ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

গণস্বাস্থ্যের কিটে এন্টিজেন-এন্টিবডি শনাক্ত সম্ভব: ড. বিজন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত টেস্টিং কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ র্যা পিড টেস্টিং কিটের মাধ্যমে একই সঙ্গে এন্টিজেন-এন্টিবডি শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এই কিট উদ্ভাবনকারী দলের প্রধান অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।

গণস্বাস্থ্যের করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে একথা জানান।

ড. বিজন কুমার শীল বলেন, আমরা এন্টিজেন ডিটেক্ট করেছি। কেউ যদি এন্টিজেন পজিটিভ হয়, তাহলে তিনি ১০০ শতাংশ পজিটিভ। এতে কোনো সংশয় নেই যে তার শরীরে মধ্যে ভাইরাস গ্রো করছে। এন্টিবডি হচ্ছে যে, কেউ ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু জানতেই পারেননি। যেমন ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় দেখছি একজনের ডেঙ্গু হয়েছে, তার মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তার আশপাশের বাকি পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি, কিন্তু তাদের শরীরে এন্টিবডি দেখা গিয়েছে।

‘ডেঙ্গুর এখনও প্রাইমারি চেইন ইনফেকশন আছে। সব সময় একটা কথা স্মরণ রাখবেন, ভাইরাস ও শরীরের ইমিউন সিস্টেমের ইন্টার রিঅ্যাকশান না হলে কখনও কোনো রোগীর শরীরে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা দেবে না। সামান্যতম হলেও লক্ষণ দেখা দেবে। হয়তো একটু কাশি বা জ্বর হয়ে আবার ভালো হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, অনেকেই অনেক ধরনের কথা বলছেন। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভাইরাস যে মুহূর্তে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে করে, সেই মুহূর্ত থেকে ইমিউন সিস্টেম কাজ করা শুরু করে দেয় সময় বিলম্ব না করে।

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে যদি কোনো শত্রু প্রবেশ করে, তখন সীমান্ত প্রহরীরা কি অ্যাক্টিভ হয় না? ঠিক মানুষের শরীরের ইমিউন সিস্টেমও একইভাবে কাজ করে। যেমন আইজিএম, আইজিজি এবং আইজিএ (, IgM, IgG, IgA) এসব এন্টিবডি একটার পর একটা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবশেষ আসে আইজিএ যা মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন থাকে। আসলে অনেকের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। আমাদের মধ্যে যেমন কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেলে দেখা যায় তার ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে পানিতে ভরে যায়। এটার কারণ হচ্ছে তার ইমিউন রেসপন্স না করা। ইমিউন রেসপন্স না করার কারণেই এমনটা হয়। এসময় রোগীকে যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ইমিউন সিস্টেম ড্রপ করে, ইমিউন সিস্টেম আসতে অনেক দেরি হয়।

এ অণুজীব বিজ্ঞানী বলেন, যখন কোনো ব্যক্তির জ্বর বা কাশি নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়, তখন কিন্তু তার ফুসফুস খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার ফলে তিনি চিকিৎসাও নেন না। ওই সময় যদি একটু দেরি করে টেস্ট করাতে আসেন তার শরীরে এন্টিবডি পাওয়া যেতে পারে। যেমন অনেকে আছে কাশি শুরু হলেই টেস্ট করাতে চলে আসে। আবার অনেকে আছে একটু অপেক্ষা করে দেখে যে এমনিতেই ঠিক হয় কিনা। যে একটু লেট করে যায়, তার মধ্যে এন্টিবডি চলে আসে। কারও ভাইরাস যদি পজিটিভ হয় তার মধ্যে এন্টিবডিও পজিটিভ হবে।

আপনাদের কিটের মাধ্যমে এটা যে করোনা ভাইরাসের এন্টিজেন এটা শনাক্ত করা কি সম্ভব- এমন প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল বলেন, হ্যাঁ আমাদের কিট দিয়ে শনাক্ত করা সম্ভব। আপনি সেন্টার ফর ডিজিস অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), ইউরোপিয়ান কমিশন, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) দেখেন এরা কিন্তু এ বিষয়ে এখন আমাদের বলার পর কথা বলা শুরু করেছে, তারা কিন্তু আগে বলেনি।

গণস্বাস্থ্যের কিটের পরীক্ষার ধরন সম্বন্ধে তিনি বলেন, আরটিপিসিআর টেস্ট করা হয় নোজাল সোয়াব (nasal swab) থেকে আর আমাদের পরীক্ষা করা হয় ব্লাড স্যাম্পল থেকে। ব্লাডের সিরাম আমাদের কিটের মধ্যে এক ফোঁটা দিলে স্পেসিফিক কালার চলে আসবে। আমাদের কিটে তিনটি জিনিস একসঙ্গে দেখা যাবে, এন্টিজেন, এন্টিবডি এবং ব্যবহৃত কিট ঠিক আছে কিনা তাও দেখা যাবে। কারণ আমাদের কিট (ডিভাইস) আপনি নিয়ে দুই বছ পর যদি ব্যবহার করেন, ততদিনে ডিভাইসটি ঠিক আছে কিনা সেটাও জানা যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার সেবা চালু

গণস্বাস্থ্যের কিটে এন্টিজেন-এন্টিবডি শনাক্ত সম্ভব: ড. বিজন

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত টেস্টিং কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ র্যা পিড টেস্টিং কিটের মাধ্যমে একই সঙ্গে এন্টিজেন-এন্টিবডি শনাক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এই কিট উদ্ভাবনকারী দলের প্রধান অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।

গণস্বাস্থ্যের করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে একথা জানান।

ড. বিজন কুমার শীল বলেন, আমরা এন্টিজেন ডিটেক্ট করেছি। কেউ যদি এন্টিজেন পজিটিভ হয়, তাহলে তিনি ১০০ শতাংশ পজিটিভ। এতে কোনো সংশয় নেই যে তার শরীরে মধ্যে ভাইরাস গ্রো করছে। এন্টিবডি হচ্ছে যে, কেউ ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু জানতেই পারেননি। যেমন ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় দেখছি একজনের ডেঙ্গু হয়েছে, তার মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তার আশপাশের বাকি পাঁচজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি, কিন্তু তাদের শরীরে এন্টিবডি দেখা গিয়েছে।

‘ডেঙ্গুর এখনও প্রাইমারি চেইন ইনফেকশন আছে। সব সময় একটা কথা স্মরণ রাখবেন, ভাইরাস ও শরীরের ইমিউন সিস্টেমের ইন্টার রিঅ্যাকশান না হলে কখনও কোনো রোগীর শরীরে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা দেবে না। সামান্যতম হলেও লক্ষণ দেখা দেবে। হয়তো একটু কাশি বা জ্বর হয়ে আবার ভালো হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, অনেকেই অনেক ধরনের কথা বলছেন। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভাইরাস যে মুহূর্তে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে করে, সেই মুহূর্ত থেকে ইমিউন সিস্টেম কাজ করা শুরু করে দেয় সময় বিলম্ব না করে।

উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে যদি কোনো শত্রু প্রবেশ করে, তখন সীমান্ত প্রহরীরা কি অ্যাক্টিভ হয় না? ঠিক মানুষের শরীরের ইমিউন সিস্টেমও একইভাবে কাজ করে। যেমন আইজিএম, আইজিজি এবং আইজিএ (, IgM, IgG, IgA) এসব এন্টিবডি একটার পর একটা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবশেষ আসে আইজিএ যা মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন থাকে। আসলে অনেকের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। আমাদের মধ্যে যেমন কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেলে দেখা যায় তার ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে পানিতে ভরে যায়। এটার কারণ হচ্ছে তার ইমিউন রেসপন্স না করা। ইমিউন রেসপন্স না করার কারণেই এমনটা হয়। এসময় রোগীকে যে চিকিৎসা দেওয়া হয় তার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ইমিউন সিস্টেম ড্রপ করে, ইমিউন সিস্টেম আসতে অনেক দেরি হয়।

এ অণুজীব বিজ্ঞানী বলেন, যখন কোনো ব্যক্তির জ্বর বা কাশি নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়, তখন কিন্তু তার ফুসফুস খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার ফলে তিনি চিকিৎসাও নেন না। ওই সময় যদি একটু দেরি করে টেস্ট করাতে আসেন তার শরীরে এন্টিবডি পাওয়া যেতে পারে। যেমন অনেকে আছে কাশি শুরু হলেই টেস্ট করাতে চলে আসে। আবার অনেকে আছে একটু অপেক্ষা করে দেখে যে এমনিতেই ঠিক হয় কিনা। যে একটু লেট করে যায়, তার মধ্যে এন্টিবডি চলে আসে। কারও ভাইরাস যদি পজিটিভ হয় তার মধ্যে এন্টিবডিও পজিটিভ হবে।

আপনাদের কিটের মাধ্যমে এটা যে করোনা ভাইরাসের এন্টিজেন এটা শনাক্ত করা কি সম্ভব- এমন প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল বলেন, হ্যাঁ আমাদের কিট দিয়ে শনাক্ত করা সম্ভব। আপনি সেন্টার ফর ডিজিস অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), ইউরোপিয়ান কমিশন, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) দেখেন এরা কিন্তু এ বিষয়ে এখন আমাদের বলার পর কথা বলা শুরু করেছে, তারা কিন্তু আগে বলেনি।

গণস্বাস্থ্যের কিটের পরীক্ষার ধরন সম্বন্ধে তিনি বলেন, আরটিপিসিআর টেস্ট করা হয় নোজাল সোয়াব (nasal swab) থেকে আর আমাদের পরীক্ষা করা হয় ব্লাড স্যাম্পল থেকে। ব্লাডের সিরাম আমাদের কিটের মধ্যে এক ফোঁটা দিলে স্পেসিফিক কালার চলে আসবে। আমাদের কিটে তিনটি জিনিস একসঙ্গে দেখা যাবে, এন্টিজেন, এন্টিবডি এবং ব্যবহৃত কিট ঠিক আছে কিনা তাও দেখা যাবে। কারণ আমাদের কিট (ডিভাইস) আপনি নিয়ে দুই বছ পর যদি ব্যবহার করেন, ততদিনে ডিভাইসটি ঠিক আছে কিনা সেটাও জানা যাবে।