ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ

শতবর্ষ পেরোনো অক্টোবর বিপ্লব যে কারণে বদলে দিয়েছিল বিশ্বরাজনীতি

বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের ধারা পাল্টে দেওয়া যুগান্তকারী ঘটনার মধ্যে ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব অন্যতম। তীব্র খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, তীব্র বৈষম্য ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় রোমানভ রাজবংশের পতনের পর ওই বছরের ২৫ অক্টোবর ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে। মার্কিন সাংবাদিক জন রিড তাঁর বিখ্যাত ‘টেন ডেজ দ্যাট শুক দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্রন্থে যে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের বিবরণ তুলে ধরেছিলেন, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ১০৯ বছর আগে, ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিপর্যয়, তীব্র খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত রাশিয়ায় ঘটে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। রাশিয়ার তৎকালীন রাজধানী পেত্রোগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়, যার প্রভাব পরবর্তী কয়েক দশক ধরে পুরো বিশ্বের রাজনীতিতে অনুভূত হয়েছে। তবে যে বিপ্লব শতবর্ষ আগে বিশ্বব্যবস্থার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, কয়েক মাস আগে রাশিয়ার শতবর্ষী রাজতন্ত্র ভেঙে না পড়লে তার বাস্তবায়ন হয়তো কখনোই সম্ভব হতো না। তবে এই জমকালো উদ্‌যাপনের আড়ালেই সুপ্ত ছিল গভীর সামাজিক অসন্তোষ। ওই বছরের জানুয়ারিতে পেত্রোগ্রাদে শ্রমিকদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরকারি বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ‘রক্তাক্ত রোববার’ নামে পরিচিতি পায়।

জারশাসিত রাশিয়া ও রাজতন্ত্রের সংকট

বিংশ শতাব্দীর প্রাক্কালে রাশিয়া ছিল বিশ্বের অন্যতম বিশাল ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য। ১৯১৩ সালে রোমানভ রাজবংশ তাদের শাসনের তিন শতাব্দী অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে উদ্‌যাপন করে। তবে জার দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনামলে সীমাহীন ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কেবল রাজপরিবার ও মুষ্টিমেয় অভিজাতদের হাতে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৮৬১ সালে সাম্রাজ্যে দাসপ্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হলেও গ্রামীণ জনপদে চরম ভূমিসংকট ও তীব্র দারিদ্র্য রয়েই যায়। এর ফলে রাজনৈতিক রূপান্তরের দাবি ক্রমেই তীব্র হতে থাকে, যা ১৯০৫ সালের বিপ্লবের সময়ই জোরালো রূপ লাভ করেছিল। ১৯১৩ সালে পরম প্রতাপের সঙ্গে রাজবংশের শাসনামলের ৩০০ বছর উদ্‌যাপন করে রোমানভ রাজবংশ, যা ‘রোমানভ টারসেন্টেনারি’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে দ্রুত শিল্পায়নের ফলে নগরগুলোতে কারখানাশ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের জীবনযাত্রার মান ছিল চরম শোচনীয়।

জার দ্বিতীয় নিকোলাসের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নীতি তাঁর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। সতেরো শতকের ঐতিহ্যবাহী ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার অংশ হিসেবে ১৯০৭ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে নির্মিত হয় ‘চার্চ অন স্পিল্ড ব্লাড’। তা ছাড়া রানি আলেকজান্দ্রা জন্মসূত্রে জার্মান রাজকন্যা হওয়ায় রুশ-জার্মান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে সাধারণ মানুষের মনে রাজপরিবারের আনুগত্য নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়। অন্যদিকে রাজপ্রাসাদে রাসপুটিনের রহস্যময় ও প্রবল প্রভাবের গুজবে পুরো দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়, যা রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রভাবশালী একদল অভিজাত ব্যক্তি রাসপুটিনকে হত্যা করলেও রাজতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সে সময় জারের সর্বময় ক্ষমতার ধারণা বা স্বৈরতন্ত্র আপাতদৃষ্টিতে নিশ্চিন্ত ও দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে হয়েছিল। তাঁদের একমাত্র ছেলে হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত হলে রাজদরবারে প্রবেশ ঘটে অদ্ভুত রহস্যময় সাধু রাসপুটিনের। পরবর্তী সময়ে ১৯১৮ সালের জুলাই মাসে নোংরা এক সেলারের ভেতরে ক্ষমতাচ্যুত জার ও তাঁর পুরো পরিবারকে বলশেভিকরা হত্যা করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ফেব্রুয়ারি বিপ্লব

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো এক অভাবনীয় বিস্ফোরণের দিকে মোড় নেয়। যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ে। দেশজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট, নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং লাখ লাখ সেনার মৃত্যুর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে। ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেত্রোগ্রাদ শহরে রুটির সংকটকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। নারী শ্রমিকদের সেই আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যেই সাধারণ শ্রমিক ও বিক্ষুব্ধ সেনাদের আন্দোলনে রূপ নেয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নামমাত্র মজুরি ও অনিরাপদ পরিবেশ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক নারী দিবস) নারী শ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুতই সাধারণ শ্রমিক ও নাগরিকদের এক বিশাল গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সরকার বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিলেও সেনারা আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান। একই সময়ে কারখানা ও সেনাবাহিনীর ভেতরে গড়ে ওঠে শ্রমিক ও সৈন্যদের নিজস্ব কাউন্সিল বা ‘সোভিয়েত’। এই তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি এবং ‘সব ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে দিন’—এই স্লোগান খুব দ্রুতই ক্লান্ত সৈন্য, বঞ্চিত কৃষক ও বিক্ষুব্ধ কারখানাশ্রমিকদের বলশেভিক পতাকাতলে একত্র করে।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে জার দ্বিতীয় নিকোলাস বাধ্য হয়ে সিংহাসন ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমেই রুশ ভূখণ্ডে অবসান ঘটে প্রায় তিন শতাব্দীর রোমানভ রাজবংশের শাসন। জারতন্ত্রের পতনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলেও তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসা, ভূমি পুনর্বণ্টন কিংবা খাদ্যসংকট সমাধানের মতো মৌলিক দাবিগুলো পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এই গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে পেত্রোগ্রাদে হাজির হন বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে জার্মান সামরিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তিনি রাশিয়ায় ফিরে বলশেভিকদের জন্য ‘শান্তি, জমি ও রুটি’ শীর্ষক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুনির্দিষ্ট তিন দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। ১৯১৫ সালে জার দ্বিতীয় নিকোলাস নিজেই সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব নিলে যুদ্ধের সব ব্যর্থতার দায় সরাসরি তাঁর ওপর এসে পড়ে। সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ নির্বাসনে থাকার পর ১৯১৭ সালের এপ্রিলে জার্মান সামরিক কর্তৃপক্ষের বিশেষ সহায়তায় ট্রেনে চড়ে রাশিয়ায় ফেরেন এই মার্ক্সবাদী বিপ্লবী।

বিশ্ব কাঁপানো দিন ও ক্ষমতা দখল

১৯১৭ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে লেনিন আত্মগোপনে থেকেই বলশেভিকদের সশস্ত্র অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ১০ অক্টোবর বলশেভিক পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পক্ষে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বলশেভিক অনুগত রেড গার্ড মিলিশিয়া ও বিপ্লবী নাবিকেরা পেত্রোগ্রাদের মূল যোগাযোগব্যবস্থা, নেভা নদীর গুরুত্বপূর্ণ সেতু, প্রধান টেলিগ্রাফ অফিস এবং ডাকঘরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয়।

২৪ অক্টোবর রাত থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সমগ্র পেত্রোগ্রাদ শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বলশেভিকদের হাতে। সাবেক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্মোলনি ইনস্টিটিউট’ তখন বিপ্লবের প্রধান সদর দপ্তরে রূপান্তরিত হয়। সেখানে অবস্থানরত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ২৬ অক্টোবর ভোরের মধ্যে শীতপ্রাসাদ দখল করে সরকারের মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সর্বরাশিয়া সোভিয়েত কংগ্রেসে লেনিন আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন এবং শান্তি ও ভূমি সংক্রান্ত দুটি ঐতিহাসিক ডিক্রি জারি করেন। ২৭ অক্টোবর লেনিনকে প্রধান করে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং ৩০ অক্টোবর ডন কস্যাক বাহিনীকে পরাজিত করে রেড গার্ডরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। লেনিন বুঝতে পেরেছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের এখনই উপযুক্ত সময়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আলেকসান্দার কেরেনস্কি হুমকি অনুধাবন করতে দেরি করে ফেলেন এবং সেতু তুলে দিয়ে অভ্যুত্থান ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বলশেভিক অনুগত যুদ্ধজাহাজ ‘অরোরা’ থেকে ফাঁকা গোলাবর্ষণ করে ঐতিহাসিক ‘উইন্টার প্যালেস’ (শীতপ্রাসাদ) আক্রমণের সংকেত দেওয়া হয়।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ও গৃহযুদ্ধের সূচনা

ক্ষমতা দখলের পর নতুন বলশেভিক প্রশাসনকে প্রশাসনিক অনভিজ্ঞতা, সিভিল সার্ভিসের অসহযোগিতা এবং বুর্জোয়াদের নানা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

লেনিন অত্যন্ত কঠোর হাতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।

তবে প্রকৃত রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয় ১৯১৭ সালের ১২ নভেম্বরের গণপরিষদ নির্বাচনে।

সেই নির্বাচনে সোশ্যালিস্ট-রেভোলিউশনারি পার্টি বড় ধরনের জয় লাভ করে। ১৯১৮ সালের ৫ জানুয়ারি নবনির্বাচিত এই পরিষদ বলশেভিকদের ডিক্রিগুলো অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানালে, লেনিন সশস্ত্র বাহিনী পাঠিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেই পরিষদ ভেঙে দেন। গণতান্ত্রিক সংসদ ভেঙে দেওয়ার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বলশেভিকবিরোধী শক্তিগুলো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং এর ফলে ১৯১৮ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এক রক্তক্ষয়ী রুশ গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার

গৃহযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ ও ট্রান্সককেশীয় অঞ্চল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ইউএসএসআর। পরবর্তী কয়েক দশকে এই রাষ্ট্রটি দ্রুত শিল্পায়ন, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর ইতি ঘটলেও ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ও চর্চিত অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র ও ঐতিহাসিক দলিলপত্র

  • লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, যুক্তরাষ্ট্র: রুশ বিপ্লব, দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনকাল ও গৃহযুদ্ধবিষয়ক ঐতিহাসিক দলিল ও উপকরণ।
  • ইউনাইটেড স্টেটস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম: রুশ বিপ্লব ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত নিবন্ধ।
  • এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা: রুশ বিপ্লব, বলশেভিক দল, লেনিন ও অক্টোবর বিপ্লবের সার্বিক সময়রেখা ও ইতিহাস।
  • টাইম সাময়িকী: ড্যানি বার্ডের নিবন্ধ।
  • দ্য কালেক্টর: রবিন গিলহামের নিবন্ধ।
  • জন রিডের বই: ‘টেন ডেজ দ্যাট শুক দ্য ওয়ার্ল্ড’ (১৯১৯)।
আপলোডকারীর তথ্য

পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি: এনসিটিবি কর্মকর্তা খাগড়াছড়িতে বদলি

শতবর্ষ পেরোনো অক্টোবর বিপ্লব যে কারণে বদলে দিয়েছিল বিশ্বরাজনীতি

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের ধারা পাল্টে দেওয়া যুগান্তকারী ঘটনার মধ্যে ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব অন্যতম। তীব্র খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, তীব্র বৈষম্য ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় রোমানভ রাজবংশের পতনের পর ওই বছরের ২৫ অক্টোবর ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে। মার্কিন সাংবাদিক জন রিড তাঁর বিখ্যাত ‘টেন ডেজ দ্যাট শুক দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্রন্থে যে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের বিবরণ তুলে ধরেছিলেন, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ১০৯ বছর আগে, ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিপর্যয়, তীব্র খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত রাশিয়ায় ঘটে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। রাশিয়ার তৎকালীন রাজধানী পেত্রোগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়, যার প্রভাব পরবর্তী কয়েক দশক ধরে পুরো বিশ্বের রাজনীতিতে অনুভূত হয়েছে। তবে যে বিপ্লব শতবর্ষ আগে বিশ্বব্যবস্থার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, কয়েক মাস আগে রাশিয়ার শতবর্ষী রাজতন্ত্র ভেঙে না পড়লে তার বাস্তবায়ন হয়তো কখনোই সম্ভব হতো না। তবে এই জমকালো উদ্‌যাপনের আড়ালেই সুপ্ত ছিল গভীর সামাজিক অসন্তোষ। ওই বছরের জানুয়ারিতে পেত্রোগ্রাদে শ্রমিকদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরকারি বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ‘রক্তাক্ত রোববার’ নামে পরিচিতি পায়।

জারশাসিত রাশিয়া ও রাজতন্ত্রের সংকট

বিংশ শতাব্দীর প্রাক্কালে রাশিয়া ছিল বিশ্বের অন্যতম বিশাল ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য। ১৯১৩ সালে রোমানভ রাজবংশ তাদের শাসনের তিন শতাব্দী অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে উদ্‌যাপন করে। তবে জার দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনামলে সীমাহীন ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কেবল রাজপরিবার ও মুষ্টিমেয় অভিজাতদের হাতে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৮৬১ সালে সাম্রাজ্যে দাসপ্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হলেও গ্রামীণ জনপদে চরম ভূমিসংকট ও তীব্র দারিদ্র্য রয়েই যায়। এর ফলে রাজনৈতিক রূপান্তরের দাবি ক্রমেই তীব্র হতে থাকে, যা ১৯০৫ সালের বিপ্লবের সময়ই জোরালো রূপ লাভ করেছিল। ১৯১৩ সালে পরম প্রতাপের সঙ্গে রাজবংশের শাসনামলের ৩০০ বছর উদ্‌যাপন করে রোমানভ রাজবংশ, যা ‘রোমানভ টারসেন্টেনারি’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে দ্রুত শিল্পায়নের ফলে নগরগুলোতে কারখানাশ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের জীবনযাত্রার মান ছিল চরম শোচনীয়।

জার দ্বিতীয় নিকোলাসের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নীতি তাঁর পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। সতেরো শতকের ঐতিহ্যবাহী ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার অংশ হিসেবে ১৯০৭ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে নির্মিত হয় ‘চার্চ অন স্পিল্ড ব্লাড’। তা ছাড়া রানি আলেকজান্দ্রা জন্মসূত্রে জার্মান রাজকন্যা হওয়ায় রুশ-জার্মান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে সাধারণ মানুষের মনে রাজপরিবারের আনুগত্য নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়। অন্যদিকে রাজপ্রাসাদে রাসপুটিনের রহস্যময় ও প্রবল প্রভাবের গুজবে পুরো দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়, যা রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রভাবশালী একদল অভিজাত ব্যক্তি রাসপুটিনকে হত্যা করলেও রাজতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সে সময় জারের সর্বময় ক্ষমতার ধারণা বা স্বৈরতন্ত্র আপাতদৃষ্টিতে নিশ্চিন্ত ও দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে হয়েছিল। তাঁদের একমাত্র ছেলে হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত হলে রাজদরবারে প্রবেশ ঘটে অদ্ভুত রহস্যময় সাধু রাসপুটিনের। পরবর্তী সময়ে ১৯১৮ সালের জুলাই মাসে নোংরা এক সেলারের ভেতরে ক্ষমতাচ্যুত জার ও তাঁর পুরো পরিবারকে বলশেভিকরা হত্যা করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ফেব্রুয়ারি বিপ্লব

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো এক অভাবনীয় বিস্ফোরণের দিকে মোড় নেয়। যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ে। দেশজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট, নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং লাখ লাখ সেনার মৃত্যুর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে। ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেত্রোগ্রাদ শহরে রুটির সংকটকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। নারী শ্রমিকদের সেই আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যেই সাধারণ শ্রমিক ও বিক্ষুব্ধ সেনাদের আন্দোলনে রূপ নেয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নামমাত্র মজুরি ও অনিরাপদ পরিবেশ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক নারী দিবস) নারী শ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুতই সাধারণ শ্রমিক ও নাগরিকদের এক বিশাল গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সরকার বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিলেও সেনারা আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান। একই সময়ে কারখানা ও সেনাবাহিনীর ভেতরে গড়ে ওঠে শ্রমিক ও সৈন্যদের নিজস্ব কাউন্সিল বা ‘সোভিয়েত’। এই তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি এবং ‘সব ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে দিন’—এই স্লোগান খুব দ্রুতই ক্লান্ত সৈন্য, বঞ্চিত কৃষক ও বিক্ষুব্ধ কারখানাশ্রমিকদের বলশেভিক পতাকাতলে একত্র করে।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে জার দ্বিতীয় নিকোলাস বাধ্য হয়ে সিংহাসন ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমেই রুশ ভূখণ্ডে অবসান ঘটে প্রায় তিন শতাব্দীর রোমানভ রাজবংশের শাসন। জারতন্ত্রের পতনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলেও তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসা, ভূমি পুনর্বণ্টন কিংবা খাদ্যসংকট সমাধানের মতো মৌলিক দাবিগুলো পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এই গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে পেত্রোগ্রাদে হাজির হন বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে জার্মান সামরিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তিনি রাশিয়ায় ফিরে বলশেভিকদের জন্য ‘শান্তি, জমি ও রুটি’ শীর্ষক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুনির্দিষ্ট তিন দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। ১৯১৫ সালে জার দ্বিতীয় নিকোলাস নিজেই সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব নিলে যুদ্ধের সব ব্যর্থতার দায় সরাসরি তাঁর ওপর এসে পড়ে। সুইজারল্যান্ডে দীর্ঘ নির্বাসনে থাকার পর ১৯১৭ সালের এপ্রিলে জার্মান সামরিক কর্তৃপক্ষের বিশেষ সহায়তায় ট্রেনে চড়ে রাশিয়ায় ফেরেন এই মার্ক্সবাদী বিপ্লবী।

বিশ্ব কাঁপানো দিন ও ক্ষমতা দখল

১৯১৭ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে লেনিন আত্মগোপনে থেকেই বলশেভিকদের সশস্ত্র অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ১০ অক্টোবর বলশেভিক পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পক্ষে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বলশেভিক অনুগত রেড গার্ড মিলিশিয়া ও বিপ্লবী নাবিকেরা পেত্রোগ্রাদের মূল যোগাযোগব্যবস্থা, নেভা নদীর গুরুত্বপূর্ণ সেতু, প্রধান টেলিগ্রাফ অফিস এবং ডাকঘরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয়।

২৪ অক্টোবর রাত থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সমগ্র পেত্রোগ্রাদ শহরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বলশেভিকদের হাতে। সাবেক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্মোলনি ইনস্টিটিউট’ তখন বিপ্লবের প্রধান সদর দপ্তরে রূপান্তরিত হয়। সেখানে অবস্থানরত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ২৬ অক্টোবর ভোরের মধ্যে শীতপ্রাসাদ দখল করে সরকারের মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সর্বরাশিয়া সোভিয়েত কংগ্রেসে লেনিন আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন এবং শান্তি ও ভূমি সংক্রান্ত দুটি ঐতিহাসিক ডিক্রি জারি করেন। ২৭ অক্টোবর লেনিনকে প্রধান করে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং ৩০ অক্টোবর ডন কস্যাক বাহিনীকে পরাজিত করে রেড গার্ডরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। লেনিন বুঝতে পেরেছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের এখনই উপযুক্ত সময়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আলেকসান্দার কেরেনস্কি হুমকি অনুধাবন করতে দেরি করে ফেলেন এবং সেতু তুলে দিয়ে অভ্যুত্থান ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বলশেভিক অনুগত যুদ্ধজাহাজ ‘অরোরা’ থেকে ফাঁকা গোলাবর্ষণ করে ঐতিহাসিক ‘উইন্টার প্যালেস’ (শীতপ্রাসাদ) আক্রমণের সংকেত দেওয়া হয়।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ও গৃহযুদ্ধের সূচনা

ক্ষমতা দখলের পর নতুন বলশেভিক প্রশাসনকে প্রশাসনিক অনভিজ্ঞতা, সিভিল সার্ভিসের অসহযোগিতা এবং বুর্জোয়াদের নানা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

লেনিন অত্যন্ত কঠোর হাতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।

তবে প্রকৃত রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয় ১৯১৭ সালের ১২ নভেম্বরের গণপরিষদ নির্বাচনে।

সেই নির্বাচনে সোশ্যালিস্ট-রেভোলিউশনারি পার্টি বড় ধরনের জয় লাভ করে। ১৯১৮ সালের ৫ জানুয়ারি নবনির্বাচিত এই পরিষদ বলশেভিকদের ডিক্রিগুলো অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানালে, লেনিন সশস্ত্র বাহিনী পাঠিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেই পরিষদ ভেঙে দেন। গণতান্ত্রিক সংসদ ভেঙে দেওয়ার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বলশেভিকবিরোধী শক্তিগুলো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং এর ফলে ১৯১৮ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এক রক্তক্ষয়ী রুশ গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার

গৃহযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ ও ট্রান্সককেশীয় অঞ্চল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ইউএসএসআর। পরবর্তী কয়েক দশকে এই রাষ্ট্রটি দ্রুত শিল্পায়ন, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর ইতি ঘটলেও ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ও চর্চিত অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র ও ঐতিহাসিক দলিলপত্র

  • লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, যুক্তরাষ্ট্র: রুশ বিপ্লব, দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনকাল ও গৃহযুদ্ধবিষয়ক ঐতিহাসিক দলিল ও উপকরণ।
  • ইউনাইটেড স্টেটস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম: রুশ বিপ্লব ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত নিবন্ধ।
  • এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা: রুশ বিপ্লব, বলশেভিক দল, লেনিন ও অক্টোবর বিপ্লবের সার্বিক সময়রেখা ও ইতিহাস।
  • টাইম সাময়িকী: ড্যানি বার্ডের নিবন্ধ।
  • দ্য কালেক্টর: রবিন গিলহামের নিবন্ধ।
  • জন রিডের বই: ‘টেন ডেজ দ্যাট শুক দ্য ওয়ার্ল্ড’ (১৯১৯)।