পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানির তৃতীয় চালানটি সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে জ্বালানিবাহী লরিগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশ করে। সোমবার রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ভারতের দিল্লি হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই চালানে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন ইউরেনিয়াম ছিল, যা মঙ্গলবার ভোরে বিমানবন্দর থেকে তিনটি বিশেষ লরিতে করে রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতায় এই চালান গন্তব্যে পৌঁছায়। পথে যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিশেষ পাহারার দায়িত্ব পালন করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রসাটম’ জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও সাতটি ফ্লাইটে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে আসে এবং পর্যায়ক্রমে আরও চারটি চালানে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছিল। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন সম্পন্ন হয় এবং গত ৩ অক্টোবর ব্যবহৃত জ্বালানি পরিবর্তনের প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান আনা হয়। এছাড়াও গত ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছিল।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তাব্যবস্থার ভালভে ত্রুটিসহ কিছু জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সময় কিছুটা পেছালেও গত ১১ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর সেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইউনিটটিতে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বর্তমানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রটির প্রথম তিন বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া, এরপর নির্ধারিত বিরতিতে বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। এ ধাপে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















