ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চট্টগ্রামে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসী সাব্বির গ্রেপ্তার

‘একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় এমন ভয়ংকর ভাষায় চাঁদা দাবি করে ভুক্তভোগীকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই চাঁদাবাজির ঘটনার মূল হোতা সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে অবশেষে গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার বাসিন্দা হলেও সাব্বির দীর্ঘদিন ধরে নগরের হামজারবাগে অবস্থান করে আসছিলেন। চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে চাঁদার জন্য এক ব্যক্তিকে এভাবেই মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে।

তদন্তকারী পুলিশ জানায়, গত আগস্ট মাসে হামজারবাগের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক প্রবাসীর ছেলেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। ইউসুফের প্রবাসী ব্যবসায়ী ছেলের উদ্দেশে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো এবং কাতারের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি ক্লিয়ার করো। অন্যথায় তোমার পরিবারের যেকোনো একজনের শরীরকে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। তোমার বাবাকে কল দিইনি কারণ তিনি হৃদরোগী, কিন্তু তোমারে সতর্ক করলাম।’ এই হুমকির ঘটনার অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে সংরক্ষিত আছে। হুমকির পর ওই প্রবাসীর ভবনের ফটকে গুলির ঘটনাও ঘটেছিল, যা পুলিশের নজরে আসার পর থেকেই সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সাব্বির মূলত বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় কাজ করতেন। সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাবন্দী ডেভিড ইমনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার ওপর।

তদন্তে জানা গেছে, সাব্বির নিজে প্রকাশ্যে খুব একটা আসতেন না। বড় সাজ্জাদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের টার্গেট করে ফোন করতেন তিনি। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চাঁদার দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে হামলা বা গুলির হুমকি দিতেন। এসব হুমকির পর সাব্বিরকে বাস্তবেও সশস্ত্র হামলা চালাতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত সাব্বিরের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগী ভয়ে এতদিন মামলা করার সাহস পাননি। তিনি চাঁদা দাবি করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লোকজন ভয়ে মামলা করেননি।

এছাড়া গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাব্বির টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে তাক করে বারবার গুলি ছুড়ছেন এবং পিস্তল উঁচিয়ে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ে।

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট: কবে কাটবে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা?

চট্টগ্রামে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসী সাব্বির গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৫:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

‘একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় এমন ভয়ংকর ভাষায় চাঁদা দাবি করে ভুক্তভোগীকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই চাঁদাবাজির ঘটনার মূল হোতা সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে অবশেষে গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার বাসিন্দা হলেও সাব্বির দীর্ঘদিন ধরে নগরের হামজারবাগে অবস্থান করে আসছিলেন। চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে চাঁদার জন্য এক ব্যক্তিকে এভাবেই মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে।

তদন্তকারী পুলিশ জানায়, গত আগস্ট মাসে হামজারবাগের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক প্রবাসীর ছেলেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। ইউসুফের প্রবাসী ব্যবসায়ী ছেলের উদ্দেশে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো এবং কাতারের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি ক্লিয়ার করো। অন্যথায় তোমার পরিবারের যেকোনো একজনের শরীরকে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। তোমার বাবাকে কল দিইনি কারণ তিনি হৃদরোগী, কিন্তু তোমারে সতর্ক করলাম।’ এই হুমকির ঘটনার অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে সংরক্ষিত আছে। হুমকির পর ওই প্রবাসীর ভবনের ফটকে গুলির ঘটনাও ঘটেছিল, যা পুলিশের নজরে আসার পর থেকেই সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সাব্বির মূলত বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় কাজ করতেন। সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাবন্দী ডেভিড ইমনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার ওপর।

তদন্তে জানা গেছে, সাব্বির নিজে প্রকাশ্যে খুব একটা আসতেন না। বড় সাজ্জাদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের টার্গেট করে ফোন করতেন তিনি। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চাঁদার দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে হামলা বা গুলির হুমকি দিতেন। এসব হুমকির পর সাব্বিরকে বাস্তবেও সশস্ত্র হামলা চালাতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত সাব্বিরের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগী ভয়ে এতদিন মামলা করার সাহস পাননি। তিনি চাঁদা দাবি করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লোকজন ভয়ে মামলা করেননি।

এছাড়া গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাব্বির টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে তাক করে বারবার গুলি ছুড়ছেন এবং পিস্তল উঁচিয়ে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ে।