ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। গত সপ্তাহে এই সমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিচালিত এই জরিপটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কার দখলে থাকবে। অথচ এই প্রতিযোগিতাগুলোই সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালনা করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করছেন। দেশজুড়ে পাঁচ দিন ধরে চলা জরিপটিতে সাধারণ ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা কংগ্রেসে কোন দলকে দেখতে চান। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৩৬ শতাংশ সমর্থন।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ১১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন যে তাঁরা কাকে ভোট দেবেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এই ১১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান ১৯ অক্টোবরের রয়টার্স/ইপসোস জরিপের চেয়ে ১ শতাংশ কম। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ঝুঁকির দিকটি বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকানদের (৪১ শতাংশ) চেয়ে ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। জেনেরিক ব্যালট নামের এই জাতীয় জরিপটি জনগণের সামগ্রিক মতামতের একটি ধারণা দেয়। যদিও এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতার সূক্ষ্ম সমীকরণগুলো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়, যেখানে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে জয়লাভের ভালো সম্ভাবনা থাকলেও সিনেটে তাদের জয় পাওয়া বেশ কঠিন। এখন সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে কতজন ভোটার বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৪ শতাংশ বলে মনে হচ্ছে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে মূল্যস্ফীতি একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প কর্তৃক ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশের পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার ফলে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় ভুল পথে এগোচ্ছে।

জরিপের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ৩৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন অর্থনীতির বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতি বেশি কার্যকর, সেখানে রিপাবলিকানদের অর্থনীতি বিষয়ক নীতিকে বেছে নিয়েছেন ৩৩ শতাংশ ভোটার। এর আগে যুদ্ধ শুরুর দিকে ভোটারদের কাছে অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানরা বেশি জনপ্রিয় ছিল।

ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট জানিয়েছেন যে তারা নির্বাচন নিয়ে খুবই উৎসাহী, বিপরীতে রিপাবলিকানদের মাত্র ৩০ শতাংশ একই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের এই অনলাইন জরিপে ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ২৮০ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

অস্ট্রেলিয়ার ভিসানীতিতে কড়াকড়ি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের করণীয় কী

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে

আপডেট সময় ০৯:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন বেড়ে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। গত সপ্তাহে এই সমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিচালিত এই জরিপটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কার দখলে থাকবে। অথচ এই প্রতিযোগিতাগুলোই সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালনা করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করছেন। দেশজুড়ে পাঁচ দিন ধরে চলা জরিপটিতে সাধারণ ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা কংগ্রেসে কোন দলকে দেখতে চান। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, যেখানে রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৩৬ শতাংশ সমর্থন।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ১১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন যে তাঁরা কাকে ভোট দেবেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এই ১১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান ১৯ অক্টোবরের রয়টার্স/ইপসোস জরিপের চেয়ে ১ শতাংশ কম। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ঝুঁকির দিকটি বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকানদের (৪১ শতাংশ) চেয়ে ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। জেনেরিক ব্যালট নামের এই জাতীয় জরিপটি জনগণের সামগ্রিক মতামতের একটি ধারণা দেয়। যদিও এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতার সূক্ষ্ম সমীকরণগুলো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়, যেখানে রিপাবলিকানদের কিছু কাঠামোগত সুবিধা রয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে জয়লাভের ভালো সম্ভাবনা থাকলেও সিনেটে তাদের জয় পাওয়া বেশ কঠিন। এখন সবকিছুর ওপরই নির্ভর করছে কতজন ভোটার বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৪ শতাংশ বলে মনে হচ্ছে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে মূল্যস্ফীতি একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প কর্তৃক ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশের পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার ফলে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় ভুল পথে এগোচ্ছে।

জরিপের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ৩৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন অর্থনীতির বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতি বেশি কার্যকর, সেখানে রিপাবলিকানদের অর্থনীতি বিষয়ক নীতিকে বেছে নিয়েছেন ৩৩ শতাংশ ভোটার। এর আগে যুদ্ধ শুরুর দিকে ভোটারদের কাছে অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানরা বেশি জনপ্রিয় ছিল।

ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট জানিয়েছেন যে তারা নির্বাচন নিয়ে খুবই উৎসাহী, বিপরীতে রিপাবলিকানদের মাত্র ৩০ শতাংশ একই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের এই অনলাইন জরিপে ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ২৮০ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন।