ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হরমুজ প্রণালিতে ইরান সংশ্লিষ্ট ৭ জাহাজে আগুন, তীব্র উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিতে এক রাতের ব্যবধানে সাতটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে। গত বৃহস্পতিবার ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি নৌ-মাইনের বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অবশিষ্ট চারটি জাহাজে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, শিগগিরই আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

তেহরানের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা এই সাতটি জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং ওয়াশিংটনের সহায়তায় ও উৎসাহে সেখানে চলাচল করছিল। সম্প্রতি আইআরজিসি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজস্ব নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ওই নীতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইরানের ওপর যে কোনো ধরনের সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করাকে তারা যুদ্ধের শামিল বলে গণ্য করবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সরাসরি হামলার অপেক্ষায় না থেকে ইরান এখন পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অবস্থানে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। ইরানে একা ইসরায়েল আসলে কী করতে পারবে, তেহরানের সক্ষমতা কোথায়।

আইআরজিসি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন এসব জাহাজের চলাচলে পরোক্ষ সমর্থন ও সহায়তা জুগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও নতুন করে সংঘাত শুরুর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরান বর্তমানে যে কোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং তারা সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

এখন দেখার বিষয় হলো, আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার পথে আরও কোনো জাহাজ ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির মুখোমুখি হয় কি না। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার সাম্প্রতিক ধারারই অংশ।

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ প্রণালিতে ইরান সংশ্লিষ্ট ৭ জাহাজে আগুন, তীব্র উত্তেজনা

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে এক রাতের ব্যবধানে সাতটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে। গত বৃহস্পতিবার ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি নৌ-মাইনের বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অবশিষ্ট চারটি জাহাজে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, শিগগিরই আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

তেহরানের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা এই সাতটি জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং ওয়াশিংটনের সহায়তায় ও উৎসাহে সেখানে চলাচল করছিল। সম্প্রতি আইআরজিসি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজস্ব নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ওই নীতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইরানের ওপর যে কোনো ধরনের সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করাকে তারা যুদ্ধের শামিল বলে গণ্য করবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সরাসরি হামলার অপেক্ষায় না থেকে ইরান এখন পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অবস্থানে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। ইরানে একা ইসরায়েল আসলে কী করতে পারবে, তেহরানের সক্ষমতা কোথায়।

আইআরজিসি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন এসব জাহাজের চলাচলে পরোক্ষ সমর্থন ও সহায়তা জুগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও নতুন করে সংঘাত শুরুর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরান বর্তমানে যে কোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং তারা সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

এখন দেখার বিষয় হলো, আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার পথে আরও কোনো জাহাজ ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির মুখোমুখি হয় কি না। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার সাম্প্রতিক ধারারই অংশ।