প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী আজ রোববার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরলোকগমন করেছেন। ৮৭ বছর বয়সী এই বরেণ্য শিল্পীর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি বিগত ১৪ মাস ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৬ অক্টোবর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপূজার থিমের নকশা করেছিলেন তিনি। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন ফরিদপুরের জমিদার। সেখান থেকেই ছবি আঁকায় আগ্রহ এই শিল্পীর।
১৯৩৯ সালে বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার দহরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যোগেন চৌধুরী। দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার কলকাতায় পাড়ি জমায়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের আলপনা আঁকার উৎসাহ থেকে শিল্পের প্রতি তাঁর অনুরাগের সূচনা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট থেকে শিল্পশিক্ষা শেষ করার পর তিনি হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে এবং পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য প্যারিসে পাড়ি জমান। দেশে ফিরে তিনি শান্তিনিকেতন কলা ভবনের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিদেশি বন্ধুদের কণ্ঠে, গানে, কবিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
যোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের মূল ভিত্তি ছিল দেশভাগের যন্ত্রণা ও উদ্বাস্তু জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ক্ষত। রাজনীতি ও সমাজের নানা অসঙ্গতিকে তিনি তাঁর তুলিতে ব্যঙ্গাত্মক রূপ দিয়েছেন। তাঁর কাজে ভারতীয় ও ইউরোপীয় শিল্প আন্দোলনের এক অনন্য সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস তিনি ও তাঁর মতো আরও অনেক কবি, লেখক ও শিল্পী বাংলাদেশের সপক্ষে বহুমুখী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। দেশভাগ যোগেন চৌধুরীকে উদ্বাস্তু করেছিল।
শিল্পচর্চার পাশাপাশি তিনি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও দেশের বাইরে বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















