ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

ইনানীতে নির্মাণাধীন হোটেলে রহস্যময় ভাঙচুর, কউকের বিরুদ্ধে রিসোর্ট মালিকের অভিযোগ

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্টের অনুমোদন, নির্মাণবিধি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইনানীতে অবস্থিত বে হিলটন বিচ রিসোর্ট নামক একটি নির্মাণাধীন ভবনে রহস্যময় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রিসোর্টটির মালিক শহীদুল হকের দাবি, তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমতি মেনেই ভবনটি নির্মাণ করছিলেন। মালিকপক্ষের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়টি কোনোভাবেই আমলে না নিয়ে সোমবার সকালে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা হোটেলটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। পুরোনো অনুমোদন বনাম নতুন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। এ ধরনের দুর্ঘটনা হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব, জরুরি নির্গমনপথ এবং অনুমোদনসংক্রান্ত শর্ত কঠোরভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তবে একটি দুর্ঘটনার পর সব স্থাপনার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকির মাত্রা, আইনগত অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পৃথকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। তাদের আশঙ্কা, পর্যটন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নতুন বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

অনুমোদন নিয়েই ভবন নির্মাণের দাবি

বে হিলটন বিচ রিসোর্টের মালিক শহীদুল হক কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে ২৬ অক্টোবর দেওয়া একটি লিখিত জবাবে তার অবস্থানের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্যমতে, সংশ্লিষ্ট জমির মূল মালিক ছিলেন জাকির হোসেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত জমিটির মালিকানা লাভ করেন। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১ নম্বর জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির নকশা অনুমোদন করে এবং একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়। ওই অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করেই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিবন্ধিত ১৫৩২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত ভবন ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি শহীদুল হকের কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসছেন। শহীদুল হক আরও জানান, কউকের নির্দেশে তিনি অনুমোদিত নকশা দাখিল করেছিলেন এবং নকশার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কউক জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের কাছে তথ্য চাইলে পরিষদ ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে নকশার সত্যতা নিশ্চিত করেছিল। এছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনাপত্তি সনদ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন থাকলেও জাতীয় ভবন নির্মাণবিধি (বিএনবিসি) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কউক প্রশ্ন তুলেছে। তাদের প্রশ্ন, পর্যটন অবকাঠামোর অনিয়ম দূর করার উদ্যোগ পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে নেওয়া হচ্ছে, নাকি এর ফলে বৈধ বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এতে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর নকশা প্রদর্শনের নোটিশ, ১৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কউকের নোটিশে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবরের একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন, অনুমোদনপত্র, নির্মাণের প্রকৃত সময়কাল ও কারিগরি প্রতিবেদন পর্যালোচনা জরুরি।

কউকের নোটিশ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

কউকের পক্ষ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে ইনানীর রয়েল টিউলিপের পাশের বহুতল ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আপত্তি তোলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভবনটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের আগে শুরু হয়নি, যা সরেজমিন তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে বিএনবিসি ২০২০-এর বিধান অনুযায়ী কউকের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়া ১২ আগস্ট কউকের সদস্য (প্রকৌশল)-এর নেতৃত্বে একটি পরিদর্শক দল ভবনটি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে ভবনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান কাঠামোগত ত্রুটি ও অসংগতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না কেন, সে বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কারিগরি ব্যাখ্যা, কাঠামোগত বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মালিকের দাবি, কউকের কাছে অভিযোগের শুনানি প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই ২৬ অক্টোবর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ২৮ অক্টোবর শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তার পূর্বেই এ ধরনের অপসারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যা আইনসম্মত নয় বলে তারা মনে করছেন। পরে তার নামে পৃথক নামজারি খতিয়ানও সৃজন করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন পর ওই অনুমোদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার উদ্যোগ আইনগতভাবে কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। নিয়মের ব্যত্যয় থাকলে তা সংশোধনের জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিতর্কিত কার্যক্রম ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

এ ঘটনায় কউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ফজলে রব্বানীর বিরুদ্ধে একটি পক্ষের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

শহীদুল হক তার লিখিত জবাবে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবনটি মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্যের পরিপন্থী প্রমাণিত হলে কউকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে প্রস্তুত আছেন।

একই সঙ্গে ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা নিরপেক্ষ কোনো প্রকৌশলী দ্বারা পুনরায় পরীক্ষা করার সুযোগ চেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে এবং এর অনেকগুলোই স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন মেয়াদে অনুমোদন নিয়ে নির্মিত।

বিনিয়োগকারীদের মতে, কোনো ভবনে ঝুঁকি থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা কোনো প্রতিষ্ঠানকে যাচাই ছাড়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা কাম্য নয়।

মেরিন ড্রাইভের মতো পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনার পর পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের সমন্বয়ে এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক উভয় স্তরেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

অস্ট্রেলিয়ার ভিসানীতিতে কড়াকড়ি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের করণীয় কী

ইনানীতে নির্মাণাধীন হোটেলে রহস্যময় ভাঙচুর, কউকের বিরুদ্ধে রিসোর্ট মালিকের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্টের অনুমোদন, নির্মাণবিধি ও কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইনানীতে অবস্থিত বে হিলটন বিচ রিসোর্ট নামক একটি নির্মাণাধীন ভবনে রহস্যময় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রিসোর্টটির মালিক শহীদুল হকের দাবি, তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমতি মেনেই ভবনটি নির্মাণ করছিলেন। মালিকপক্ষের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়টি কোনোভাবেই আমলে না নিয়ে সোমবার সকালে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা হোটেলটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। পুরোনো অনুমোদন বনাম নতুন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। এ ধরনের দুর্ঘটনা হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব, জরুরি নির্গমনপথ এবং অনুমোদনসংক্রান্ত শর্ত কঠোরভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তবে একটি দুর্ঘটনার পর সব স্থাপনার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকির মাত্রা, আইনগত অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পৃথকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। তাদের আশঙ্কা, পর্যটন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নতুন বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

অনুমোদন নিয়েই ভবন নির্মাণের দাবি

বে হিলটন বিচ রিসোর্টের মালিক শহীদুল হক কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে ২৬ অক্টোবর দেওয়া একটি লিখিত জবাবে তার অবস্থানের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্যমতে, সংশ্লিষ্ট জমির মূল মালিক ছিলেন জাকির হোসেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত জমিটির মালিকানা লাভ করেন। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১ নম্বর জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির নকশা অনুমোদন করে এবং একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়। ওই অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করেই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিবন্ধিত ১৫৩২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত ভবন ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি শহীদুল হকের কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসছেন। শহীদুল হক আরও জানান, কউকের নির্দেশে তিনি অনুমোদিত নকশা দাখিল করেছিলেন এবং নকশার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কউক জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের কাছে তথ্য চাইলে পরিষদ ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে নকশার সত্যতা নিশ্চিত করেছিল। এছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনাপত্তি সনদ নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন থাকলেও জাতীয় ভবন নির্মাণবিধি (বিএনবিসি) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কউক প্রশ্ন তুলেছে। তাদের প্রশ্ন, পর্যটন অবকাঠামোর অনিয়ম দূর করার উদ্যোগ পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে নেওয়া হচ্ছে, নাকি এর ফলে বৈধ বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এতে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর নকশা প্রদর্শনের নোটিশ, ১৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কউকের নোটিশে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবরের একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন, অনুমোদনপত্র, নির্মাণের প্রকৃত সময়কাল ও কারিগরি প্রতিবেদন পর্যালোচনা জরুরি।

কউকের নোটিশ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

কউকের পক্ষ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে ইনানীর রয়েল টিউলিপের পাশের বহুতল ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আপত্তি তোলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভবনটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের আগে শুরু হয়নি, যা সরেজমিন তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে বিএনবিসি ২০২০-এর বিধান অনুযায়ী কউকের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়া ১২ আগস্ট কউকের সদস্য (প্রকৌশল)-এর নেতৃত্বে একটি পরিদর্শক দল ভবনটি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে ভবনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান কাঠামোগত ত্রুটি ও অসংগতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না কেন, সে বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কারিগরি ব্যাখ্যা, কাঠামোগত বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মালিকের দাবি, কউকের কাছে অভিযোগের শুনানি প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই ২৬ অক্টোবর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ২৮ অক্টোবর শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তার পূর্বেই এ ধরনের অপসারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যা আইনসম্মত নয় বলে তারা মনে করছেন। পরে তার নামে পৃথক নামজারি খতিয়ানও সৃজন করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন পর ওই অনুমোদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার উদ্যোগ আইনগতভাবে কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। নিয়মের ব্যত্যয় থাকলে তা সংশোধনের জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিতর্কিত কার্যক্রম ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন

এ ঘটনায় কউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ফজলে রব্বানীর বিরুদ্ধে একটি পক্ষের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

শহীদুল হক তার লিখিত জবাবে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবনটি মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্যের পরিপন্থী প্রমাণিত হলে কউকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে প্রস্তুত আছেন।

একই সঙ্গে ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা নিরপেক্ষ কোনো প্রকৌশলী দ্বারা পুনরায় পরীক্ষা করার সুযোগ চেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে এবং এর অনেকগুলোই স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন মেয়াদে অনুমোদন নিয়ে নির্মিত।

বিনিয়োগকারীদের মতে, কোনো ভবনে ঝুঁকি থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা কোনো প্রতিষ্ঠানকে যাচাই ছাড়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা কাম্য নয়।

মেরিন ড্রাইভের মতো পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনার পর পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব মহলের সমন্বয়ে এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক উভয় স্তরেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।