ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক

নতুন রুটে ফ্লাইট চালুর ভাবনায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস

শ্রীলঙ্কার পর্যটন শিল্পের বিকাশে এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, চীন এবং আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিপুল মিশ্রা সাম্প্রতিক এক আলোচনায় এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কলম্বোকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্রে পরিণত করতে এবং পর্যটক আকর্ষণ বাড়াতে সরাসরি ফ্লাইটের কোনো বিকল্প নেই।

শ্রীলঙ্কার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে আয়োজিত সাম্প্রতিক একটি প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সরাসরি বিমান যোগাযোগের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে। ভিপুল মিশ্রা জানান, যাত্রী ও পর্যটকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে পার্থ রুটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চীনের সাথে বিমান যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করাও সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। চীনের বাজার শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

আফ্রিকার যেসব গন্তব্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে, সেসব রুট পুনরায় চালু করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভিপুল মিশ্রার মতে, আফ্রিকার রুটগুলোতে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলে শ্রীলঙ্কার আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তবে এই বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে উড়োজাহাজের সংকট। তিনি জানান, নতুন এই রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, বিশেষ করে আফ্রিকার গন্তব্যগুলোর জন্য নতুন করে উড়োজাহাজ আনার বিষয়টি ভাবতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা হিসেবে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের বিশেষ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন ভিপুল মিশ্রা। তিনি বলেন, সংস্থাটি কেবল লাভজনক রুট পরিচালনার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না। যেসব নতুন রুটে শুরুতে বাণিজ্যিক ঝুঁকি বেশি থাকে এবং যাত্রীসংখ্যা কম হওয়ার কারণে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো আগ্রহী হয় না, সেসব রুটে বিনিয়োগ করাটা তাদের দায়িত্ব। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালন ব্যয় অনেক সময় সংস্থাকেই বহন করতে হয়, কিন্তু রুটটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এবং চাহিদা তৈরি হলে তখন অন্যরাও সেখানে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

বর্তমানে নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চললেও, ফ্লাইট পরিচালনার চূড়ান্ত সময়সূচি বা উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের এমন উদ্যোগ দেশটির পর্যটন খাত ও ট্রানজিট সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে ফ্লাইট বাতিলে আটকে পড়েছেন চার হাজার ভারতীয় ওমরাহ

নতুন রুটে ফ্লাইট চালুর ভাবনায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস

আপডেট সময় ০৪:৪১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীলঙ্কার পর্যটন শিল্পের বিকাশে এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, চীন এবং আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভিপুল মিশ্রা সাম্প্রতিক এক আলোচনায় এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কলম্বোকে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্রে পরিণত করতে এবং পর্যটক আকর্ষণ বাড়াতে সরাসরি ফ্লাইটের কোনো বিকল্প নেই।

শ্রীলঙ্কার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে আয়োজিত সাম্প্রতিক একটি প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সরাসরি বিমান যোগাযোগের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি সামনে এসেছে। ভিপুল মিশ্রা জানান, যাত্রী ও পর্যটকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে পার্থ রুটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চীনের সাথে বিমান যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করাও সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। চীনের বাজার শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

আফ্রিকার যেসব গন্তব্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে, সেসব রুট পুনরায় চালু করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভিপুল মিশ্রার মতে, আফ্রিকার রুটগুলোতে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলে শ্রীলঙ্কার আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তবে এই বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে উড়োজাহাজের সংকট। তিনি জানান, নতুন এই রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, বিশেষ করে আফ্রিকার গন্তব্যগুলোর জন্য নতুন করে উড়োজাহাজ আনার বিষয়টি ভাবতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা হিসেবে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের বিশেষ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন ভিপুল মিশ্রা। তিনি বলেন, সংস্থাটি কেবল লাভজনক রুট পরিচালনার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না। যেসব নতুন রুটে শুরুতে বাণিজ্যিক ঝুঁকি বেশি থাকে এবং যাত্রীসংখ্যা কম হওয়ার কারণে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো আগ্রহী হয় না, সেসব রুটে বিনিয়োগ করাটা তাদের দায়িত্ব। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালন ব্যয় অনেক সময় সংস্থাকেই বহন করতে হয়, কিন্তু রুটটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে এবং চাহিদা তৈরি হলে তখন অন্যরাও সেখানে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

বর্তমানে নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চললেও, ফ্লাইট পরিচালনার চূড়ান্ত সময়সূচি বা উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের এমন উদ্যোগ দেশটির পর্যটন খাত ও ট্রানজিট সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।