, সেবাদাসীদের গুফায় নিয়ে যাওয়ার কোড ছিল মাফি দেনা। কেউ আপত্তি তুললে তাকে শায়েস্তা করার জন্য ছিল বিশেষ মন সুধার বাহিনী। অর্থাৎ মন বদল করানোর বাহিনী। তারা প্রতিবাদিনীকে মারধর করত। ভয় দেখাত। এক সময়ে ডেরা সচ্চা সৌদায় গুরমিতের গাড়িচালক ছিলেন খাট্টা সিংহ। বাবার ভয়ে দশ বছর পালিয়ে বেড়ানো খাট্টা বলেছেন, আরো অনেক নির্যাতিতা মুখ খুলবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

রাম রহিমকে নিয়ে মুখ খুলবেন আরো অনেক নির্যাতিতা

আপডেট সময় ০১:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আইসিটি ডেস্ক:

কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে দূরে, দিনে চল্লিশ টাকা মজুরির সশ্রম কারাদণ্ডে দিন কাটা শুরু হল ভারতের স্বঘোষিত ধর্মীয়গুরু ধর্ষক গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিশ বছরের সাজা ঘোষণা হতেই তার গোপন গুফার রহস্য নিয়ে মুখ খুলছেন অনেকে। বলছেন, ভয়ে এত দিন চুপ ছিলেন তারা।

প্রাক্তন গাড়িচালকের দাবি, ডেরার সদর দফতরে তার ভাইঝিও নির্যাতিতা হয়েছিলেন। তিনিও সামনে আসবেন। যে মহিলার অভিযোগে রাম রহিমের সাজা হয়েছে, তিনিও বলেছেন, সুবিচার হয়েছে। দশ বছর ডেরায় সেবাদার ছিলেন গুরদাস সিংহ। তার অভিযোগ, হানিপ্রীত বলে যে মহিলা গুরমিতের দত্তক কন্যা বলে পরিচিত, তার সঙ্গে আসলে অবৈধ সম্পর্ক ছিল গুরমিতের।

অবশ্য হানিপ্রীতের প্রাক্তন স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত ২০১১ সালেই সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছিলেন, ‘গুফা’য় হানিপ্রীতের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গুরমিতকে দেখেছিলেন তিনি। এও বলেছিলেন, বাইরে যাওয়া হলে তাকে থাকতে হতো হোটেলের আলাদা ঘরে। হানিপ্রীত থাকতেন গুরমিতের সঙ্গে।

বিশ্বাসের দাবি, এই সব ঘটনার পরেই তিনি ডেরা ছেড়ে পঞ্চকুলায় চলে আসেন। অথচ রাম রহিমের উল্টো চাপে তাকে ও তার বাবা মহেন্দ্র পাল গুপ্তকে ডেরায় গিয়ে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে হয়। পরে বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় হানিপ্রীতের। হানিপ্রীত হয়ে ওঠেন গুরমিতের ছায়াসঙ্গী। এমনকী জেলেও তাকে সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলেন গুরমিত।

প্রশ্ন হল, এত জন মহিলা যদি নির্যাতিতা হন, তা হলে এত দিন তারা সামনে এলেন না কেন? তাদের বাবা-মায়েরাও তো ডেরায় ছিলেন, তারাও কেন সরব হলেন না?

গুরদাসের বক্তব্য ডেরার সেবাদাসীদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একদল ব্রহ্মচারী, আর একদল সদব্রহ্মচারী। ব্রহ্মচারীরা সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু সদব্রহ্মচারীরা নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও একান্তে কথা বলতে পারতেন না। ফোন ব্যবহারও ছিল বারণ। এদের সঙ্গেই কুকর্ম করতেন ধর্মগুরু।

গুরদাসের দাবি, সেবাদাসীদের গুফায় নিয়ে যাওয়ার কোড ছিল মাফি দেনা। কেউ আপত্তি তুললে তাকে শায়েস্তা করার জন্য ছিল বিশেষ মন সুধার বাহিনী। অর্থাৎ মন বদল করানোর বাহিনী। তারা প্রতিবাদিনীকে মারধর করত। ভয় দেখাত। এক সময়ে ডেরা সচ্চা সৌদায় গুরমিতের গাড়িচালক ছিলেন খাট্টা সিংহ। বাবার ভয়ে দশ বছর পালিয়ে বেড়ানো খাট্টা বলেছেন, আরো অনেক নির্যাতিতা মুখ খুলবেন।