ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দাবানলে পুড়ছে ভারতের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তরাখণ্ডে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যানের অংশ বিশ্বখ্যাত ‘ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স’-এর কাছাকাছি এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থল অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা করছে ভারতীয় বিমানবাহিনী।

আগুনের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে। এরপর কয়েক দিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন জ্বলতে থাকে। এতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও খাড়া পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পথ আগুন নেভানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বন কর্মকর্তারা ও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক আবহাওয়াই এবারের অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ।

বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ি বনাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত প্রায় না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। চলতি বছরে উত্তরাখণ্ডে প্রায় কোনো তুষারপাত হয়নি, বৃষ্টিপাতও ছিল খুবই কম। ফলে বনভূমির ঘাস, শুকনো পাতা ও ঝোপঝাড় অত্যন্ত দাহ্য হয়ে উঠেছে।

ভারতের ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে ১ হাজার ৬০০টির বেশি শীতকালীন দাবানল সতর্কতা জারি করা হয়েছে—যা এ মৌসুমে ভারতের যেকোনো রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাধারণত শীতকালে তুষারপাত বনভূমিকে আর্দ্র রাখে এবং আগুনের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু তুষার না থাকায় শুকনো ঘাস ও পাতার স্তূপে সামান্য স্ফুলিঙ্গও বড় আগুনে পরিণত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর অনেকটাই দুর্গম হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে পানি ও অগ্নিনির্বাপণ উপকরণ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আগুন প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা ও বন রক্ষণাবেক্ষণে জোর না দিলে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

দাবানলে পুড়ছে ভারতের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল

আপডেট সময় ০৫:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তরাখণ্ডে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যানের অংশ বিশ্বখ্যাত ‘ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স’-এর কাছাকাছি এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থল অভিযানের পাশাপাশি আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা করছে ভারতীয় বিমানবাহিনী।

আগুনের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে। এরপর কয়েক দিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন জ্বলতে থাকে। এতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও খাড়া পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পথ আগুন নেভানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বন কর্মকর্তারা ও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক আবহাওয়াই এবারের অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ।

বিশেষ করে উঁচু পাহাড়ি বনাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত প্রায় না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। চলতি বছরে উত্তরাখণ্ডে প্রায় কোনো তুষারপাত হয়নি, বৃষ্টিপাতও ছিল খুবই কম। ফলে বনভূমির ঘাস, শুকনো পাতা ও ঝোপঝাড় অত্যন্ত দাহ্য হয়ে উঠেছে।

ভারতের ফরেস্ট সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে ১ হাজার ৬০০টির বেশি শীতকালীন দাবানল সতর্কতা জারি করা হয়েছে—যা এ মৌসুমে ভারতের যেকোনো রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাধারণত শীতকালে তুষারপাত বনভূমিকে আর্দ্র রাখে এবং আগুনের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু তুষার না থাকায় শুকনো ঘাস ও পাতার স্তূপে সামান্য স্ফুলিঙ্গও বড় আগুনে পরিণত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর অনেকটাই দুর্গম হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে পানি ও অগ্নিনির্বাপণ উপকরণ ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আগুন প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা ও বন রক্ষণাবেক্ষণে জোর না দিলে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে