ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পুলিশের ওপর জনআস্থা ফেরাতে কমিউনিটি পুলিশিং কেন জরুরি

‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই বহুল প্রচলিত কথাটি কে, কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে প্রথম বলেছিলেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া কঠিন। প্রয়োজন জনগণের সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও আস্থা।

তবে এই বার্তাটির মূল লক্ষ্য হলো পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিকল্প নেই, কিন্তু এককভাবে পুলিশের পক্ষে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়া অসম্ভব।

এখানেই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের গুরুত্ব ফুটে ওঠে। এটি কোনো অনানুষ্ঠানিক বা বিকল্প পুলিশি ব্যবস্থা নয়, বরং পেশাদার পুলিশিংকে আরও বেশি জনবান্ধব, তথ্যসমৃদ্ধ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার একটি আধুনিক পদ্ধতি। পুলিশি সেবায় বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্বের ধারণা জন–আস্থা তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অপরাধ, হুমকি কিংবা ভুক্তভোগী হওয়ার ঘটনা জানানোর সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো এলাকায় বারবার চুরি হলে সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করা, স্কুলপথ নিরাপদ করা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিকল্পিত টহল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দর্শন ও আইনি ভিত্তি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর বিভিন্ন ধারার মধ্যে নিহিত। আইনের ৪২ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তাকে সহায়তা করার বিধান রয়েছে। আবার ৪৪ ধারায় অপরাধের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। তবে এসব আইনের কোনোটিই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের অপরাধীকে গ্রেপ্তার, তল্লাশি কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনো আইনি ক্ষমতা দেয়নি। এ বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি, যাতে স্বেচ্ছাসেবকরা কখনো নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ না পান। তবে কথাটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য স্পষ্ট। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, কার্যক্রমে জবাবদিহির ঘাটতি এবং সরকারি অর্থ, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সম্ভাবনা থাকলেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নের নির্দিষ্ট সূচক না থাকায় এর সাফল্য বা ব্যর্থতা নিরূপণ করাও কঠিন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার আস্থার সংকট এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন না করার ফলে এই ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দাপটে সাধারণ মানুষ, নারী, তরুণ কিংবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের ঠিকমতো সম্পৃক্ত করতে পারছে না। কমিটিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আধিপত্যের কারণে নারী, তরুণ, ভাড়াটে, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও পর্যাপ্ত থাকে না। তবে গুরুতর অপরাধের তদন্ত অবশ্যই আইনানুগ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হতে হবে।

অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে বা বেআইনি সালিস করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নাম ব্যবহার করা হয়, যা কাম্য নয়। এসব আলোচনায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করতে হবে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন করে বা কমিটি গঠন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি। স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট থাকা আবশ্যক। কোনো অবস্থাতেই পুলিশের লোগো ব্যবহার করে পরিচয়পত্র তৈরি করা বা পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করার সুযোগ কাউকে দেওয়া যাবে না। কোনো স্বেচ্ছাসেবক কাউকে আটক, তল্লাশি বা শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে জনগণের ধারণায় যে নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। কারও পরিচয়, আর্থিক অবস্থা, রাজনৈতিক মত, বসবাসের এলাকা কিংবা যাচাইহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। পুলিশের সহায়তার বিনিময়ে অর্থ আদায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম-ছবি প্রকাশ, প্রমাণ নষ্ট করা কিংবা তদন্তে হস্তক্ষেপ করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

কার্যকর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের লক্ষ্যে থানা ও বিট পর্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট ‘কমিউনিটি সেফটি প্ল্যান’ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়মিত মাসিক সভা এবং সমস্যা সমাধানের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। চুরি, মাদক, হয়রানি, সড়কনিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধের মতো নিয়মিত সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধের পরিকল্পনা নেওয়ার সময় শুধুমাত্র অভিযানের সংখ্যা না দেখে অপরাধের ধরন, স্থান ও কারণ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। চুরি-ছিনতাই কমাতে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা জরুরি। পুলিশিং আর ‘মোরাল পুলিশিং’ কেন একসঙ্গে চলতে পারে না। তিশা–মুশতাক বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নীতি পুলিশিং। কুড়িগ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ান। অন্যদিকে জনগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়া, সভা-সেমিনারের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ের ঘাটতিও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অংশীদার হিসেবে জনগণকে বিবেচনা করতে হবে। পুলিশকে যেমন পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, তেমনি জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে আইনসম্মত উপায়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও তথ্য যেন সম্পূর্ণ গোপনীয় থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। সর্বোপরি, পুলিশের ওপর জনআস্থা তখনই ফিরে আসবে যখন পুলিশ মানুষের কথা শুনবে, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে এবং পক্ষপাতহীনভাবে আইন প্রয়োগ করবে। অপরাধসংক্রান্ত তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকে তথ্য দিতে ভয় পান। শিশু, যৌন ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, মানব পাচারের ভুক্তভোগী এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফল: পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে

পুলিশের ওপর জনআস্থা ফেরাতে কমিউনিটি পুলিশিং কেন জরুরি

আপডেট সময় ০১:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এই বহুল প্রচলিত কথাটি কে, কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে প্রথম বলেছিলেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া কঠিন। প্রয়োজন জনগণের সহযোগিতা, অংশগ্রহণ ও আস্থা।

তবে এই বার্তাটির মূল লক্ষ্য হলো পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিকল্প নেই, কিন্তু এককভাবে পুলিশের পক্ষে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়া অসম্ভব।

এখানেই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের গুরুত্ব ফুটে ওঠে। এটি কোনো অনানুষ্ঠানিক বা বিকল্প পুলিশি ব্যবস্থা নয়, বরং পেশাদার পুলিশিংকে আরও বেশি জনবান্ধব, তথ্যসমৃদ্ধ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার একটি আধুনিক পদ্ধতি। পুলিশি সেবায় বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্বের ধারণা জন–আস্থা তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অপরাধ, হুমকি কিংবা ভুক্তভোগী হওয়ার ঘটনা জানানোর সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো এলাকায় বারবার চুরি হলে সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করা, স্কুলপথ নিরাপদ করা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিকল্পিত টহল বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দর্শন ও আইনি ভিত্তি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর বিভিন্ন ধারার মধ্যে নিহিত। আইনের ৪২ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তাকে সহায়তা করার বিধান রয়েছে। আবার ৪৪ ধারায় অপরাধের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। তবে এসব আইনের কোনোটিই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের অপরাধীকে গ্রেপ্তার, তল্লাশি কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনো আইনি ক্ষমতা দেয়নি। এ বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি, যাতে স্বেচ্ছাসেবকরা কখনো নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ না পান। তবে কথাটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য স্পষ্ট। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, কার্যক্রমে জবাবদিহির ঘাটতি এবং সরকারি অর্থ, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সম্ভাবনা থাকলেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নের নির্দিষ্ট সূচক না থাকায় এর সাফল্য বা ব্যর্থতা নিরূপণ করাও কঠিন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার আস্থার সংকট এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন না করার ফলে এই ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দাপটে সাধারণ মানুষ, নারী, তরুণ কিংবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের ঠিকমতো সম্পৃক্ত করতে পারছে না। কমিটিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আধিপত্যের কারণে নারী, তরুণ, ভাড়াটে, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও পর্যাপ্ত থাকে না। তবে গুরুতর অপরাধের তদন্ত অবশ্যই আইনানুগ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হতে হবে।

অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে বা বেআইনি সালিস করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নাম ব্যবহার করা হয়, যা কাম্য নয়। এসব আলোচনায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করতে হবে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন করে বা কমিটি গঠন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি। স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট থাকা আবশ্যক। কোনো অবস্থাতেই পুলিশের লোগো ব্যবহার করে পরিচয়পত্র তৈরি করা বা পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করার সুযোগ কাউকে দেওয়া যাবে না। কোনো স্বেচ্ছাসেবক কাউকে আটক, তল্লাশি বা শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে জনগণের ধারণায় যে নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। কারও পরিচয়, আর্থিক অবস্থা, রাজনৈতিক মত, বসবাসের এলাকা কিংবা যাচাইহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। পুলিশের সহায়তার বিনিময়ে অর্থ আদায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম-ছবি প্রকাশ, প্রমাণ নষ্ট করা কিংবা তদন্তে হস্তক্ষেপ করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

কার্যকর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের লক্ষ্যে থানা ও বিট পর্যায়ে একটি সুনির্দিষ্ট ‘কমিউনিটি সেফটি প্ল্যান’ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়মিত মাসিক সভা এবং সমস্যা সমাধানের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। চুরি, মাদক, হয়রানি, সড়কনিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধের মতো নিয়মিত সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধের পরিকল্পনা নেওয়ার সময় শুধুমাত্র অভিযানের সংখ্যা না দেখে অপরাধের ধরন, স্থান ও কারণ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। চুরি-ছিনতাই কমাতে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা জরুরি। পুলিশিং আর ‘মোরাল পুলিশিং’ কেন একসঙ্গে চলতে পারে না। তিশা–মুশতাক বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নীতি পুলিশিং। কুড়িগ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ান। অন্যদিকে জনগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়া, সভা-সেমিনারের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের সমন্বয়ের ঘাটতিও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অংশীদার হিসেবে জনগণকে বিবেচনা করতে হবে। পুলিশকে যেমন পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, তেমনি জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে আইনসম্মত উপায়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও তথ্য যেন সম্পূর্ণ গোপনীয় থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। সর্বোপরি, পুলিশের ওপর জনআস্থা তখনই ফিরে আসবে যখন পুলিশ মানুষের কথা শুনবে, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে এবং পক্ষপাতহীনভাবে আইন প্রয়োগ করবে। অপরাধসংক্রান্ত তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেকে তথ্য দিতে ভয় পান। শিশু, যৌন ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, মানব পাচারের ভুক্তভোগী এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে।