ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোটের মূল রূপরেখা প্রকাশ করেছে আঙ্কারা। গত আগস্টে তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল পাঠ মঙ্গলবার তুর্কি পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছে। আঙ্কারা থেকে তুর্কি সরকার এই প্রস্তাব পেশ করার পর লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

১৬টি অনুচ্ছেদ সংবলিত এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। চুক্তিটি বাস্তবায়নের অন্তত ১০ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে কোনো সদস্য দেশ এটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারবে না। কোনো পক্ষ বেরিয়ে যেতে চাইলে তিন মাস আগে লিখিত নোটিশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এর জন্য অন্য দেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

চুক্তির ১ ও ২ নম্বর অনুচ্ছেদে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, কী পরিমাণ ও কেমন সাহায্য প্রয়োজন—তা একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। কেবল যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো) এবং যাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, তারাই এসব গোপন তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন। এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

সেখানে বলা হয়, কোনো একটি দেশের ওপর বাইরের কোনো রাষ্ট্র বা জোট সশস্ত্র সামরিক হামলা চালালে তা সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা অনেকটা ন্যাটো জোটের অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করতে অন্যান্য পক্ষগুলো যৌথভাবে তাদের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।

আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথ সহায়তার পরিধি ও ধরন নির্ধারণে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হবে।

চুক্তিতে কোনো বিশেষ দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, সীমানার অখণ্ডতা রক্ষা এবং যৌথ নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে সামরিক সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তি সুরক্ষায় এবং সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংস্থাগুলোর পারস্পরিক অবস্থান সমন্বয় করা হবে। একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা রক্ষার নীতিগুলোর গুরুত্ব আবারও নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, কোনো পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে। এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারেন।

সামরিক ক্ষেত্রে যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শান্তি ও যুদ্ধ—উভয় সময়েই তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ, সামরিক কর্মকর্তা বিনিময় এবং সরঞ্জাম, জ্বালানি ও যুদ্ধসামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত বিকাশে জোর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সাহায্য করা হবে।

  • প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান।
  • বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা।
  • সামরিক শিল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তার জন্য একে অপরের দেশে বিশেষজ্ঞ পাঠানো।
  • গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়।
  • পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা।

চুক্তির নীতিমালার অধীনে একটি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে

  1. সামরিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠিত হবে।
  2. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রধান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই কমিটি সাব-কমিটি গঠন করার ক্ষমতা রাখবে।
  3. চুক্তি বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক সমঝোতা বা প্রোটোকল স্বাক্ষর করতে পারবে।
  4. নতুন কোনো দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার নীতি ও শর্তাবলি সর্বসম্মতভাবে নির্ধারণ করবে এই কমিটি।
  5. সমন্বয় ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সৌদি আরবে স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হবে, যার পরিচালন কাঠামো পরে নির্ধারণ করা হবে।
  6. সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে ৩ বছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন নাগরিক।
  7. এই কমিটি গঠিত হলেও সদস্য দেশগুলোর বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক চুক্তির কার্যকারিতা অব্যাহত থাকবে।

গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে

  1. চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত তথ্যের গোপনীয়তা জাতীয় আইন অনুযায়ী রক্ষা করতে হবে।
  2. কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র, ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকা এবং কাজের প্রয়োজনে জানতে চাওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ এসব তথ্য সংগ্রহ বা দেখার সুযোগ পাবেন না।

চুক্তির স্থায়িত্ব, সংশোধন ও কার্যকরের ক্ষেত্রে অনুসৃত নিয়মাবলী হলো

  1. নিজ নিজ দেশের আইনি ও সাংবিধানিক অনুমোদন শেষে সচিবালয়ে অনুসংক্রান্ত দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে এটি কার্যকর হবে।
  2. চুক্তিটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে বহাল থাকবে।
  3. কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর ৩ মাসের কূটনৈতিক নোটিশে কোনো দেশ এতে থেকে ইস্তফা দিতে পারবে।
  4. চুক্তি বাতিল বা কোনো দেশের প্রস্থান হলেও চলমান সামরিক প্রকল্প বা উদ্যোগসমূহ ব্যাহত হবে না।
  5. মেয়াদ শেষ হলেও অর্জিত তথ্য ও গোয়েন্দা নথির গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা সব দেশের ওপর বজায় থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • চুক্তির সমাপ্তি বা কোনো দেশের বের হয়ে যাওয়া—পূর্বে গৃহীত ও চলমান কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।
আপলোডকারীর তথ্য

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় বাংলাদেশের

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক

আপডেট সময় ০১:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোটের মূল রূপরেখা প্রকাশ করেছে আঙ্কারা। গত আগস্টে তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল পাঠ মঙ্গলবার তুর্কি পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছে। আঙ্কারা থেকে তুর্কি সরকার এই প্রস্তাব পেশ করার পর লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

১৬টি অনুচ্ছেদ সংবলিত এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা সমাপ্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। চুক্তিটি বাস্তবায়নের অন্তত ১০ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে কোনো সদস্য দেশ এটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারবে না। কোনো পক্ষ বেরিয়ে যেতে চাইলে তিন মাস আগে লিখিত নোটিশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এর জন্য অন্য দেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

চুক্তির ১ ও ২ নম্বর অনুচ্ছেদে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, কী পরিমাণ ও কেমন সাহায্য প্রয়োজন—তা একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। কেবল যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো) এবং যাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, তারাই এসব গোপন তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন। এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

সেখানে বলা হয়, কোনো একটি দেশের ওপর বাইরের কোনো রাষ্ট্র বা জোট সশস্ত্র সামরিক হামলা চালালে তা সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে—যা অনেকটা ন্যাটো জোটের অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করতে অন্যান্য পক্ষগুলো যৌথভাবে তাদের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।

আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথ সহায়তার পরিধি ও ধরন নির্ধারণে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হবে।

চুক্তিতে কোনো বিশেষ দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, সীমানার অখণ্ডতা রক্ষা এবং যৌথ নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে সামরিক সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তি সুরক্ষায় এবং সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংস্থাগুলোর পারস্পরিক অবস্থান সমন্বয় করা হবে। একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা রক্ষার নীতিগুলোর গুরুত্ব আবারও নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, কোনো পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে। এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারেন।

সামরিক ক্ষেত্রে যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শান্তি ও যুদ্ধ—উভয় সময়েই তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ, সামরিক কর্মকর্তা বিনিময় এবং সরঞ্জাম, জ্বালানি ও যুদ্ধসামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত বিকাশে জোর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সাহায্য করা হবে।

  • প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান।
  • বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা।
  • সামরিক শিল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তার জন্য একে অপরের দেশে বিশেষজ্ঞ পাঠানো।
  • গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়।
  • পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা।

চুক্তির নীতিমালার অধীনে একটি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে

  1. সামরিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠিত হবে।
  2. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রধান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই কমিটি সাব-কমিটি গঠন করার ক্ষমতা রাখবে।
  3. চুক্তি বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক সমঝোতা বা প্রোটোকল স্বাক্ষর করতে পারবে।
  4. নতুন কোনো দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার নীতি ও শর্তাবলি সর্বসম্মতভাবে নির্ধারণ করবে এই কমিটি।
  5. সমন্বয় ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সৌদি আরবে স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হবে, যার পরিচালন কাঠামো পরে নির্ধারণ করা হবে।
  6. সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে ৩ বছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন নাগরিক।
  7. এই কমিটি গঠিত হলেও সদস্য দেশগুলোর বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক চুক্তির কার্যকারিতা অব্যাহত থাকবে।

গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে

  1. চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত তথ্যের গোপনীয়তা জাতীয় আইন অনুযায়ী রক্ষা করতে হবে।
  2. কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র, ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকা এবং কাজের প্রয়োজনে জানতে চাওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ এসব তথ্য সংগ্রহ বা দেখার সুযোগ পাবেন না।

চুক্তির স্থায়িত্ব, সংশোধন ও কার্যকরের ক্ষেত্রে অনুসৃত নিয়মাবলী হলো

  1. নিজ নিজ দেশের আইনি ও সাংবিধানিক অনুমোদন শেষে সচিবালয়ে অনুসংক্রান্ত দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে এটি কার্যকর হবে।
  2. চুক্তিটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে বহাল থাকবে।
  3. কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর ৩ মাসের কূটনৈতিক নোটিশে কোনো দেশ এতে থেকে ইস্তফা দিতে পারবে।
  4. চুক্তি বাতিল বা কোনো দেশের প্রস্থান হলেও চলমান সামরিক প্রকল্প বা উদ্যোগসমূহ ব্যাহত হবে না।
  5. মেয়াদ শেষ হলেও অর্জিত তথ্য ও গোয়েন্দা নথির গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা সব দেশের ওপর বজায় থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • চুক্তির সমাপ্তি বা কোনো দেশের বের হয়ে যাওয়া—পূর্বে গৃহীত ও চলমান কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।