ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিন

অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৯ সালে সাবরেজিস্ট্রার পদে কর্মজীবন শুরু করে ২০২৪ সালে অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মজীবনে অনিয়মের কারণে শাস্তিমূলক বদলির তথ্যও রয়েছে। সরকারি চাকরির বেতনে এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য, যা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার মিরপুরে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার একটি সিন্ডিকেট ছিল। ওই সময় মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ আয় করতেন তিনি। এই বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও তিনি বিভিন্ন স্থানে জমি ও সম্পদ কিনেছেন বলে জানা গেছে।

নুরুল আমিনের সম্পদের একটি বড় অংশ টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অবস্থিত। সেখানে স্ত্রীর নামে থাকা পাঁচতলা বাড়ির জমির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা এবং ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। একই এলাকায় খাদ্যগুদামের পাশে রয়েছে তার পাঁচ শতাংশ জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া টাঙ্গাইলের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস ভবনের নিচতলায় ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাট এবং একই ভবনে আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের দোকান এবং বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে নিজ গ্রামের বাড়িতে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন রয়েছে তার। এছাড়া একই এলাকায় খাদ্যগুদামের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন ৫ শতাংশ জমি রয়েছে তার, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে। নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য।

রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট এবং মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে তার দোকান ও অফিস রয়েছে। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকার কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে তা স্বীকার করলেও পরে কয়েকটি সম্পত্তির বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান। চাকরির আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে এই অঢেল সম্পত্তির হিসাব কিছুতেই মিলছে না। গাড়িতে লোকজন থাকার কথা জানিয়ে পরে ফোন করে বিস্তারিত বলবেন বলে জানান।

দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নুরুল আমিনের সম্পদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। শিগগিরই কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তার ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, দলিলপত্র এবং চাকরি জীবনের সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের তথ্য খতিয়ে দেখছে কমিশন।

আপলোডকারীর তথ্য

ধেয়ে আসছে বৃষ্টিবলয়: সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলাদেশে

শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিন

আপডেট সময় ১১:০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ২০০৯ সালে সাবরেজিস্ট্রার পদে কর্মজীবন শুরু করে ২০২৪ সালে অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মজীবনে অনিয়মের কারণে শাস্তিমূলক বদলির তথ্যও রয়েছে। সরকারি চাকরির বেতনে এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য, যা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার মিরপুরে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার একটি সিন্ডিকেট ছিল। ওই সময় মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ আয় করতেন তিনি। এই বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি ও শ্যালকদের নামেও তিনি বিভিন্ন স্থানে জমি ও সম্পদ কিনেছেন বলে জানা গেছে।

নুরুল আমিনের সম্পদের একটি বড় অংশ টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় অবস্থিত। সেখানে স্ত্রীর নামে থাকা পাঁচতলা বাড়ির জমির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা এবং ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। একই এলাকায় খাদ্যগুদামের পাশে রয়েছে তার পাঁচ শতাংশ জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া টাঙ্গাইলের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস ভবনের নিচতলায় ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাট এবং একই ভবনে আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের দোকান এবং বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে নিজ গ্রামের বাড়িতে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন রয়েছে তার। এছাড়া একই এলাকায় খাদ্যগুদামের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন ৫ শতাংশ জমি রয়েছে তার, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে। নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য।

রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট এবং মিরপুর ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটে তার দোকান ও অফিস রয়েছে। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকার কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে তা স্বীকার করলেও পরে কয়েকটি সম্পত্তির বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান। চাকরির আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্যের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে এই অঢেল সম্পত্তির হিসাব কিছুতেই মিলছে না। গাড়িতে লোকজন থাকার কথা জানিয়ে পরে ফোন করে বিস্তারিত বলবেন বলে জানান।

দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নুরুল আমিনের সম্পদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। শিগগিরই কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তার ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, দলিলপত্র এবং চাকরি জীবনের সামগ্রিক আয়-ব্যয়ের তথ্য খতিয়ে দেখছে কমিশন।