ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রাম রহিমকে নিয়ে মুখ খুলবেন আরো অনেক নির্যাতিতা

অাকাশ আইসিটি ডেস্ক:

কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে দূরে, দিনে চল্লিশ টাকা মজুরির সশ্রম কারাদণ্ডে দিন কাটা শুরু হল ভারতের স্বঘোষিত ধর্মীয়গুরু ধর্ষক গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিশ বছরের সাজা ঘোষণা হতেই তার গোপন গুফার রহস্য নিয়ে মুখ খুলছেন অনেকে। বলছেন, ভয়ে এত দিন চুপ ছিলেন তারা।

প্রাক্তন গাড়িচালকের দাবি, ডেরার সদর দফতরে তার ভাইঝিও নির্যাতিতা হয়েছিলেন। তিনিও সামনে আসবেন। যে মহিলার অভিযোগে রাম রহিমের সাজা হয়েছে, তিনিও বলেছেন, সুবিচার হয়েছে। দশ বছর ডেরায় সেবাদার ছিলেন গুরদাস সিংহ। তার অভিযোগ, হানিপ্রীত বলে যে মহিলা গুরমিতের দত্তক কন্যা বলে পরিচিত, তার সঙ্গে আসলে অবৈধ সম্পর্ক ছিল গুরমিতের।

অবশ্য হানিপ্রীতের প্রাক্তন স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত ২০১১ সালেই সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছিলেন, ‘গুফা’য় হানিপ্রীতের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গুরমিতকে দেখেছিলেন তিনি। এও বলেছিলেন, বাইরে যাওয়া হলে তাকে থাকতে হতো হোটেলের আলাদা ঘরে। হানিপ্রীত থাকতেন গুরমিতের সঙ্গে।

বিশ্বাসের দাবি, এই সব ঘটনার পরেই তিনি ডেরা ছেড়ে পঞ্চকুলায় চলে আসেন। অথচ রাম রহিমের উল্টো চাপে তাকে ও তার বাবা মহেন্দ্র পাল গুপ্তকে ডেরায় গিয়ে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে হয়। পরে বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় হানিপ্রীতের। হানিপ্রীত হয়ে ওঠেন গুরমিতের ছায়াসঙ্গী। এমনকী জেলেও তাকে সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলেন গুরমিত।

প্রশ্ন হল, এত জন মহিলা যদি নির্যাতিতা হন, তা হলে এত দিন তারা সামনে এলেন না কেন? তাদের বাবা-মায়েরাও তো ডেরায় ছিলেন, তারাও কেন সরব হলেন না?

গুরদাসের বক্তব্য ডেরার সেবাদাসীদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একদল ব্রহ্মচারী, আর একদল সদব্রহ্মচারী। ব্রহ্মচারীরা সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু সদব্রহ্মচারীরা নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও একান্তে কথা বলতে পারতেন না। ফোন ব্যবহারও ছিল বারণ। এদের সঙ্গেই কুকর্ম করতেন ধর্মগুরু।

গুরদাসের দাবি, সেবাদাসীদের গুফায় নিয়ে যাওয়ার কোড ছিল মাফি দেনা। কেউ আপত্তি তুললে তাকে শায়েস্তা করার জন্য ছিল বিশেষ মন সুধার বাহিনী। অর্থাৎ মন বদল করানোর বাহিনী। তারা প্রতিবাদিনীকে মারধর করত। ভয় দেখাত। এক সময়ে ডেরা সচ্চা সৌদায় গুরমিতের গাড়িচালক ছিলেন খাট্টা সিংহ। বাবার ভয়ে দশ বছর পালিয়ে বেড়ানো খাট্টা বলেছেন, আরো অনেক নির্যাতিতা মুখ খুলবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রাম রহিমকে নিয়ে মুখ খুলবেন আরো অনেক নির্যাতিতা

আপডেট সময় ০১:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আইসিটি ডেস্ক:

কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে দূরে, দিনে চল্লিশ টাকা মজুরির সশ্রম কারাদণ্ডে দিন কাটা শুরু হল ভারতের স্বঘোষিত ধর্মীয়গুরু ধর্ষক গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের। স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিশ বছরের সাজা ঘোষণা হতেই তার গোপন গুফার রহস্য নিয়ে মুখ খুলছেন অনেকে। বলছেন, ভয়ে এত দিন চুপ ছিলেন তারা।

প্রাক্তন গাড়িচালকের দাবি, ডেরার সদর দফতরে তার ভাইঝিও নির্যাতিতা হয়েছিলেন। তিনিও সামনে আসবেন। যে মহিলার অভিযোগে রাম রহিমের সাজা হয়েছে, তিনিও বলেছেন, সুবিচার হয়েছে। দশ বছর ডেরায় সেবাদার ছিলেন গুরদাস সিংহ। তার অভিযোগ, হানিপ্রীত বলে যে মহিলা গুরমিতের দত্তক কন্যা বলে পরিচিত, তার সঙ্গে আসলে অবৈধ সম্পর্ক ছিল গুরমিতের।

অবশ্য হানিপ্রীতের প্রাক্তন স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত ২০১১ সালেই সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছিলেন, ‘গুফা’য় হানিপ্রীতের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গুরমিতকে দেখেছিলেন তিনি। এও বলেছিলেন, বাইরে যাওয়া হলে তাকে থাকতে হতো হোটেলের আলাদা ঘরে। হানিপ্রীত থাকতেন গুরমিতের সঙ্গে।

বিশ্বাসের দাবি, এই সব ঘটনার পরেই তিনি ডেরা ছেড়ে পঞ্চকুলায় চলে আসেন। অথচ রাম রহিমের উল্টো চাপে তাকে ও তার বাবা মহেন্দ্র পাল গুপ্তকে ডেরায় গিয়ে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে হয়। পরে বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয় হানিপ্রীতের। হানিপ্রীত হয়ে ওঠেন গুরমিতের ছায়াসঙ্গী। এমনকী জেলেও তাকে সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলেন গুরমিত।

প্রশ্ন হল, এত জন মহিলা যদি নির্যাতিতা হন, তা হলে এত দিন তারা সামনে এলেন না কেন? তাদের বাবা-মায়েরাও তো ডেরায় ছিলেন, তারাও কেন সরব হলেন না?

গুরদাসের বক্তব্য ডেরার সেবাদাসীদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একদল ব্রহ্মচারী, আর একদল সদব্রহ্মচারী। ব্রহ্মচারীরা সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু সদব্রহ্মচারীরা নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও একান্তে কথা বলতে পারতেন না। ফোন ব্যবহারও ছিল বারণ। এদের সঙ্গেই কুকর্ম করতেন ধর্মগুরু।

গুরদাসের দাবি, সেবাদাসীদের গুফায় নিয়ে যাওয়ার কোড ছিল মাফি দেনা। কেউ আপত্তি তুললে তাকে শায়েস্তা করার জন্য ছিল বিশেষ মন সুধার বাহিনী। অর্থাৎ মন বদল করানোর বাহিনী। তারা প্রতিবাদিনীকে মারধর করত। ভয় দেখাত। এক সময়ে ডেরা সচ্চা সৌদায় গুরমিতের গাড়িচালক ছিলেন খাট্টা সিংহ। বাবার ভয়ে দশ বছর পালিয়ে বেড়ানো খাট্টা বলেছেন, আরো অনেক নির্যাতিতা মুখ খুলবেন।