বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তারা তুরাগ নদের কাছে কথা বলছিলেন। সে সময় কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং সেই সুযোগে তিনি নিজে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসেন। দ্বীপের বক্তব্য তুলে ধরে পিবিআই কর্মকর্তারা বলেন, ‘সেদিন আমরা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলাম।
পিবিআই কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, মাদক কারবারিদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত ওই এলাকার রাজবাড়ী ঘাট সংলগ্ন স্থানে কোনো ঝামেলায় জড়িয়ে ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন তাহসিফ। যদিও এই দাবির সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে পাওয়া এই মোটরসাইকেলটি নিয়ে পিবিআই তাদের ছায়া তদন্ত জোরালো করেছে। প্রাপ্ত তথ্য পরবর্তীতে মূল তদন্তকারী সংস্থা নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনাটি গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ছায়া তদন্ত চালানোর পাশাপাশি নৌ পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে। ওই এলাকায় মাদকের স্পট রয়েছে বলে পরিচিতি আছে।
গত মঙ্গলবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ উত্তরখানের তুরাগ নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় তার পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার পকেটে থাকা আইফোন ও হাতের ঘড়ি দেখে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাহসিফের বাবার ভাষ্যমতে, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের জন্য কেনাকাটা শেষে সন্ধ্যায় বন্ধুর ডাকে বেরিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইতিমধ্যে তাহসিফের মৃত্যুর আগের একটি সিসিটিভি ফুটেজ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে দেখা যায়, বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা আলাদা মোটরসাইকেলে বাসা থেকে বের হচ্ছেন। বর্তমানে পিবিআইয়ের ছায়া তদন্ত এবং নৌ পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া সমানতালে চলছে। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্নের মধ্যে ফুটেজটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















