হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ দশমিক ৬০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৬ ফ্লাইটে অবতরণ করা দুই যাত্রীর কাছ থেকে এই স্বর্ণ জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইটটি নামার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়। ইমিগ্রেশন শেষে ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় উপস্থিত হওয়ার পর চেন লিউইয়ুন ও মো জিয়াওইয়ু নামের দুই বিদেশী যাত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে তল্লাশি চালান কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের পরনের জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কায়দায় সেলাই করে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের পেস্ট পাওয়া যায়। ফ্লাইটটি অবতরণের পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তল্লাশির একপর্যায়ে দুই যাত্রীর পরিহিত জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা নরম হলুদ রঙের পদার্থ উদ্ধার করা হয়। কাপড়ের মধ্যে সেলাই করে এসব পদার্থ বহন করা হচ্ছিল, যাতে সহজে তা শনাক্ত করা না যায়। বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছেন যে, জব্দকৃত স্বর্ণ ২৪ ক্যারেট মানের। বিপুল পরিমাণ এই স্বর্ণ আটকের ঘটনা বিমানবন্দরে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই অভিযানটি চোরাকারবারিদের বিশেষ কৌশলের বিরুদ্ধে কাস্টমসের সফল তৎপরতার উদাহরণ।
আটক দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে কাস্টমস আইন ২০২৩ ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনের অধীনে নিয়মিত মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে। তবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি হবে আদালতের মাধ্যমে। এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য ফৌজদারি আইনের আওতায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















